স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ১৮ দিনেও ধর্ষকরা গ্রেফতার হয়নি

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনা সদর উপজেলার শানিকদিয়ার গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেয়ে ও শানিকদিয়ার হাইস্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রীর ধর্ষকদের ধর্ষণের ১৮ দিন পার হলেও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি ।

এদিকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য ধর্ষিতার পরিবারকে বারবার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে ধর্ষকরা। বিচার চেয়ে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন ধর্ষিতার বাবা-মা। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসি।

মামলার আসামীরা হলো, পাবনা সদর উপজেলার কৃষ্ণদিয়ার গ্রামের আসাদ প্রামানিকের ছেলে আব্দুল আলিম (১৯) ও তার একবন্ধু অজ্ঞাতনামা।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, গত ৩ মে সকালে উপজেলার শানিকদিয়ার গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের মেয়ে শানিকদিয়ার স্কুলে যাচ্ছিল। সে শানিকদিয়ার পোষ্ট অফিসের সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কৃষ্ণদিয়ার গ্রামের আসাদ প্রামানিকের ছেলে আব্দুল আলিম ও তার একবন্ধু মেয়েটির গতিরোধ করে এবং চরথাপ্পড় মারতে থাকে।

এ সময় মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তারা মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে পাশের একটি লিচু বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তারা হাত পা বেঁধে মেয়েটিকে উপূর্যপুরি ধর্ষণ করে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ধর্ষিতার পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ধর্ষিতা ২ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর তার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

ওইদিন রাতেই ধর্ষিতার বাবা হাফিজ প্রামানিক বাদী হয়ে আব্দুল আলিম ও তার অজ্ঞাতনামা এক বন্ধুকে আসামী করে পাবনা সদর থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা ( মামলা নং ১২/৩৬৯. তাং ৩.৫.১৭ ) করেন।

এদিকে ঘটনার ১৮ দিন অতিবাহিত হলেও এলাকার প্রভাবশালী মহলের তদবিরে ধর্ষকদের পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হেমায়েতপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই বেদার উদ্দিন এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আসামী ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধর্ষকদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রকাশ্য দিবালোকে স্কুলছাত্রী ধর্ষকেরা চোখের সামনে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার না করায় পাবনার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অবিলম্বে ধর্ষক আলিম ও তার বন্ধুকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া না হলে আগামীতে শহরে র‌্যালী, মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নারী নির্যাতন প্রতিরোধ জোটসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ।