শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন

স্বামীর পরকিয়ার বলি ঈশ্বরদীর ঐশি

উপজেলা করেসপন্ডেন্ট : পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় পাষণ্ড স্বামীর আঘাতে আহত হয়ে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ঐশি খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধূ।

পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর পরকিয়া প্রেমের কথা ও স্বামীর লাম্পট্য জেনে যাওয়ায় কারণে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

গৃহবধূ ঐশির আট মাস বয়সী জান্নাত নামে এক মেয়ে শিশু রয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১০ টায় পাবনা সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছেন।

তার আগে সন্ধায় ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের নুরজাহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরে স্বামী শ্বাশুড়ি এবং বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।

নিহত গৃহবধূ সাহাপুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া গ্রামের চর-আওতাপাড়া ঈশ্বরদী ইপিজেডের শ্রমিক মাহাবুল আলমের বড় মেয়ে।

ঈশ্বরদী থানায় ঐশির মা সাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারী সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামে ঘরামি হারুনের ছেলে জাহিদের সাথে বিয়ে হয়।

বিয়ের সময় মেয়ের সুখের জন্য নগদ টাকা পয়সা দিয়েও মন পায়নি। বিয়ের পর হতে যৌতুকের জন্য প্রায় নির্যাতন করতো। পরে প্রায় ৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

কিছুদিন পরে আবার ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে মোটর সাইকেল কিনে দেওয়া হয়। কিছুদিন আগে আমার মেয়ে টের পায়, তার স্বভাব ‘চরিত্র’ ভালো না, প্রায় তাদের বিবাদ লেগে থাকতো মোবাইলে সবসময় কথা বলা নিয়ে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে জামাই জাহিদের মানিব্যাগে জনৈক এক মহিলার ছবি দেখে ঐশি প্রতিবাদ করার কারণে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতনও করে।

এ বিষয়টি ঐশি বাবার বাড়িতে অবগত করলে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে আমার ভাইয়ের ছেলে অমিত ওই বাড়িতে ঐশিকে আনতে যায়। এসময় তখন তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাবার বাড়ি আসতে দেয় না। অমিত তাদের বাড়ি থেকে চলে আসার পর জামাই জাহিদ মোবাইলে গালিগালাজও করে।

তারপর শারীরিক নির্যাতন করে আমার মেয়েকে মেরে ফেলার কিছুক্ষণ পর সন্ধায় বাড়িতে খবর পাঠায়। ঐশি গলায় ফাস নিয়ে মারা গেছে।

এসময় আমরা তাদের বাড়ি থেকে খাটের ওপর অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে, ঐশিকে উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা হাসপাতালে নিয়ে গেল ডাক্তার মৃত বলে ঘোষণা করেন। এটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আমার সহজ সরল মেয়েটিকে ওরা মেরে ফেলেছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসীর উদ্দিন জানান, লাশ ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এদিকে ঐশির মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর সাহাপুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া বাশেরবাদা এলাকায় ছড়িয়ে পরলে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

0
1
fb-share-icon1


© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!