হত্যাকারীরা দেশ ও জাতির শত্রু : প্রিন্স এমপি

মানববন্ধনে এমপি প্রিন্স

মানববন্ধনে এমপি প্রিন্স

পাবনা জেলা প্রতিনিধি : শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকুল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পান্ডেকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্ঠান্ত মুলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন পাবনার বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

দ্রুত বিচার না হলে কঠোর কর্মসুচীর হুসিয়ারি দিয়েছেন মানববন্ধনে বক্তারা। শনিবার (১১ জুন) বিকেলে শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে নিত্যরঞ্জন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্ঠান্ত মুলক শাস্তির দাবিতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ গ্রহন করেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা-৫ আসনের এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স।

মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আব্দুর রহিম পাকন, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি চন্দন কুমার চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক বিনয় জতি কুন্ডু, পুজা উৎযাপন পরিষদের নেতা বাদল ঘোষ, সাংস্কৃকি কর্মি প্রলয় কুমার চাকী, স্বাধীন মজুমদার, প্রভাষক কোমল চন্দ্র দাস, আওয়ামীলীগ নেতা সরদার মিঠু  আহমেদ, বিজয় ভুষন রায়, শেখ রাসেল আলী মাসুদ, কামরুজ্জামান রকি,  যুবলীগ নেতা ফাহিম কবির খান শান্ত, মো. নাসিম প্রমুখ।

মানববন্ধনে গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন এসব হত্যাকান্ড রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। রাজনৈতিকভাবে দেওলিয়া হয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে কিছু রাজনৈতিক দল দেশ বিদেশী ষড়যন্ত্র করছে তারই ধারাবাহিকতা এসব ষঢ়যন্ত্র। এসব ষঢ়যন্ত্র করে বর্তমান সরকারের কোন ক্ষতি করা সম্ভব নয়। দেশের জনগণ এখন পরিষ্কার এসব ষড়যন্ত্র কারা কি জন্য করছে। এরা দেশ ও জাতির শত্রু। এদের ব্যাপারে প্রশাসনসহ সবাইকে সজাগ থাকতে হবে এবং এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

এ ব্যাপারে পাবনার বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আব্দুল মতীন খান বলেন- এই হত্যাকান্ড ঈশ্বরদীর লুক সরকারের হত্যা চেষ্ঠার সাথে মিল থাকতে পারে। এটা রাষ্ট্র ও বর্তমান সরকার বিরোধী কোন চক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। এদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দিতে হবে। তবে যারা এই ষড়যন্ত্র করছে তারা কখনও সফল হবে না।

অনুকুল আশ্রমের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক যুগল কিশোর ঘোষ জানান, নিহত নিত্যরঞ্জন পান্ডে খুবই নিরীহ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। একদম সাদাসিধে, নির্লোভ, ভাল মনের মানুষ ছিলেন তিনি। তার কোন শত্রু ছিলনা। কী কারণে তাকে হত্যা করা হলো তা বুঝে উঠতে পারছি না। আমরা এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষিদের শাস্তি চাই।

উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকুল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পান্ডে হাটাহাটি করতে বের হলে মানসিক হাসপাতালের উত্তরপাশে প্রধান ফটকের সামনে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে দূর্বৃত্তরা। নিহত নিত্যরঞ্জন পান্ডে গোপালগঞ্জ সদরের আরুয়া কংশু এলাকার মৃত রশিক লাল পান্ডের ছেলে। তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে পাবনার ঠাকুর অনুকুল চন্দ্র আশ্রমে সেবক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী ও সন্তানরা গোপালগঞ্জে থাকেন।