মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন

করোনার সবশেষ
করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৮৩ জন, শনাক্ত হয়েছেন ৭ হাজার ২০১ জন আসুন আমরা সবাই আরও সাবধান হই, মাস্ক পরিধান করি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি।  

সাঁথিয়ার কলেজটি সরকারি হয়ে এখন বেহাল অবস্থা

আরিফ খাঁন, বেড়া, পাবনা : ২০১৫ সালে পাবনার সাঁথিয়া সরকারি কলেজকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ঘোষণায় আনন্দের বন্যা বয়ে যায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের মধ্যে।

কিন্তু এখন এই জাতীয়করণের নানা জটিলতাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির জন্য।

প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি পদ খালি থাকলেও তাতে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না।

এমনকি অবসরজনিত কারণে কলেজটির কোনো কোনো বিভাগ একেবারে শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় জনবল সংকটে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থবির হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, সাঁথিয়া সরকারি কলেজকে জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে ২০১৫ সালের ১৬ জুন এর যাবতীয় নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ওই সময় পর্যন্ত কলেজটিতে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ মোট ৫৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন।

কিন্তু এর পর থেকে গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ মোট ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে গেছেন।

নিয়োগ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে এসব পদে এখনও কোনো নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে আছে।

এরই মধ্যে ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট কলেজটিকে জাতীয়করণের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি হয়। কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারির পর দুই বছর পার হলেও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের যেমন আত্তীকরণ হয়নি তেমনি শিক্ষার্থীরাও কোনোরকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে কলেজটির জাতীয়করণের কার্যক্রম একেবারেই স্থবির হয়ে আছে।
আর এ ক্ষেত্রে কলেজটি সবচয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতায়। কারণ সেখানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষের পদসহ শিক্ষক-কর্মচারীর ১৬টি পদ অবসরজনিত কারণে শূন্য হয়ে পড়লেও জটিলতার কারণে তাতে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে একসময় দুজন শিক্ষক থাকলেও দুজনেই অবসরে চলে গেছেন। ফলে এই বিভাগটি চলছে কোনো শিক্ষক ছাড়া।
বাংলা ও অর্থনীতি বিভাগে একসময় তিনজন করে শিক্ষক থাকলেও এখন সেখানে একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের একমাত্র শিক্ষক মোহাম্মদ আলী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বছর খানেকের মধ্যে তাঁরও অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। ফলে বছর খানেকের মধ্যে নিয়োগ জটিলতা না কাটলে অর্থনীতি বিভাগও শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়বে। এ ছাড়া কলেজটিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির তিনজন কর্মচারীর পদও শূন্য হয়ে রয়েছে।

জানা যায়, জাতীয়করণের লক্ষ্যে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পায় ৩০২টি কলেজ। এর পর ২০১৮ সালের আগস্টে সাঁথিয়া কলেজসহ এসব কলেজের সরকারিকরণের প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কলেজেরই শিক্ষকদের চাকরি আত্তীকরণ সম্ভব হয়নি। শুধু কাগজপত্র যাচাইবাছাই চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্লাস বন্ধ থাকায় শিক্ষক সংকটের বিষয়টি আপাতত চোখে পড়ছে না। কিন্তু গত ১৭ মার্চ করোনার কারণে কলেজ বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত শ্রেণি পাঠদানে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।

কলেজ খোলার পর আবারও একই অবস্থা দেখা দেবে বলে তাঁরা জানান। তাঁরা আক্ষেপ করে বলেন, কলেজ জাতীয়করণের আনন্দ এখন উল্টো বিষাদে পরিণত হয়েছে।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘জনবল সংকটে আমাদের কলেজের সার্বিক অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। এই সমস্যার সমাধান না হলে অবসরজনিত কারণে সামনে জনবল সংকট আরও বাড়বে। তখন কলেজ চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।’

কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম জামাল আহমেদ বলেন, ‘করোনার কারণে সরাসরি ক্লাস বন্ধ থাকলেও অনলাইন ক্লাস চালু আছে। কিন্তু শিক্ষক সংকটের কারণে অনলাইন ক্লাসেও পড়ালেখা বিঘ্নিত হচ্ছে।

এ ছাড়া দীর্ঘদিনেও শিক্ষকদের চাকরি আত্তীকরণ না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে চরম হতাশা লক্ষ্য করছি। বিষয়টির দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার।’

0
1
fb-share-icon1


শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের প্রিন্স অফ পাবনা

Posted by News Pabna on Thursday, February 18, 2021

© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!