বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০২:০৭ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সাংবাদিকতার সাড়ে তিন যুগ

image_pdfimage_print


।। এবাদত আলী।।
(পূর্ব প্রকাশের পর)
(সতেরো)
এক সময় জেকের শেষ হলো। সকলেই কিছু সময় বিশ্রাম নিলেন। এরপর দ্বিতীয় আলেম সাহেবের ওয়াজের পালা। তিনি নাহমাদুহু ওয়া নুছাল্লী আলা রাছুলিহিল কারিম, আম্মা বাদ বলে একটু কেশে নিয়ে তিনি ওয়াজ শুরু করলেন। তার ওয়াজের সংক্ষিপ্ত কথা হলো আপনারা পীর টির ধরবেন না। ওসব ধোকা বাজি। আসলে আল্লাহ এবং আল্লাহর রাছুলের আদেশ অনুসারে চলবেন, সৎ পথে থাকবেন, নামাজ- রোজা করবেন আর এসব করলেই মনজিলে মকসুদে পৌঁছতে পারবেন। প্রায় এক ঘন্টা ধরে তিনি চিৎকার করে সুর করে ওলি- আল্লাহ এবং পীর মুরশীদের বিরুদ্ধে ওয়াজ করলেন।

এরপর তরিকাভুক্ত ব্যক্তির পালা। তিনি লাউডস্পিকার হাতে নিয়ে গলায় খেকর দিয়ে প্রথমেই বললেন যার কোন পীর নেই তার পীর শয়তান। এরপর কিছু সময় চুপ থেকে পবিত্র কোরআনের আয়াত পাঠ করলেন। তার তরজমা করে বোঝাতে চাইলেন তোমরা আল্লাহকে ভালো বাসো এবং তাঁর রাছুলকে, সেই সঙ্গে রাছুলের যারা পায়রবি করে অর্থাৎ আল্লাহর ওলি বা বন্ধুদেরকে ভালো বাসো তাহলে আল্লাহ পাক তোমাদের গুনাহ সমূহ মাফ করে দিবেন। তিনি আরো বললেন লা ছালাতি ইল্লা বে হুজুরিল ক্বালব। অর্থাৎ হুজুরি দেল ছাড়া নামাজ কবুল হয়না। ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রায় এক ঘন্টা ধরে ওলি আল্লাহদের পায়রবি করার কথা বলেন।
বাড়িওয়ালাসহ আমাদের মত বোশপত্তনের লোকজন উক্ত মাহফিলে বহু কষ্ট করে ধৈর্য সহকারে শুনছিলাম আমরা কিছুই বুঝতে পারলামনা কি বলতে কি বলা হলো। বাড়িওয়ালা অনেক আশা করে পবিত্র সবে বরাত উপলক্ষে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন। তার আক্ষেপ যে, সবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কে আলেমদের মধ্যে একজন আলেমও কোন কথা বলেননি। আর আমাদের মত দাওয়াত খেকো শ্রোতা বিশেষ করে এলেম-কালাম না জানা ব্যক্তির তো ওয়াজ নছিহত শোনার বরাতই হয়না। আর হবেইবা কি করে? যদিও বা প্রতি বছর শীতের সিজনে বিভিন্ন মাদ্রসা-মক্তব, গোরস্থান কিংবা মসজিদ কমিটির উদ্যোগে বিরাট ওয়াজ মাহফিলের ঘোষণা শুনে ওয়াজ নছিহত শুনতে যাই তো দু চারটে কথা শুনতে না শনতেই শুরু হয় চাঁদা উঠানো।

ওমুক গ্রামের ওমুকের পুত্র ওমুক পাঁচ শত টাকা মারহাবা। ওমুকে দুই হাজার টাকা মারহাবা। মা ওমুক খাতুন নাকের সোনা, ওমুক বোন হাতের বালা মারহাবা। জোরে আরো জোরে তাকবির দেন, মারহাবা। এতো গেল নগদের কথা। তথায় আবার বাকিও চলে। এরই মাঝে মাঝে চলে দানের ওয়াজ। জেছ কদর কি তৌফিয়ক ও হো রাহে লিল্লাহ দিজিয়ে..। দান কারিরও পিতা-মাতা শুয়ে আছেন কবরে- নুরের টুপি মাথায় দিয়ে উঠাইবেন রোজ হাশরে..। এসব শুনতে শুনতেই ওয়াজ শেষ। তাই ভেবেছিলাম ঐ বাড়িওয়ালার নিজস্ব উদ্যোগে নিরপেক্ষ কিছু ওয়াজ নছিহত শুনতে পাবো। কিন্তু তা আর হলোনা। জনৈক মুসুল্লী রাগে গড় গড় করতে করতে বলেই ফেল্লেন আমরা এতক্ষণ ধরে যেন ছাদ পেটানোর পাঁচালি শুনছিলাম দু পক্ষের ওয়াজের মধ্যে। পাশে থেকে একজন বলে উঠলেন ও কথা বলতে নেই গোনাহ হবে ভাই। আর কে কি মন্তব্য করেছিলো তা ইচ্ছা করেই শুনিনি। বাড়িওয়ালার বিশেষ অনুরোধে চারটে খেয়ে সেদিনের মত বিদায় নিয়েছিলাম।

আমি কোন পন্ডিত নই; ধর্মের বিষয়ে তেমন কোন জ্ঞান নেই বললেই চলে। অপর দিকে ফকিহ বা মোফাচ্ছের নই যে, ফেকাহ বা তফছির নিয়ে কোন বাহাছে অবতীর্ণ হবার এরাদা রাখি। তবে সে দিনের পরষ্পর বিরোধী ওয়াজ মাহফিলে কোন হাতা হাতি হয়নি বলেই রক্ষে। নইলে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার কচুয়া গ্রামের সেই ওয়াজ মাহফিলের মত থানা কাচারি হয়ে যেতে পারতো।

একটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ হতে জানা যায় সম্প্রতি নাছিরনগর থানার কচুয়া গ্রামের শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহি সৈয়দ মিরেন শাহ তাতারি(র.)এর মাজার সংলগ্ন মাদরাসায় হামলা চালিয়ে বিরাট ক্ষতি সাধন করে বলে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। প্রকাশ: কচুয়া গ্রামে আয়োজিত এক ওয়াজ মাহফিলে কতিপয় আলেম মাজারের ভক্তদের প্রতি অশালীন উক্তি করলে মাজারের খাদেমরা প্রতিবাদ করেন। এর ফলে ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত শতাধিক লোক দা এবং লাঠি সোটা নিয়ে উক্ত মাজার মাদরাসাটিতে হামলা চালায় এবং কেতাব ও আসবাব পত্রের ক্ষতি সাধন করে। (ক্রমশঃ)।

(লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট)।

0
1
fb-share-icon1


শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের প্রিন্স অফ পাবনা

Posted by News Pabna on Thursday, February 18, 2021

© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!