সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে করোনা ভাইরাসে একজনের মৃত্যুসহ আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১৮ জন। যারমধ্যে নারায়ণগঞ্জেই ৫ জন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৯ জন।

রবিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান। নতুন আক্রান্ত ১৮ জনের মধ্যে ১২ জন ঢাকার, নারায়নগঞ্জের ৫ ও মাদারীপুরের এক জন রয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ:

৫ এপ্রিল এই জেলাতেই ৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে। আর এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত দুইজন মারা গেছেন। যাদের মধ্যে রবিবার (৫ এপ্রিল) মারা যান একজন। রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় শনিবার রাত ১টার দিকে কাশিপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাংলাবাজার বড় আমবাগান (সুচিন্তাপুর) লকডাউন করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।অপরদিকে শহরের বাবুরাইল এলাকায় সর্দি, জ্বর ও কাশি নিয়ে ফয়সাল সুজন নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার পরিবারের আট সদস্যসহ ১৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানতলির ৯ পরিবারে ২৬ জনসহ মোট ৩৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জের এক চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ।

মানিকগঞ্জে:

রবিবার (৫ এপ্রিল) জেলার সিংগাইরে প্রথম এক ব্যক্তির দেহে করোনা সনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিংগাইর পৌর এলাকা লকডাউন ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার মধ্য কাইচাইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সিংগাইর পৌর এলাকার আজিমপুর নয়াডাঙ্গী বাইতুল মামুর ও মারকাযুল মা আরিফ ওয়াদ-দা ওয়াহ মাদ্রাসায় তাবলীগ জামাতে এসেছিলেন।

এ ঘটনায় ওই ব্যক্তির সাথে থাকা অন্যান্য ১২ সদস্য ও স্থানীয় ৬ সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের হোমকোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

নেত্রকোনা:

জেলার পূর্বধলায় রবিবার ভোরে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে নূরুন্নাহার (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নূরুন্নাহার উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের কালিহর জোয়ারদার পাড়া গ্রামের রকিব মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম খোকন জানান, গত দুদিন ধরে ওই নারীর হালকা জ্বর ও কাশি ছিল। এ অবস্থায় রবিবার ভোরের দিকে সে তার নিজ বাড়িতে মারা যায়। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় করোনা আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের বাড়িসহ আশপাশের বাড়ি লকডাউন করে রাখে।

শেরপুর:

জেলার ঝিনাইগাতীতে করোনা সন্দেহে আশিক (১৫) নামে এক কিশোরকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখেছেন গ্রামবাসী। বাবা-মার সাথে ঢাকার আশুলিয়া থাকতো আশিক।

হাতিবান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দোলা জানান, সেখানে আশিক সর্দি, জ্বর, গলাব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে চিকিৎসা না দিলে ৪ এপ্রিল রাতে আশিক নিজ বাড়িতে চলে আসে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায় গ্রামবাসীরা ৫ এপ্রিল সকালে তাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করে।

তার শরীরে করোনা ভাইরাস আছে কি না নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ:

করোনার লক্ষণ নিয়ে সদর উপজেলার দক্ষিণ নিজড়া গ্রামের এক বাসিন্দা গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত ১২ টায় তিনি জ্বর, গলাব্যাথা ও শ্বাসকষ্ঠে ভুগছিলেন।

গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অসিত কুমার মল্লিক জানান, ওই রোগীর ৩ দিনের জ্বরের হিস্টিরি আছে। পাশাপাশি তার গলাব্যাথা ও শ্বাস কষ্ট রয়েছে । গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তির পর ওই ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লা:

জেলার দাউদকান্দিতে করোনা সন্দেহে লকডাউনে থাকা একটি বাড়ির আলেক খান (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকালে ওই উপজেলার মারুকা ইউনিয়নের চক্রতলা গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান।

খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা সেখানে গিয়ে মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করেন এবং দুপুরে তাদের ব্যবস্থাপনায় মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে ওই ব্যক্তির শরীরে করোনা উপসর্গ আছে সন্দেহে গত শনিবার ৭টি পরিবারকে লকডাউন করে রাখে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যক্তির জানাজায় প্রশাসনের লোকজনসহ ১৪/১৫ জন অংশ নেন। করোনা সন্দেহে ভয়ে তার স্বজন কিংবা প্রতিবেশি ও ঘনিষ্টজনরা অংশগ্রহণ করেননি।

সিলেট:

প্রথমবারের মত সিলেটেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। এতে ঐ এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। রবিবার আইইডিসিআর থেকে যে ১৮ জন রোগী শনাক্তের কথা বলা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ওই চিকিৎসক।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় অফিসের সহকারী পরিচালক ডা. আনিছুর রহমান রাতে ইত্তেফাককে জানান, আইইডিসিআর গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১৮ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের কথা বলেছে তার মধ্যে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক রয়েছেন। তার শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্তের পর তার বাসা লকডাউন করে রাখা হয়েছে।

আইইডিসিআরের হিসেব মতে, এ পর্যন্ত ১১ জেলায় মরণ ব্যাধি এই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। যার মধ্যে ঢাকাতেই রয়েছে ৫৪ জন। এছাড়া মাদারীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ১১ জন করে। আর গাইবান্ধায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ জন। এছাড়া- গাজীপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, কক্সবাজার, শরীয়তপুর, রংপুর, চট্টগ্রামেও একজন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে।– ইত্তেফাক

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!