সুজানগর পৌর আ. লীগের সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলা

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার সুজানগরে সন্ত্রাসীদের স্বশস্ত্র হামলায় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৮ জন আহত হয়েছেন। তারা সুজানগর বাজারে একটি বৈঠক করছিল।

আজ বৃহস্পতিবার (০৩ আগস্ট) রাত সাড়ে নয়টার দিকে সুজানগর বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, আমরা বাজারে একটি খোলা জায়গায় বসে বৈঠক করছিলাম এ সময় স্বশস্ত্র অবস্থায় অতর্কিতভাবে আবুল হাশেমেরে নেতৃত্বে মিলন, লিটন, নাসিম, সেলিম, বাবু শফিকসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী আমাদের উপর হামলা চালায়।

এ হামলায় আমি নিজে উপজেলা ছাত্রলীগের গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক সোহেল রানা, আব্দুস সালাম, আব্দুল আলীমসহ ৮ জন আহত হয়।

আহতদের মধ্যে সোহেল রানার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারীরা সবাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আব্দুল ওয়াহাবের কর্মী সমর্থক।

আমি নিজেও মারাত্মক জখম হয়েছি ভাই, সুস্থ হওয়ার পরে মামলা করা হবে। তবে পুলিশকে বিষয়টি তাৎক্ষনিক অবহিত করা হয়েছে।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত মঙ্গলবার অভ্যন্তরীন বিরোধের জের ধরে সুজানগর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন গ্রুপের সক্রিয় কর্মী আব্দুস সালামকে মারপিট করেন সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব গ্রুপের লোকজন।

এ ঘটনায় আবুল হাশেমকে প্রধান আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করে আব্দুস সালাম।

মামলার পর পরই পুলিশ আসামি আবুল হাশেমকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জামিনে মুক্ত হয়ে আবুল হাশেমেরে নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সুজানগর বাজারে সালাম ও তারা লোকজনের উপর হামলা চালায়।

এ হামলায় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক শাহিন, উপজেলা ছাত্রলীগের গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক সোহেল রানা আব্দুস সালামসহ ৮-৯ জন আহত হয়।

আহতদের মধ্যে সোহেল রানার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুল হক আরো জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এলাকায় অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে সুজানগর বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে এখনো থানায় কোন লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি। মামলা দায়েরের পর আমরা এ বিষয়টি নিয়ে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আব্দুল ওয়াহাব বলেন, বিষয়টি আমি জানি না, ওরা আমার লোক নয় বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।