বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস গড়লেন ফাতেমা

‘আমি মাত্র দুই মাস বয়সে মাকে হারিয়েছি’, ছলছল চোখে মায়ের কথা বলতে শুরু করেন বাংলাদেশের ইতিহাসে সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে ফেন্সিংয়ে প্রথম স্বর্ণপদক এনে দেয়া ফাতেমা মুজিব। বোনের কাছে বড় হওয়া ফাতেমা এখন লাল-সবুজের গর্ব।

এসএ গেমসে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ফেন্সিং। আর প্রথমবারই জিতে নিলেন স্বর্ণপদক। শনিবার কীর্তিপুরে অনুষ্ঠিত নারীদের স্যাবার ফাইনালে ১৫ পয়েন্টে স্বর্ণপদক জেতেন ফাতেমা। শনিবার নিজের জন্মদিন থাকায় ফাতেমার উচ্ছ্বাস ছিল আরও বেশি, ‘এটা আমার জন্মদিনের সেরা উপহার।’

২০০১ সালে ফাতেমার দু’মাস বয়সে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা যান তার মা। এরপর বড় বোন খাদিজা মুজিব অনেকটা মায়ের মতো করেই লালন-পালন করেছেন ফাতেমাকে। ১৯ বছর পার করেছেন মা’কে ছাড়া। ভাই-বোনেরা কখনই মায়ের অভাব বুঝতে দেননি।

ফাতেমার কথায়, ‘খেলার আগে মায়ের কথা মনে ছিল না। তখন শুধুই খেলা নিয়ে ভেবেছিলাম যে দেশের জন্য লড়ব। দেশকে স্বর্ণ এনে দেব। কিন্তু সোনা জয়ের পরই মায়ের কথা বারবার মনে পড়ছিল। আজ মা থাকলে অনেক খুশি হতেন।’

শুধু ফাতেমারই নয়, দিনটি বাংলাদেশের ফেন্সিংয়ের জন্যও মাইলফলক। এবারই প্রথম সাউথ এশিয়ান গেমসে যুক্ত হয় ইভেন্টটি। তাতেই বাজিমাত করেছেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের মেয়ে। অনেকটা অপরিচিত খেলাটি থেকে স্বর্ণ জিতে ফাতেমা ভাসছেন আনন্দে।

স্বর্ণের লড়াইয়ে নেপালের রাবিনা থাপাকে ১৫-১০ পয়েন্টে হারিয়েছেন। দিনটি তার জন্য স্পেশাল। এ দিনেই এসেছিলেন পৃথিবীতে। তার কথা, জন্মদিনের ব্যাপারটি আমি গোপন রেখেছিলাম। মনে মনে পরিকল্পনা করেছিলাম যে যদি জিতি, তাহলে সবাইকে বলব। আর হারলে কাউকে জানাব না। সেরা হওয়ার পরই সবাইকে জানিয়ে দিই আজ আমার জন্মদিন।’

সোনা জয়ের আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে ফাতেমা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘স্বর্ণজয়ের ব্যাপারে আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। শ্রীলংকা, ভারত এবং নেপালকে হারানোর পর স্বর্ণ জিতেছি। প্রথম বিদেশে এসে সোনা জিতলাম। এটা আমার জন্য বিশেষ কিছু।’ এর আগে কখনই বিদেশে যাননি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে চুক্তিবদ্ধ চাকরি করা ফাতেমা। বড় ভাই সাদ্দাম মুজিবও নৌবাহিনীতে চাকরি করেন।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করা এই ফেন্সার খুব একটা সিনেমা দেখেন না। তবে যোধা আকবর ছবিটি দেখার পর থেকেই নিজেকে যোদ্ধা হিসেবে ভাবেন ফাতেমা। বাবা খোরশেদ আলী দেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। মেয়ে ফাতেমার মধ্যেও সেই যুদ্ধংদেহী ভাব রয়েছে। তাই তো তলোয়ার নিয়ে পিচে লড়াই করতে নামেন।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!