বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ০৭:১১ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

শবে কদরের ফজিলত

শবে কদরের ফজিলত। ছবি : ইসলামী ক্যালিওগ্রাফী

।। এবাদত আলী ।।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পেয়ারা হাবিব রাহমাতুল্লিল আলামিন সাইয়েদিল মুরসালিন আখেরি নবী হজরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) চল্লিশ বছর বয়সে ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে পবিত্র সবে কদরের রাতে মক্কার অদুরে নুর পর্বতের হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় তাঁর ওপর সর্বপ্রথম পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফ নাজিল করা হয়।

আল্লাহর ফেরেশতা হজরত জিবরাইল আমিনের মাধ্যমে তাঁর নিকট প্রথম সুরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নাজিল করা হয়।

অনেকের মতে এ রাতে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) এর নিকট সম্পুর্ণ কোরআন শরিফ অবতীর্ণ হয় যা পরবর্তিতে ২৩ বছর ধরে ইসলামের আখেরি নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) এর নিকট তাঁর বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তা এবং ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট আয়াত আকারে নাজিল করা হয়।

মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ এই রাত সম্পর্কে হাদিস শরিফে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। পবিত্র কোরআন শরিফে সুরা ক্বদর নামে স্বতন্ত্র একটি পুর্ণ সুরা নাজিল করে বলা হয়েছে,“ নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি ক্বদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্পর্কে আপনি কি জানেন? ক্বদরের রাত এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

সে রাতে ফেরেশতারা এবং রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

(সুরা আল ক্বদর, আয়াত ১-৫)।” ক্বদরের রাতের যাবতিয় কাজের ইঙ্গিত দিয়ে এ রজনী আসার বৈশিষ্ট সম্পর্কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনের সুরা আদ দোখানের ১-৪ নম্বর আয়াতে বলেন, “ হা-মীম! শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) একে মুবারকময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি শতর্ককারি।

এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপুর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।” ইসলাম ধর্ম মতে শবে ক্বদরের রাতে ফেশেতাগণ ও তাদের নেতা হজরত জিবরাইল (আ.) পৃথিবীতে অবতরণ করে উপাসনারত মানুষের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করতে থাকেন।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, শবে ক্বদরে হজরত জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট এক দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারি-পুরুষ নামাজরত অথবা জিকিরে মশগুল থাকে তাঁদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। (মাযহারি)।

হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ি লাইলাতুল ক্বদরের রজনীতে যে, বা যারা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের আরাধনায় নিমগ্ন থাকবে, স্রষ্ঠা তার ওপর থেকে দোজখের আগুন হারাম করে দিবেন।

এসম্পর্কিত হাদিসটি হলো, সমস্ত রজনী আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল ক্বদর দ্বারাই সৌন্দর্য ও মোহনীয় করে দিয়েছেন, অতএব তোমরা এ বরকতময় রজনীতে বেশি বেশি তসবিহ- তাহলিল ও ইবাদত-বন্দেগিতে রত থাকো।

অন্য হাদিস শরিফে আছে, তোমরা তোমাদের কবরকে আলোকিত পেতে চাইলে মহিমান্বিত লাইলাতুল ক্বদর রাতে জেগে রাতব্যাপি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটিয়ে দাও।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ও সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে ক্বদরের রাতে দন্ডায়মান হয়, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে (সহি বোখারি ও মুসলিম)।

হজরত মোহাম্মদ (সা.) কে উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) শবে ক্বদর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “ হে রাসুলুল্লাহ আমি যদি লাইলাতুল ক্বদর পাইতখন কি করবো। তখন নবী (সা.) মত দেন, তুমি বলবে হে আল্লাহ ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করে দিতে ভালো বাসেন- অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন।” (তিরমিযি)।

মুসলমানদের ধারনায়, লাইলাতুল ক্বদর গোটা মানব জাতির জন্য অত্যন্ত পুণ্যময় রজনী এবং এ রাত বিশ্ববাসির জন্য স্রষ্ঠার অশেষ রহমত, বরকত ক্ষমা লাভের অপার সুযোগ এনে দেয়।

এ রাতে কোরআন শরিফ নাজিল হয় যার অনুপম শিক্ষাই ইসলাম ধর্মের অনুসারিদের সার্বিক কল্যাণ ও উত্তোরোত্তর সমৃদ্ধি, ইহকালিন শান্তি ও পরলৌকিক মুক্তির পথ দেখায়।

পবিত্র হাদিস অনুসারে ২০ রমজানের পর যে কোন বেজোড় রাতে ক্বদর হতে পারে। তবে ২৬ রমজান দিবাগত রাতেই লাইলাতুল ক্বদর আসে বলে আলেমদের অভিমত।

হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে, হজরত মোহাম্মদ (সা.) রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ই’তেকাফ করতেন এবং বলতেন, তোমরা রমজানের শেষ ১০ রাতে শবে ক্বদর সন্ধান করো।(বোখারি ও মুসলিম)।

আরেকটি হাদিস শরিফে মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন, মাহে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তোমরা শবে ক্বদর সন্ধান করো। (সহি বোখারি)।

হজরত উবাইদা ইবনে সামেত (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেন, রমজানের শেষ বেজোড় রাতগুলো যেমন, একুশ, তেইশ, পঁচিশ, সাতাইশ বা শেষ রাতের মধ্যে রয়েছে ক্বদরের রাত। (মুসনাদে আহমাদ)।

হজরত আবু জার (রা.) কে এসম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি বলেন, হজরত উমর (রা.), হজরত হুজাইফা (রা.) এবং রাসুল (সা.) এর বহু সাহাবার মনে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ ছিলোনা যে, এটি রমজানের সাতাশতম রাত।

এ প্রসঙ্গে হজরত মুআবিয়া (রা.) হজরত ইবনে ওমর (রা.)হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) এবং অন্যান্য সাহাবিগণ যে রেওয়ায়েত করেছেন, তার ভিত্তিতে পুর্ববর্তী আলেমগণের বিরাট অংশ সাতাশ রমজানকে ক্বদরের রাত বলে মনে করেন।

সম্ভবত ক্বদরের রাতের শ্রেষ্ঠত্ব ও মহাত্ব থেকে লাভবান হবার আগ্রহে যাতে লোকেরা অনেক বেশি রাত ইবাদতে কাটাতে পারে এবং কোন একটি রাতকে যথেষ্ট মনে না করে সেজন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ও তাঁর হাবিব (সা.) এর পক্ষ থেকে কোন একটি রাত নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি।

আরেকটি মত হলো- মহামান্বিত এ রজনীটি স্থানান্তরশীল্ধসঢ়; অর্থাৎ প্রতি বছর একই তারিখে বা একই রজনীতে তা হয়না এবং শুধুমাত্র ২৭ তারিখেই এ রাতটি আসবে তা নির্ধারিত নয়।

আল্লাহর হিকমত ও তাঁর ইচ্ছায় কোন বছর তা ২১ তারিখে, কোনো বছর ২৩ তারিখে, কোনো বছরে ২৫ তারিখে, আবার কোন বছর ২৯ তারিখেও হয়ে থাকে। (লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট)।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!