মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সাঁথিয়ায় বৃষ্টিতে কাঁচা মরিচের ফলন বিপর্যয়

সাঁথিয়ায় বৃষ্টিতে কাঁচা মরিচের ফলন–বিপর্যয়। ছবি : প্রতীকী

image_pdfimage_print

বার্তাকক্ষ : পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় অতিবর্ষণে কাঁচা মরিচগাছ মরে যাচ্ছে। যেসব গাছ এখনো বেঁচে আছে, সেগুলোতেও তেমন মরিচ ধরেনি। ফলে এ উপজেলায় কাঁচা মরিচের ফলনে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার কাঁচামালের আড়তে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা।

উপজেলার কয়েকজন মরিচচাষি ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর মরিচচাষিরা কাঁচা মরিচের দাম না পেয়ে চরম লোকসান দিয়েছেন।

তখন এ সময় তিন থেকে পাঁচ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে। এমনকি হাটে গিয়ে বিক্রি করতে না পেরে কোনো কোনো কৃষককে কাঁচা মরিচ ফেলে দিয়েও আসতে হয়েছে।

কিন্তু এবার চাষিরা মৌসুমের শুরু থেকেই প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছিলেন। শুরুতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি করার পর একপর্যায়ে তা ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় ওঠে। এ ছাড়া এবার ফলনও হয়েছিল ভালো।

গতবারের ক্ষতি পুষিয়ে লাভ করারও স্বপ্ন দেখছিলেন অনেক চাষি। কিন্তু টানা বর্ষণে তাঁদের সেই স্বপ্ন ধুয়ে গেছে।

অতিবর্ষণে মরিচ গাছের গোড়ায় পানি জমে যাওয়ায় উপজেলার বেশির ভাগ মরিচগাছ মরে গেছে। সপ্তাহ দু-এক হলো মরিচগাছগুলোতে এমন মড়ক দেখা দিয়েছে। যেসব গাছ এখনো বেঁচে আছে, সেগুলোয় মরিচ ফলছে একেবারেই সামান্য।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মরিচের খেত ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ জমির মরিচগাছ শুকিয়ে মরে গেছে। ইতিমধ্যেই যেসব জমির মরিচগাছ মরে গেছে, মরিচচাষিরা সেসব মরা গাছ তুলে ফেলতে শুরু করেছেন।

উপজেলার ছেঁচানিয়া গ্রামের মরিচচাষি মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘দেড় বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ কইর‍্যা দাম ও ফলন দুই-ই ভালো পাইছিলাম। আরও মাসখানেক মরিচ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির পানি সব শ্যাষ কইর‍্যা দিছে। এখন জমির থ্যা মরা গাছগুল্যা তোলা শুরু করিছি।’

উপজেলার তেঘরী গ্রামের মরিচচাষি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘হাটে এখন মরিচের অভাব। অথচ ১৫-২০ দিন আগে আমাগরে মরিচের খ্যাতে প্রচুর ফুল ও জালি মরিচ ছিল। সেগুলা বড় হলি কাঁচা মরিচের কোনো অভাবই থাকত না।’

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম কাঁচামালের হাট করমজা চতুরবাজারে গত সোমবার গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় কাঁচা মরিচের আমদানি হাটে একেবারেই কম। হাটে যেসব কাঁচা মরিচ উঠেছে, তার বেশির ভাগই ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, রাজশাহীসহ দেশের অন্য এলাকা থেকে আসা। অথচ এই সময়ে হাটে সাঁথিয়ার কাঁচা মরিচ ছাড়া অন্য কোনো এলাকার মরিচ ওঠার কথাই নয়।

হাটের যমুনা কাঁচামালের আড়তের মালিক আবদুল মোতালেব বলেন, গত বছরগুলোতে এই সময়ে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ মণ কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে, যার বেশির ভাগই সাঁথিয়ায় উৎপাদিত। এখন প্রতিদিন বাজারে ২০০ মণের মতো কাঁচা মরিচ উঠলেও এর বেশির ভাগই বাইরে থেকে আসা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার প্রামাণিক বলেন, এবার সাঁথিয়ায় ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছিল। শেষ সময়ে এসে অতিবর্ষণে মরিচগাছগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এ কারণে ফলনেও বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কৃষকেরা মরিচগাছে যে বালাইনাশক প্রয়োগ করেছিলেন, বর্ষণের কারণে সেগুলো ধুয়ে যাওয়ায় গাছের রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতা কমে গেছে। এ ছাড়া গাছের গোড়ায় পানি জমে যাওয়াতেও গাছগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!