বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

শারীরিকভাবে সক্রিয় শিশুরা বিষণ্ণতায় ভোগে কম

শারীরিকভাবে সক্রিয় শিশুরা বিষণ্ণতায় ভোগে কম

image_pdfimage_print

নিউজ ডেস্ক : যে শিশুরা নিয়মিত মাঝারি থেকে ভারী শারীরিক সক্রিয়তার কাজের সাথে যুক্ত থাকে যাতে তাদের অনেক ঘাম হয় এবং নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত নিতে পারে, তাদের বিষণ্ণতার সমস্যা কম হয় বলে জানা গেছে নতুন এক গবেষণায়। গবেষণাটি পরিচালনা করে নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলোজি (এনটিএনইউ) এবং এনটিএনইউ সোশ্যাল রিসার্চ।

গবেষণার প্রথম লেখক এবং এনটিএনইউ এর পিএইচডি প্রার্থী তঞ্জি জাহল বলেন, সক্রিয় থাকলে ঘাম হয় এবং শারীরিক উপকারিতা পাওয়ার পাশাপাশি বিষণ্ণতার বিরুদ্ধেও সুরক্ষা দেয়।

পূর্ববর্তী গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, পূর্ণবয়স্ক এবং তরুণদের মধ্যে শারীরিক সক্রিয়তা এবং বিষণ্ণতার ঝুঁকি কমার সাথে সম্পর্ক বিদ্যমান। শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রভাব নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন গবেষণা হয়নি।

নতুন এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয় পেডিয়াট্রিক্স সাময়িকীতে। গবেষকেরা ১০০ শিশুকে ৪ বছর যাবৎ পর্যবেক্ষণ করেন শারীরিক সক্রিয়তা এবং বিষণ্ণতার লক্ষণের মধ্যে সম্পর্ক আছে কিনা দেখার জন্য।

তারা ৬ বছর বয়সের ৮০০ শিশুকে পরীক্ষা করেন। তাদের ৭০০ জনকে ৮ থেকে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখেন। শিশুদের শারীরিক সক্রিয়তার জন্য এক্সেলেরোমিটার এর সাহায্য নেয়া হয় যা একধরণের পোডোমিটার বা পদক্ষেপগণনা যন্ত্র।

গবেষণা তথ্যে দেখা যায় যে, ৬ এবং ৮ বছর বয়সে যে শিশুরা শারীরিকভাবে  সক্রিয় ছিলো দুই বছর পরে যখন তাদের পরীক্ষা করা হয় তখন তাদের মধ্যে বিষণ্ণতার লক্ষণ কম দেখা যায়। পরামর্শ দেয়া হয় যে, শারীরিক সক্রিয়তা বিষণ্ণতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।

এনটিএনইউ এর সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সিলজে স্টেইন্সবেক বলেন, ‘এটা জানা গুরুত্বপূর্ণ যে, শৈশবে বিষণ্ণতা প্রতিরোধ এবং নিরাময়ের জন্য শারীরিক সক্রিয়তাকে ব্যবহার করা যেতে পারে’। ‘আমরা এটাও দেখেছি যে বিষণ্ণতার লক্ষণ দেখা যায় যে শিশুদের মধ্যে তারা সময়ের সাথে সাথে শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকে, কিন্তু তারা কারণ খুঁজে পাননি’।

এই ফলাফলটিকে আরো পরীক্ষা করা উচিৎ বলে জোর দেন স্টেইনবেক। যেখানে গবেষকেরা শিশুদের শারীরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি করতে পারেন এবং বিষণ্ণতা কমার সাথে এর কোন সংযোগ আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখবেন।

পূর্ববর্তী গবেষণায় দেখা যায় কিশোর-কিশোরী এবং পূর্ণবয়স্কদের মধ্যে নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন  যেমন- টিভি দেখা এবং কম্পিউটার গেম খেলা বিষণ্ণতার সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু এনটিএনইউ শিশুদের নিয়ে যে গবেষণা করে তাতে বিষণ্ণতা এবং নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনের সাথে কোন সম্পর্ক খুঁজে পায়নি। উপরন্তু, বিষণ্ণতার লক্ষণ অনেকবেশি নিষ্ক্রিয়তা সৃষ্টি করেনি।

পিতামাতার উচিৎ তাদের সন্তানকে এমন কাজে অনুমতি দেয়া এবং উৎসাহিত করা যাতে তাদের ঘাম ঝরে এবং দম নেয়া ও দম ছাড়ার প্রক্রিয়াটি দ্রুত হয়।    

গবেষণা মতে, শিশুদের টিভি দেখা বা আইপড স্ক্রিনে সময় অতিবাহিত করাকে সীমিত করাই যথেষ্ট নয়, তাদের সাইকেল চালানো বা বাহিরের খেলায় সংযুক্ত করা প্রয়োজন। শিশুদের আসলেই শারীরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্যের উপকারিতা লাভ করার জন্য।

সূত্র: সাইকসেন্ট্রাল  

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!