শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

‘শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই গ্রেনেড হামলা’

'শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই গ্রেনেড হামলা'

image_pdfimage_print

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিনের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অব্যাহত রাখেন। বিচারক বুধবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

যুক্তিতর্কের দ্বিতীয় দিনে সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল হওয়াতেই ধর্মভিক্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলো এবং তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা বিভিন্ন স্থানে টার্গেট নেয়।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন জামায়েতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ, তেহেরিক ইসলাম, লস্কর-ই-তৈয়েবা, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সলিডরিটি-আরএসও অভিন্ন লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একত্রিত হয়। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন পাকিস্তানে অবস্থানের সময় লস্কর-ই-তৈয়েবাসহ একাধিক কাশ্মিরভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সংগঠিত করে প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়।’

সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘গভীর ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালে কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি বোমা পুঁতে রাখা হয়। ওই সময় মুফতি হান্নানের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। ২০০১ সালে সিলেটে শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা চালানো হয়।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তী পর্যায়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলটির সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে বিএনপির দুই নেতা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু যুক্ত ছিলেন। তারা জঙ্গিদের প্রশাসনিক ও আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।’

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে আইএসআই আন্তর্জাতিকভাবে জড়িত ছিল বলে যুক্তিতর্কে উপস্থাপিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন সৈয়দ রেজাউর রহমান।

এর আগে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি, আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা, মামলা দায়ের, ঘটনার একাধিক তদন্ত, চার্জশিট দাখিলসংক্রান্ত বিষয়গুলো আদালতে দীর্ঘ বক্তব্যে উপস্থাপন করেন এই প্রবীণ আইনজীবী। এ সময় তাকে সহায়তা করেন মামলার অপর কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল, আবুল কালাম আজাদ, হাবিবুর রহমান মজুমদার, আকরামউদ্দিন শ্যামল, ফারহানা রেজা প্রমুখ।

একুশে আগস্টের ঘটনায় হত্যা ও বিস্ম্ফোরক আইনে করা দুটি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৫১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন ভবনে স্থাপিত আদালতে এই দুটি মামলার বিচার একসঙ্গে চলছে।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর মামলাটিতে আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য শেষ হয়। মামলাটিতে বিভিন্ন সময়ে ২০ জন সাফাই সাক্ষ্য দেন। আলোচিত এই মামলার শেষ ধাপ যুক্তিতর্ক শেষ হলেই রায় ঘোষণা করা হবে।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!