সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

শাশুড়ির মামলায় আ.লীগ নেতা স্ত্রীসহ কারাগারে

বগুড়ায় শাশুড়ির শতকোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য আনোয়ার হোসেন রানা ও তার স্ত্রী আকিলা সরিফা সুলতানাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ রবিউল আউয়াল শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম মন্টু এসব তথ্য জানান।

আদালতের জুডিশিয়াল পেশকার আনোয়ার হোসেন ও এজাহার সূত্র জানায়, বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকায় মরহুম শেখ সরিফ উদ্দিনের স্ত্রী দেলওয়ারা বেগম গত ১ অক্টোবর রাতে সদর থানায় জামাই রানা, মেয়ে সুলতানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তিন ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম, হাফিজার রহমান ও তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গত ৫ অক্টোবর মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নেন সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির। গত ১১ অক্টোবর রানা ও তার স্ত্রী উচ্চ আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোর্টে হাজির হতে বলেন।

বগুড়া সদর থানায় এজাহার ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগে দেলওয়ারা বেগম উল্লেখ করেন, তার মরহুম স্বামী শেখ সরিফ উদ্দিন শহরের কাটনাপাড়া এলাকায় সরিফ বিড়ি ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৬ সালে তার মৃত্যু হলে দেলওয়ারা বেগম শহরের নওয়াববাড়ি এলাকায় অবস্থিত বহুতল মার্কেট ‘দেলওয়ারা-সরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেট’ কিনে নেন। এরপর তিনি সরিফ সিএনজি লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। দেলওয়ারা বেগম এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তার পাঁচ মেয়ে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেলওয়ারা বেগমের অপর চার মেয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ সুপারের কাছে আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও হুমকি প্রদানের লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কাছে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র অবৈধভাবে ব্যবহার ও সেসব দিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।

আনোয়ার হোসেন রানাকে সুযোগ সন্ধানী উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়, তিনি (রানা) দেলওয়ারা বেগমের বড় জামাতা সাইফুল ইসলামের মালিকানাধীন স্থানীয় ‘দৈনিক দুর্জয় বাংলা’ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন শাখার একজন কর্মী ছিলেন। ২০০৬ সালে সাইফুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী (দেলওয়ারা বেগমের বড় মেয়ে) আকিলা সরিফা সুলতানার দিকে চোখ পড়ে রানার। নিজের স্ত্রী ও সন্তান থাকার পরও তিনি আকিলা সরিফা সুলতানাকে পালিয়ে বিয়ে করেন। পরে সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

মামলার এজাহারে দেলওয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, তার বয়স এবং অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে রানা এবং তার স্ত্রী আকিলা সরিফা সুলতানা তার মালিকানাধীন সব প্রতিষ্ঠানের দেখা-শোনার দায়িত্ব মৌখিকভাবে গ্রহণ করেন। শহরের কাটনারপাড়া এলাকায় একই বাড়িতে থাকার কারণে রানা বিভিন্ন সময় নানা ধরনের কাগজ-পত্রে তার স্বাক্ষরও গ্রহণ করেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন যে, এর আগেই রানা অন্য আসামিদের সহযোগিতায় বিভিন্ন কাগজপত্র সৃষ্টি করে ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে ব্যাংকে রাখা ৫০ কোটি টাকার এফডিআর এবং অন্যান্য ব্যাংকে রাখা আরও ৫০ কোটি টাকাসহ মোট ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

0
1
fb-share-icon1


শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের প্রিন্স অফ পাবনা

Posted by News Pabna on Thursday, February 18, 2021

© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!