শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০৯ অপরাহ্ন

কুমিল্লায় পবিত্র কোরান অবমাননা সংক্রান্ত খবরটির প্রতি সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সকলকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।- ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

সুজানগরের সন্তান কথাসাহিত্যিক মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ’র জন্মদিন আজ

রাসেল মাহমুদ, সুজানগর,পাবনাঃ কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ’র জন্মদিন আজ। ১৯৯১ সালের ২২ আশ্বিন (৭ অক্টোবর) তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার গ্রামের নাম সৈয়দপুর। হাটখালী ইউনিয়নের গাজনার বিল সংলগ্ন গ্রাম এটি। আসাদ নিজেকে পরিচয় দেন, গাজনার বিলের সন্তান হিসেবে। এই বিলে দূরন্তপনায় কেটেছে তার শৈশব। কখনো এই বিলে কাঁকিলা মাছের পেছনে ট্যাঁটা হাতে দৌড়েছেন। কখনো টাকি মাঝের ঝাঁকে পাঁচচোখ দিয়ে জিয়ালা বানিয়ে টাকি ধরার চেষ্টা করেছেন। কখনো বিলের বিস্তীর্ণ মাঠে খেলেছেন গোল্লাছুট। এভাবেই কেটেছে তার বর্ণিল শৈশব।

গাজনার বিলের কাঁদা মেখে ছুটে বেড়ানো সেই ছেলেটাই আজ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সাংবাদিকতার জগত। মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় পড়াশোনাকালীন কাজ করেছেন প্রতিদিনের সংবাদ, চ্যানেল আই ও দেশ রূপান্তরের মতো প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে তিনি দেশের সর্বাধিক প্রচারিত বিজনেস পত্রিকা ‘বণিক বার্তা’য় সহসম্পাদক হিসেবে কর্মরত।

দীর্ঘ এগারো বছর ধরে দেশের সবকয়টি জাতীয় পত্রিকায় লেখালেখি করছেন আসাদ। প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, সমকাল, যুগান্তর, সাপ্তাহিক ২০০০, বাংলাদেশ প্রতিদিনে এক সময় নিয়মিত তার লেখা ছাপা হত।

২০১৫ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম বই ‘নোবেল প্রাইজ’। এটি ছিল রম্যগল্প সংকলন। বইটির ভূমিকা লেখেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ছোটভাই উম্মাদ পত্রিকার সম্পাদক আহসান হাবীব। ভূমিকায় তিনি লেখেন, ‘চিন্তার বৈচিত্র্য, দৃষ্টির গভীরতা, সিচুয়েশনাল হিউমার আর গভীর বিষয়বস্তুর সহজ-সাবলীল প্রকাশ এই লেখককে অনেক দূর নিয়ে যাবে।’

পরের বছর মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ লেখেন ‘অসুখের নাম তুমি’ নামে একটি রোমান্টিক ছোটগল্পের বই। বইটা সেই সময়ে তরুণ সমাজে আলোড়ন তোলে। স্টলের বেস্টসেলার হয়। ২০১৭ সালে লেখেন বিরহী ছোটগল্পের বই ‘অতঃপর বুঝলাম তুমি কত পর’। এই বইয়ের গল্পগুলোও পাঠকের মনে দাগ কেটে যায়।

২০১৮ সাল এই লেখকের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। এই বছর লেখেন প্রথম উপন্যাস। নাম ‘চুড়ি অথবা চেয়ারের গল্প’। কর্পোরেট পলিটিক্স আর প্রেম ভালোবাসাকে এক সুতোয় বেঁধে তিনি যে জীবনের গল্প বলেন তা হয়ে ওঠে বহু মানুষের নিজের গল্প। প্রথম উপন্যাস দিয়েই প্রশংসা কুড়ান দেশের নামকরা সব সাহিত্যবোদ্ধাদের। কণ্ঠশিল্পী ও লেখক কনকচাঁপা তার বই পড়ে মুগ্ধ হয়ে লেখেন, ‘এই ছেলে এইটুকু বয়সে যা লিখেছে, এখনকার অনেক বাঘা বাঘা সাহিত্যিকও তা লিখতে পারেনি। ছেলেটা সমাজকে দেখেছে একেবারে ভেতর থেকে। লিখেছেও নিজের ভেতর থেকে। এই ছেলে একদিন আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মতো প্রতিথযশা সাহিত্যিক হবে।’
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুজ্জামান রুমান লেখেন, ‘কোনোভাবেই মনে হলো না তরুণ লেখকের বই পড়ছি। আমি সাধারণত উপন্যাস পড়ি না। কিন্তু এই বইটা শুরু করে আর ছাড়তে পারলাম না। সমাজের ক্ষুদ্র অথচ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সে তুলে এনেছে দক্ষহাতে।’

২০১৯ সালে লেখেন দ্বিতীয় উপন্যাস ‘নিপাতনে সিদ্ধ’। এই উপন্যাসে উঠে আসে সুজানগরের দুলাই গ্রামের জমিদার আজীম চৌধুরীকে নিয়ে গড়ে ওঠা জনপ্রিয় কিছু গল্পের ফিকশন। সেই সাথে গাজনার বিল অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন ও গ্রাম্য রাজনীতি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিন্দুদের উপর অত্যাচারের নির্মম বর্ণনাও বড় একটি জায়গা দখল করে এই উপন্যাসের। প্রতিটি চরিত্র হয়ে ওঠে গাজনার বিলের আশপাশের চরিত্র। ক্লাসিক ধারার এই উপন্যাসটাও পাঠক প্রিয়তা পায়। প্রশংসা করেন শিল্প সাহিত্যের নামকরা মানুষজন।

২০২০ সালে আসাদুল্লাহ কোনো বই লেখেননি। পুরো বছরটা কাটিয়ে দেন গবেষণায়। ২০২১ সালে বেড়িয়ে আসে সেই গবেষণার ফসল। পাবনা অঞ্চলের চরমপন্থি রাজনীতি নিয়ে লেখেন উপন্যাস ‘বিষাদিতা’। এটিই চরমপন্থি রাজনীতির গ্রামীণ অবয়বে লেখা প্রথম কোনো উপন্যাস। বিষাদিতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ পর্যন্ত।

আসাদুল্লাহ বর্তমানে ব্যস্ত আছে পাবনা অঞ্চলের আঞ্চলিক গল্প (শাস্তর) সংগ্রহের কাজে। কাজটা শেষ করতে পারলে এটা হবে এই অঞ্চলের হাজার বছর ধরে লোকমুখে শুনে আসা দারুণ দারুণ সব গল্পের প্রথম সংস্করণ।

জন্মদিনে পাবনা জেলার সুজানগর থানার হাটখালী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের এই কৃতি সন্তানকে জানাই গাজনার বিলে ফোটা সহস্র শাপলা ও পদ্মফুলের শুভেচ্ছা।

0
1
fb-share-icon1


© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!