সুপ্রিম কোর্টের সব মামলা অ্যাপে, ঘরে বসেই জানার সুযোগ

এখন থেকে সুপ্রিমকোর্টে বিচারাধীন মামলার যে কোনো অবস্থা ঘরে বসেই জানতে পারবেন বিচারপ্রার্থীরা।

এ লক্ষ্যে সোমবার ‘সুপ্রিমকোর্ট অব বাংলাদেশ কজ লিস্ট’ নামে নতুন একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেছেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিচার বিভাগের অগ্রযাত্রায় এটি এক নতুন সংযোজন।

সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন আয়োজিত ‘সুপ্রিমকোর্ট অব বাংলাদেশ কজ লিস্ট’ অ্যাপ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধান বিচারপতি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘বিচারপ্রার্থী জনগণের বিচারে প্রবেশাধিকারসহ ন্যায়বিচার নিশ্চিত ও বিচার প্রক্রিয়ার সব স্তরে স্বচ্ছতা আনতে সুপ্রিমকোর্ট বদ্ধপরিকর। তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হলে ডিজিটাল প্রযুক্তির দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিচারপ্রার্থীর দোরগোড়ায় তথ্য ও সেবা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্ট অনেক দূর এগিয়েছে। বর্তমানে আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চ, চেম্বার আদালত এবং হাইকোর্ট বিভাগের ১৯টি দ্বৈত বেঞ্চ এবং ১৪টি একক বেঞ্চ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচার কাজ পরিচালনা করছে। কিশোরগঞ্জের নদী-হাওর অঞ্চল এবং বিদেশে অবস্থান করেও বিজ্ঞ আইনজীবীরা ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে শুনানিতে অংশগ্রহণ করছেন।

সুপ্রিম কোর্ট অ্যাপ
‘সুপ্রিমকোর্ট অব বাংলাদেশ কজ লিস্ট’ অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে গুগলের প্লে স্টোর থেকে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, এই অ্যাপটি হবে বিচারপ্রার্থী সাধারণ জনগণের। তারা ঢাকায় না এসেও অ্যাপে অনুসন্ধান করে মামলার হালনাগাদ এবং ফলসহ সবশেষ তথ্য তাৎক্ষণিক জানতে পারবেন।

এই অ্যাপ ব্যবহারে সুপ্রিমকোর্টের বিচার কাজ আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি।

তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বিজ্ঞ আইনজীবীগণ তাদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অতি সহজে অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবেন। সুপ্রিমকোর্টের কাগজে ছাপানো দৈনন্দিন কার্যতালিকার (কজ লিস্ট) বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার জন্য অ্যাপটি সহজ হবে। ’

ডিজিটাল বাংলাদেশে খুব কম কাগজ ব্যবহার করে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান প্রধান বিচারপতি।

অ্যাপটি চালু হওয়ার ঘটনাকে বিরাট সাফল্য হিসেবে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে প্রথমবার সরকার গঠন করার পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের দ্বার উন্মোচন করেন। তার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে আজ ডিজিটালাইজেশনের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করে বিচার বিভাগও পিছিয়ে নাই। জনগণের কাছে বিচার ব্যবস্থার তথ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে আজকে যে অ্যাপ উদ্বোধন করা হলো সেটা এক বিরল দৃষ্টান্ত। এটি বিচার বিভাগের সাফল্যকে তরান্বিত করবে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের তথ্য প্রযুক্তি শাখা ও অধস্তন আদালতের বিচারক মইন উদ্দিন কাদির অ্যাপটি তৈরি করেছেন। গুগল প্লে স্টোর থেকে Supreme Court of Bangladesh Cause List নামের অ্যাপটি মোবাইল ফোনে ডাউনলোড করা যাবে।

সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকেরা ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ আইনজীবী নেতারা।