সহপাঠীরা টাকার লোভেই হত্যা করে মিশুকে

পাবনা কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র হাবিবুল্লাহ হাসান ওরফে মিশুকে (১৪) টাকার লোভেই সহপাঠীরা হত্যা করে।

শুক্রবার বিকেলে মিশুর দুই সহপাঠী শুভ ও সিয়াম পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

বিচারক মুহম্মদ নাজিমুদ্দৌলার আদালতে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।

এর আগে ভোরে নিহত ছাত্রের দুই সহপাঠী শুভ (১৫) ও সিয়ামসহ (১৪) ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিকেলে দুজন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

পাবনা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অরবিন্দ সরকার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শুভ ও সিয়াম পুলিশকে জানিয়েছে যে, তারা মিশুকে আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে কিছু টাকা আদায়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল। মিশু রাজি না হওয়ায় তারা তাকে মারপিট করে। এসময় মিশু বাধা দিতে গেলে তার (মিশুর) গলায় প্লাস্টিকের পাইপ পেঁচিয়ে চেপে ধরায় শ্বাসরোধ হয়ে সে মারা যায়। লোক জানাজানির ভয়ে তারা মিশুর মরদেহ বেঁধে বস্তায় ভরে রাস্তার পাশে লিচু বাগানে ফেলে পালিয়ে যায়।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল হাসান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে মিশুর সহপাঠী শুভ, সিয়াম ও তাদের সাথে আব্দুল হাদি (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। ভোরে গ্রেপ্তারের পর শুভ ও সিয়ামকে বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ মার্চ দুপুর থেকে নিখোঁজ হয় পাবনা কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ও সাঁথিয়া উপজেলার মেহেদীনগর এলাকার বাসিন্দা মহসিন আলমের ছেলে হাবিবুল্লাহ হাসান ওরফে মিশু। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে পুলিশ পাবনা শহরতলীর সিংগা এলাকার একটি লিচু বাগানের পাশে থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।