বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০১:০২ পূর্বাহ্ন

সুজানগরে বীরত্ব দেখাতে গিয়ে কিল-ঘুষি খেলেন আ’লীগ নেতা

পাবনা প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ বর্ধিত সভায় বীরত্ব দেখাতে গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যর উপস্থিতিতে নেতা-কর্মীদের হাতে কিল-ঘুষি খেয়েছেন পাবনার সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এক ইউপি চেয়ারম্যান।

এ সময় অনুষ্ঠান মঞ্চ ভাংচুর করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা রাতে উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শওকত আলী জানান, গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আহম্মদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিরাহীমপুর মীর্জা আব্দুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আব্দুল ওহাব বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি ঘোষণা করেন। তবে ওই কমিটিতে কেবল তার পছন্দের নেতা-কর্মীদের নাম থাকায় উপস্থিত অন্য ত্যাগী নেতা-কর্মীরা আপত্তি করেন এবং সমন্বয়ের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করার দাবি জানান।

কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব অন্য নেতা-কর্মীদের দাবি অগ্রাহ্য করে ওই কমিটিই চূড়ান্ত বলে হুঙ্কার ছাড়েন এবং কতিপয় নেতা-কর্মীকে অশ্লীল ভাষায় বকা দেন।

এ সময় ওই সকল নেতা-কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মঞ্চে উঠে তাকে কিল-ঘুষি মেরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আ’লীগ নেতা ও আহম্মদপুর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন সভাপতি ওহাবের পক্ষ নিলে উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা তাকেও বেদমভাবে মারপিট করে এবং সভামঞ্চ ভাংচুর করে।

পরে সভার প্রধান অতিথি স্থানীয় সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির এবং পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় আ’লীগ সভাপতি ওহাব সভাস্থল ত্যাগ করেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান বলেন, আমি ওই সভায় উপস্থিত ছিলাম না। তবে নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে যেটুকু শুনেছি তাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দায়িত্বশীল আচরণ করেন নাই।

কেননা বঙ্গবন্ধু শুধু একক কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেতা নয়, বঙ্গবন্ধু ১৬কোটি বাঙালির নেতা তথা বিশ্ববরেণ্য নেতা। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের অংশীদার আওয়ামী লীগের যে কোন স্তরের নেতা-কর্মীর পাশাপাশি একজন সাধারণ নাগরিকও হতে পারেন।

কাজেই সভাপতির উচিত ছিল সবার সাথে আলোচনা করে সার্বজনীন একটি কমিটি ঘোষণা করা।

আমিনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোমিনুল হক পিপিএম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন এই ধরনের ঘটনা আমাদের কাম্য নয়। আমরা চাই সব ধরনের সভা-সমাবেশ যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। আইনের পরিপন্থী কোন ঘটনা যেন না ঘটে।

এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবিরের মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাবকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কিল-ঘুষি খাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত নেতা-কর্মী মঞ্চে চেয়ার ছুড়ে মারেন।

পরে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং কমিটি গঠন স্থগিত হয়ে যায়।

ভিডিও


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!