বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

সৌরজগতের বাইরে মিলল নতুন ধূমকেতু

দুই বছর পর আবারো একটি মহাজাগতিক ধূমকেতুর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সদ্য আবিষ্কৃত এই বস্তুটির নাম দেওয়া হয়েছে ধূমকেতু সি/২০১৯ কিউ ৪ (বোরিসভ)। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইনর প্লানেট সেন্টার (এমপিসি) এই আবিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। অবশ্য প্রথমে এই ধূমকেতুটির নাম দেওয়া হয়েছিল জিবি ০০২৩৪।

গত ৩০ আগস্ট বাখচিসারাই-এর ক্রিমিয়ান অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল অবজারভেটরি থেকে একজন অপেশাদার জ্যোতির্বিদ প্রথম এটিকে শনাক্ত করেন। তার নাম গেন্নাদি বরিসভ। ওই সময় এটির অবস্থান ছিল সূর্য থেকে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন বা ৪৫ কোটি কিলোমিটার দূরে। মহাজাগতিক বস্তুটির একটি ‘হাইপারবোলিক’ কক্ষপথ রয়েছে। এ কারণেই প্রমাণ হয় এটি আমাদের পরিচিত জগতের বাইরের একটি মহাজাগতিক বস্তু। হাইপারবোলিক কক্ষপথ পূর্ণ বৃত্তের পরিসরের আকার সব সময় মেনে চলে না। এটির আকার গোল হলেও তা সব সময় বৃত্তের মতো হয় না। একটি নিখুঁত বৃত্তের কেন্দ্রের কৌণিক পরিমাণ হয় শূণ্য ডিগ্রি। বহু গ্রহ, গ্রহাণু এবং ধূমকেতুর উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কেন্দ্রীয় দূরত্ব ১ থেকে ০ পর্যন্ত হয়। এর আগে ২০১৭ সালে আবিষ্কৃত হয় দীর্ঘায়িত মহাজাগতিক বস্তু ‘ওমুয়ামুয়ার’। সৌরজগত-বহির্ভূত এই বস্তুগুলোকে বিজ্ঞানীরা সাধারণভাবে ‘ইন্টারস্টেলার অবজেক্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ধূমকেতুতে সাধারণত ‘কমা’র মতো মাথা ও লেজ থাকার কথা। কিন্তু ২০১৭ সালে আবিষ্কৃত মহাজাগতিক বস্তু ‘ওমুয়ামুয়ার’র ক্ষেত্রে লেজ এবং মাথার উপস্থিতি ছিল না। কিন্তু সি/২০১৯ কিউ ৪ (বরিসভ) একটি সক্রিয় ধূমকেতু দৃশ্যমান হয়েছে লেজ এবং মাথার আকৃতি নিয়ে। ‘ওমুয়ামুয়ার’ আকৃতিতে অনেক ছোট হলেও নতুন আবিষ্কৃত ইন্টারস্টেলার অবজেক্ট অনেক বড় প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত এবং উজ্জ্বল।

‘ওমুয়ামুয়ার’ সূর্যের একেবারে নিকটবর্তী অবস্থানে যাওয়ার পর দৃশ্যমান হয়েছিল। কিন্তু জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এটি সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য উদঘাটনের আগেই সেটি দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যায়। কিন্তু নতুন আবিষ্কৃত ধূমকেতুটি পেরিহেলিয়ন অঞ্চলে পৌঁছাবে এ বছরের ১০ ডিসেম্বর। এখন থেকেই এটিকে আমাদের সৌরমন্ডলে দেখা যাচ্ছে। মাইনর প্লানেট সেন্টার (এমপিসি) থেকে এটির প্রতি লক্ষ্য রাখতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। এমপিসির হিসেব অনুযায়ী, অপ্রত্যাশিতভাবে বিলীন বা অদৃশ্য না হয়ে পড়লে এটিকে অন্তত এক বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। দূরবর্তী কোনো তারকা থেকে উত্পন্ন বস্তু হিসেবে এটি পর্যবেক্ষণে বহু তাত্পর্যপূর্ণ তথ্য মেলার সম্ভাবনা রয়েছে।

টেক্সাসের সান আন্তোনিও’র সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের জ্যোতির্বিজ্ঞানী সাইমন পোর্টার টুইট করে বলেন, ধূমকেতুটির উজ্জ্বল অগ্রভাগ থাকার কারণে আমরা কিউ ৪-এর খুব চমত্কার বর্ণালী পাবো এবং আশা করি এর ফলে আইসোটোপিক অনুপাত বের করা সম্ভব হবে। একই রাসায়নিক উপাদানের বিভিন্ন রূপকে বলা হয় আইসোটোপ। মি. পোর্টারের মতে, আমাদের সৌরমন্ডলের ধূমকেতুর চেয়ে এটির আইসোটপিক অনুপাত ভিন্ন হতে পারে।-বিবিসি

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!