মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সাঁথিয়ায় শতবর্ষী স্কুল ধ্বংসের পথে!

সাঁথিয়ায় শতবর্ষী স্কুল ধ্বংসের পথে!

পাবনা প্রতিনিধি : স্কুলটির পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে এলাকার প্রভাবশালীরা পুকুর খনন করায় স্কুল মাঠ পুরোটাই ভেঙ্গে গেছে। অন্যদিকে সম্প্রতি ঝড়ে স্কুলের কয়েকটি পুরাতন মেহগনি গাছ ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়ায় স্কুলের পাঠদানসহ সকল কাজে দেখা দিয়েছে মারাত্মক সমস্যা।

অন্যদিকে স্কুল মাঠ থেকে মাটি কেটে পুকুরে যাওয়ায় ভয়াবহ দূর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে স্কুলের দ্বিতল ভবন।

স্কুল সংশ্লিষ্টসহ অভিভাবকেরা স্থানীয়দের অসচেতনতা আর কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর যথাযথ তদারকির অভাবকেই দায়ি করেছেন।

শতবর্ষের এই স্কুলটি পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার ৫৭ নং গৌরীগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে জানা যায়, স্কুলের পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে প্রভাবশালীরা পুকুর খনন করায় স্কুলমাঠ পুরোটাই ভেঙ্গে গেছে।

স্কুলের পুরনো ভবনটিতে স্থানীয় জনসাধারণ গরুর গোয়াল বানিয়েছে।

অপরিকল্পিতভাবে মাটির কাটা আর ঝড়ের আঘাতে স্কুল ক্যাম্পাসের কয়েকটি পুরনো গাছ উপড়ে পড়ে আছে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের খেলার কোনো মাঠ নেই।

বর্তমানে যে দ্বিতল ভবনটিতে ক্লাশ হয় সেটিও যেকোনো সময় ভেঙ্গে পড়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে।

স্কুলের চারপাশে প্রাচীর না থাকায় পুকুরে ডুবে মারা যাবার ভয়েই অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না।

স্কুলমাঠ-সংলগ্ন পুকুরে পড়ে এবং স্কুলের ছাদ ধসে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও।

স্কুলের বেহাল দশা সম্পর্কে গভর্নিং বডির সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে জানানোর পরও শুধুমাত্র একটি লাল নোটিশ টাঙ্গানো ছাড়া তারা দৃশ্যমান তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

প্রাচীর না থাকায় স্কুলে গরু-ছাগল প্রবেশ করে পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট করছে। মাঠটি ভেঙ্গে যাওয়ায় বাচ্চারা খেলাধুলা করতে পারে না। মূল ভবনটিও যে কোনো সময় ধ্বসে পরতে পারে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক সময় এই স্কুলটি ছিল এলাকার সেরা প্রতিষ্ঠান। আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হতো এই স্কুলের মাঠে। বর্তমানে এর করুণ দশা।

দুর্দশার কারণে দিন দিন স্কুলের শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। অথচ এক সময় বহু গুণীব্যক্তির শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল এই স্কুলে পড়ালেখার মাধ্যমে।

স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. এম আব্দুল আলীম বলেন, ‘স্কুলটি দেখলে এখন কষ্ট লাগে।

আমরা ছোটবেলায় স্কুলমাঠে ফুটবল খেলতাম। এখন মাঠটিই নেই। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে এবং মাটিভরাট করে এবং নতুন ভবন নির্মাণ করে স্কুলটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা।’

এ ব্যাপারে সাঁথিয়া উপজেলা শিক্ষা সহকারি শিক্ষা অফিসার আজিজুর রহমান বলেন, স্কুলের সীমানায় কাটাতারের বেড়া দেয়া হয়েছে। পড়ে থাকা গাছের তথ্য নিয়ে গেছে বন বিভাগ। তাদের ছাড়পত্র পেলেই নিলাম দেয়া হবে।

স্কুলের উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে ঢাকাতে আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়াও মাটি ভরাটের কাজের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী অফিসারের সাথে বৈঠক হয়েছে।

খুব দ্রুতই উন্নয়ন কাজসহ সব কাজ শুরু হবে বলে জানালেন এই সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা ।


টুইটারে আমরা

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial