সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন

করোনার সবশেষ
করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১০২ জন, শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৯৮ জন। আসুন আমরা সবাই আরও সাবধান হই, মাস্ক পরিধান করি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি।  

স্মৃতিতে অম্লান পাবনার সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ শফিউর রহমান খান

।। এবিএম ফজলুর রহমান।।

পাবনার সাংবাদিকতা, শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের মনি কোঠায় আজও স্মৃতিতে অম্লান জেলার সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃত শফিউর রহমান খান।

আজ ৩১ জুলাই তার ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী।

১৯৩১ সালের ২৩ ডিসেম্বর পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার টাংবাড়ী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। নানা দুর্যোগ ও প্রতিকুল অবস্থার মধ্যে দিয়ে শিক্ষা জীবন শেষ করেন। ১৯৮০ সালে পাবনা থেকে সর্বপ্রথম ‘পাবনা বার্তা’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। এর পর ১৯৯১ সালে পাবনা থেকে প্রথম দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক ইছামতি’ প্রকাশ করেন।

দিনটি পালন উপলক্ষে পারিবারিক ভাবে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সকাল এগারোটায় ইছামতি কার্যালয়ে পবিত্র কোরআনখানি। বাদ যোহর আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম কার্যালয়ে এতিমদের মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে আরিফপুর সদর গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত।

বাদ আসর পাবনা জেনারেল হাসপাতাল জামে মসজিদে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। বাদ বাসমর দৈনিক সিনসা এবং বাদ মাগরিব পাবনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল।

মাওলানা ভাসানীর আদর্শে উদ্বুদ্ধ শফিউর রহমান খান সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরতে উদ্যোগী ছিলেন জীবনের শুরু থেকেই। তিনি সারাজীবন মানুষের জন্য কাজ করেছেন। মানবতাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত মানুষটি জীবনে কোনদিন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। শফিউর রহমান খানের ছদ্মনাম (লেখক নাম) ছিল এস আর খান।

১৯৫৩ থেকে ৫৮ সাল পর্যন্ত দৈনিক ইত্তেহাদের ফরিদপুরস্থ নিজস্ব সংবাদদাতা, দৈনিক মিল্লাত, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক আওয়াজ পত্রিকায় ফরিদপুরস্থ নিজস্ব সংবাদদাতা ছিলেন।

১৯৭৪ সালে পাবনা জেলা পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত পাবনা পত্রিকা এবং একই বছর ঢাকার সাপ্তাহিক আমাদের কথা‘র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন।

তিনি ১৯৮৪ সালে সাংবাদিকতায় যমুনা সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯২ সালে পাবনা জেলা সাহিত্য পরিষদের ভাস্কর উপাধি এবং ১৯৯৪ সালে সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ উত্তরণ পুরস্কার পান।

শফিউর রহমান খান বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, পাবনা জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক, আঞ্জুমান মফিদুল, পাবনা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ এডিটরস ফোরামের সদস্য, ভাসানী স্মৃতি পরিষদ, পাবনা জেলা শাখার সভাপতি, বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদের সহসভাপতি এবং পাবনা প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন।

এ ছাড়া রাজনৈতিক জীবনে তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর অনুসারী ছিলেন। মাওলানা ভাসানী শফিউর রহমান খানকে নিজের সন্তানের মত স্নেহ করতেন। পাবনায় এলে তিনি শফিউর রহমান খানের বাসায় উঠতেন। ব্যক্তি জীবনে শফি খান উদাসীন ছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী সিরাজুল হোসেন খান, আব্দুল মান্নান ভূইয়াসহ অনেক প্রখ্যাত বাম ধারার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তার ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন।

পাবনায় প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশ করে পাবনার ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া বর্তমান প্রজন্মে যে সব সাংবাদিক রয়েছেন তার অধিকাংশই শফিউর রহমান খানের কাছে হাতে খরি নিয়েছেন।
তাই এদিনটিকে পাবনার সাংবাদিকরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে থাকে।

লেখক : এবিএম ফজলুর রহমান, প্রধান সম্পাদক বার্তা সংস্থা পিপ, সাবেক সম্পাদক, পাবনা প্রেসক্লাব।

0
1
fb-share-icon1


শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের এমপি প্রিন্স

শৈশব কৈশরের দুরন্ত-দুষ্টু ছেলেটিই আজকের প্রিন্স অফ পাবনা

Posted by News Pabna on Thursday, February 18, 2021

© All rights reserved 2021 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
x
error: Content is protected !!