হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেল পাবনার চাঁন্দাই গ্রামের মানুষ

বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনা : হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেল পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের চাঁন্দাই গ্রামের মানুষ। এই এলাকায় ৮০’র দশকে নির্মিত হয়েছিলো বাইচ এর নৌকা । যে নৌকা নিয়ে বিভিন্ন নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে চ্যাম্পিয়ান হয়ে গ্রামের সুনাম বয়ে এনেছে।

এই নৌকাটির নাম ছিলো চাঁন্দাই জনতা এক্সপ্রেস। ১৯৯২ সালে বুড়িগঙ্গায় ও ৯৭ সালে গোড়রী প্রথম স্থান অধিকার করাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনে চাঁন্দাই জনতা এক্সপ্রেস। আর এটি এই এলাকার ঐতিহ্য বহন করতো বলে জানা যায়।

সুমানধন্য এই নৌকাটি পুরানো হয়ে গেলে আর পুননির্মান না করে ভেঙ্গে ফেলেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন পর এলাকার মানুষের মধ্যে নৌকা তৈরীর বাসনা জাগলে ২০১৭ সালে এই এলাকার সর্বস্থরের মানুষের সহযোগিতায় আবারও একটা নৌকা তৈরীর কাজ শুরু করে।

নৌকাটি সম্পূর্ন মেরামত কাজ শেষ হলে। প্রথমে এই নৌকা নিয়ে হাটগ্রাম সোনালী সৈকত নামক স্থানে বড়বিলে প্রথম বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে।

এখানে ফাইনাল রাউন্ডে না গেলেও দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত যেতে সক্ষম হয়। তবে না পারার বিষয়ে নৌকার মাঝি আবু সাঈদ জানান, এই এলাকায় দীর্ঘ দিন নৌকা না থাকাতে এলাকার বাইচেলরা অলস হয়ে গেছিলো। তাই ভালো অনুশীলন না থাকায় আমরা এগিয়ে যেতে পারি নাই। ভালো অনুশীলনের মাধ্যমে তারা এগিয়ে যাবে বলে জানান।

তবে এবার ২০১৯ সালে চাঁন্দাই জনতা এক্সপ্রেস পুনরায় হাটগ্রাম সোনালী সৈকত বড়বিলের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ করে পরাজিত হলেও তারা আটঘরিয়ার গোড়রী চিকনাই নদীতে অনুষ্ঠিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ানশিপ অর্জনের মাধ্যমে পুনরায় তাদের ঐতিহ্য ফিরে আনে।

এবারের বিজয়ের কারন জানতে চাইলে নৌকার মাঝি আব্দুল মান্নান জানান, আমাদের এলাকায় কয়েক বছর নৌকা না থাকাতে নৌকার বাইচেলরা ভালো বাইচ দিতে সক্ষম ছিলো না। তবে এখন ভালো অনুশীলনের কারনে আমরা আমাদের পুরানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে সক্ষম হয়েছি।

আর এলাকাবাসীদের সর্বাত্মক সহযোগিতাও ছিলো অফুরন্ত। বিশেষ করে আমাদের এলাকার নাতি, থ্রি-বাদ্রার্স এর চেয়ারম্যান মো: সোলাইমান হোসেন এই নৌকার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছেন।

কেন এই সহযোগিতার হাত? জানতে চাইলে মো: সোলাইমান বলেন, আমি ছোট বেলায় নানার বাড়ী গিয়ে এই নৌকা বাইচ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আর তখন থেকেই আমার মনে ইচ্ছা জেগেছিলো বড় হয়ে এই এলাকার নৌকার জন্য কিছু করবো। সেই ইচ্ছাটাই আমি পুরন করছি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন চাঁন্দাই জনতা এক্সপ্রেস এর জন্য আমার সহযোগিতার হাত সব সময়ই থাকবে।

চ্যাম্পিয়ান হওয়া খুব আনন্দিত এলাকাবাসী। এলাকার মেম্বার আসাদুল ইসলাম তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন পর আমরা আমাদের ঐতিহ্য ফিরে পেয়ে অনেক আনন্দিত।

প্রতি বছরই আমাদের এই নৌকা চ্যাম্পিয়ান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আসাদুল ইসলাম আরো জানান এই প্রতিযোগিতা শুধু নৌকাই চ্যাম্পিয়ান হয় নাই , নৌকার জাগেল আব্দুস সুবহান শ্রেষ্ঠ জাগেল নির্বাচিত হয়েছে। “মাদক সন্ত্রাসকে না বলি, নৌকা বাইচ নিয়ে আনন্দে চলি” এটাই প্রত্যাশা এই এলাকার মানুষের।