সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২০, ০৬:১৫ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতের তাৎপর্য

।। মুফতি মাহফুজ আবেদ।।

দেখতে দেখতে রমজানের রহমত ও মাগফিরাত পেরিয়ে এখন আমরা নাজাতের দশে অবস্থান করছি। পবিত্র রমজান মাসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং মহিমাময় যে রাতটির কথা আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে ঘোষণা করেছেন, সেই মহান রাতটি চলতি এই দশ দিনের যে কোনো এক বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে রয়েছে। যে রাতের ইবাদত-বন্দেগির মর্যাদা এক হাজার রাতের ইবাদতের চেয়েও বেশি। আমাদের পূর্ববর্তী বুজুর্গরা নিজস্ব চিন্তা, অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও গাণিতিক বিশ্লেষণ ইত্যাদির মাধ্যমে রমজানের ২৬ তারিখের

রাতে শবেকদর হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা জোর দিয়ে বলে গেছেন। সে হিসেবে রমজানের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতকে শবেকদর হিসেবে একটু বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মূলত রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে শবেকদর রয়েছে বলে বর্ণনা রয়েছে। তাই রমজান শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই সম্ভাবনা থেকেই যায়। ফলে অবহেলা না করে রমজানের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাতের আশায় ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকা দরকার। হাদিসে আছে, ‘রমজান মাসের শেষ দশের বেজোড় রাতে শবেকদর নিহিত।’ শবেকদরকে গোপন রাখার মধ্যে রয়েছে বিরাট হিকমত ও রহস্য। প্রত্যেক মূল্যবান বস্তু হাসিল করা যেমন কষ্টসাধ্য ব্যাপার, তেমনি আল্লাহতায়ালার উদ্দেশ্য হলো এ মহামূল্যবান রাতের অনুসন্ধানে বান্দারা সাধনা করুক। এক রাতের জন্য ৩০টি রাত জাগ্রত থাকুক। মানুষ দুনিয়ার কত তুচ্ছ থেকে তুচ্ছ জিনিসের জন্য কত রাতের নিদ্রা হারাম করে দেয়। কিন্তু হাজার মাসেরও অধিক মর্যাদাসম্পন্ন একটি রাতের জন্য কিছু কষ্ট স্বীকার করতে পারে না!

আলেমরা শবেকদরের গোপনীয়তার আরেকটি রহস্য ব্যক্ত করেন যে, শবেকদর যদি নির্দিষ্ট রাতে অনুষ্ঠিত হতো এবং তা মানুষের জানা থাকত তবে অনেক অলস ও হতভাগ্য ব্যক্তি এমন একটি মহান রাতের বরকত গ্রহণ না করে আল্লাহর গজবে পতিত হতো। এজন্য উচিত হলো, রমজানের শেষ দশ দিনের প্রতিটি বেজোড় রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে শবেকদরের ফজিলত অর্জনের চেষ্টা করা। শবেকদর আসলে রমজানের কোন তারিখে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) রহস্যময় কারণে তা সুনির্দিষ্ট করেননি। ইমাম বোখারি, ইমাম মুসলিম, ইমাম আহমদ ও ইমাম তিরমিজি (রহ.) কর্র্তৃক বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে : হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেনÑ নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘কদরের রাতকে রমজানের শেষ দশ রাতের বেজোড় রাতে খোঁজ করো।’ হজরত আবু বকর (রা.) এবং হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। সুতরাং চলতি রমাজানের ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখের রাতগুলো আমাদের বিশেষ গুরুত্ব সহকারে কাটানোর চেষ্টা করা উচিত। কারণ এসব রাতেও হতে পারে শবেকদর।

শবেকদর অর্থ হলো, মহিমান্বিত ও মর্যাদাময় রাত। সুরা দোখানের চার নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘কদরের রাতে প্রত্যেক হেকমতপূর্ণ বিষয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।’ এর অর্থ হলোÑ মানুষের পুরো বছরের ভাগ্য এ রাতে নির্ধারিত হয়। মানুষের পরবর্তী এক বছরের ভাগ্য অর্থাৎ তার সামনে যা যা আসবে বা তার জীবনে যা কিছু ঘটবে সেসব নির্ধারণ করেন আল্লাহ। তার বেঁচে থাকা কিংবা মৃত্যু, তার ভালো-মন্দ, তার রুটি-রুজি ইত্যাদি বিষয়াদী নির্ধারণ করা হয় এই রাতে। শবেকদরে মানুষের পরবর্তী এক বছরের জন্য যা যা নির্ধারণ করা হয় তা সংঘটিত হওয়াটা অবশ্যম্ভাবী। মানুষের নিয়ত এবং কর্মকাণ্ডের পবিত্রতা, তার তাকওয়া, ইমানের দৃঢ়তার পরিমাপ, তার যোগ্যতা এবং পারদর্শিতার ভিত্তিতে ফেরেশতাদের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা বান্দার ভাগ্য নির্ধারণ করে থাকেন। তার মানে এই নয় যে বান্দার কাজের ব্যাপারে তার কোনো দায়দায়িত্ব নেই। ব্যাপারটা আসলে সেরকম নয়। কারণ বহু কাজ আছে যা মানুষ নিজের ইচ্ছাতেই সম্পন্ন করে। যেমন : খাওয়া-পরা, পান করা ও যাওয়া-আসা ইত্যাদি। তবে কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো সত্যিই মানুষের হাতে নেই। যেমন মানুষের জন্ম-মৃত্যু। এগুলোর ওপর মানুষের কোনো হাত নেই। এখানে সেসবের কথাই বলা হয়েছে।

লেখক : মুফতি, শিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক লেখক।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!