সুজানগরে গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : পাবনার সুজানগরে মনিমুক্তা (২৭) নামক এক গৃৃহবধু কে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার পর মূখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে তার শশুরবাড়ীর লোকজন।

রোববার (৫ জুন) রাত ১০টা দিকে সুজানগর উপজেলার পারঘোড়াদহ গ্রামের আব্দুস সালামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, নিহত মনিমুক্তার স্বামী শাজাহান ও তার বড় ভাই এলাকার প্রভাবশালী আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী এবং তার অপর ভাই আবুল কালাম কালুর স্ত্রীসহ মুক্তাকে বেধরক মারপিট করে পরে মুক্তা মারা গেলে তার মূখে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায়।

কিন্তু বিধি বাম। মৃত্যুর আগে নিহত মুক্তা নিজ মোবাইল থেকে তার বড় ভাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত জাকির হোসেনকে জানিয়েছিলো “ভাই ওরা আমাকে মেরে ফেলবে আমাকে বাচাও। জাকির জিজ্ঞাসা করেছিলেন কে তোমাকে মারবে উত্তরে মুক্তা বলেছিলো আমার স্বামী শাজাহান ও তার বড় ভাই আব্দুস সালাম, তার স্ত্রী এবং আমার মেজো ঝা আবুল কালাম কালুর স্ত্রী। এতটুকু কথার বলার সাথে সাথেই স্বামী শাজাহান মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জাকির হোসেনকে বলেছিলো তেমন কিছুনা সামান্য একটু ঝগড়া হয়েছে।

এর কিছুক্ষন পর রাত ১০.৩০টার সময় স্বামী শাজাহান মুক্তার ভাই জাকিরকে ফোনে জানায় আপনার বোন বিষ খেয়েছে ওকে এসে নিয়ে যান। রাতেই বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। কিন্তু সকালে ভাই জাকির অপর দুই ভাইসহ ঘটনাস্থলে পৌছালে প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়ে যায়। মুক্তা বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করতে থাকে শাহজাহান ও তার আপনজনরা।

এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। নিহত মুক্তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল শহরে তারা তিন ভাই ও তিন বোন। বড় ভাই জাকির বার্তা সংস্থা পিপ‘কে জানান, ৬ বছর আগে মুক্তার বিয়ে হয় শাজাহানের সাথে বিয়ের পর থেকেই যৌতুক চেয়ে প্রায় মারপিট করতো শাজাহানকে ব্যাবসা করার জন্য কয়েক দফায় টাকাও দেয়া হয়।

তার পরও আমার বোনের শেষ রক্ষা হলো না। এ ব্যাপারে সুজানগর থানার ওসি সাকিল উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযেগ করা হলে তিনি বার্তা সংস্থা পিপ‘কে জানান জিডি করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।