বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ১১:২২ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত হলেন জসিম মণ্ডল

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়েছেন সদ্য প্রয়াত প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা জসিম উদ্দিন মণ্ডল।

মঙ্গলবার (০৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তার মরদেহ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আনার পর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

এরপর উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে নেতাকর্মীরা একে একে প্রয়াত জসিম মণ্ডলের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এই কর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “তিনি সহজ ভাষায় মানুষকে তার কথা বোঝাতেন। তিনি শ্রমজীবী মানুষের জন্য আজীবন লড়াই করে গেছেন।

“তিনি সমাজের মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন। যে সংগ্রাম তিনি করে গেছেন- এতদিনে তা কিছুটা হলেও পূর্ণতা পেয়েছে। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করি।”

বিএনপির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাতে এসে প্রয়াত জসিম মণ্ডলের আত্মার শান্তি কামনা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, “তিনি (জসিম মণ্ডল) তার মেধা, চর্চা এবং রাজনৈতিক আদর্শের মাধ্যমে সারাজীবন মানুষের মুক্তির আন্দোলন করে গেছেন। তার ত্যাগ, চেতনা ও সংগ্রাম আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”

সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, “তিনি যে আদর্শ লালন করতেন তা থেকে কখনো বিচ্যুত হন নি; দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মুক্তির লড়াই করে গেছেন, তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা।”

অন্যদের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান শহীদ মিনারে জসিম মণ্ডলের মরদেহে শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রবীণ কমিউনিস্ট জসিম মণ্ডলের মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ে রাখা হয়।

সেখানে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মনজুরুল আহসান খান, সহিদুল্লা চৌধুরীসহ দলের বিভিন্ন শাখা ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে তার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সিপিবি সভাপতি সেলিম বলেন, “জসিম উদ্দিন মণ্ডল প্রগতিশীল আন্দোলনের একজন কিংবদন্তি নেতা ছিলেন। তিনি শ্রমিকের মুক্তি, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন ও দেশের স্বাধীনতা, মানুষের মুক্তির জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।

“ষোল বছর তিনি জেল খেটেছেন, কিন্তু লড়াই থেকে পিছপা হননি। তার এই আদর্শের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের দিকে আমরা অবশ্যই যাব। জসিম মণ্ডল আজ নেই, কিন্তু তার এই প্রয়াণে তার এই রেলগাড়ি থেমে থাকবে না।”

শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে মঙ্গলবারই তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদীতে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বুধবার তাকে সমাহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা জসিম উদ্দিন মণ্ডলের জন্ম ১৯২২ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায়। ছেলেবেলাতেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি।

১৯৪০ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন স্বশিক্ষিত জসীম মণ্ডল। দেশভাগের পর পাবনার ঈশ্বরদীতে চলে আসে তার পরিবার। সেখানে রেল শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলেন তিনি।

রেল শ্রমিক ইউনিয়নে যুক্ত হওয়ার সুবাদে ভারতের কমিউনিস্ট নেতা জ্যোতি বসুর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ ঘটেছিল জসীম মণ্ডলের।

১৯৪৯ সালে রেলের রেশনে চালের পরিবর্তে খুদ সরবরাহ করলে রেল শ্রমিক ইউনিয়নের ‘খুদ স্টাইকের’ অপরাধে জসিম মণ্ডলসহ ছয় নেতার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং চাকরিচ্যুত করে রেল কর্তৃপক্ষ।

এরপর ১৯৫৪ সালে মুক্তি পাওয়ার কিছুদিন পর আবার নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয় জসিম মণ্ডলকে।

এসময় রাজশাহী জেলে কিছুদিন থাকার পর তাকে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে বদলি করা হল। ১৯৫৬ সালে তিনি মুক্তি লাভ করেন। ১৯৬২ সালের দিকে আবার গ্রেপ্তার হন এবং ১৯৬৪ সালে মুক্তি পান।

একাত্তরে ভারতে থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা রাখেন জসিম মণ্ডল।

জসিম মণ্ডলকে সংগ্রামমুখর রাজনৈতিক জীবনে মোট ১৭ বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশেও কারাভোগ করেন তিনি।

 

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!