শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

২৩ তলা ভবনে ২৪ ইঞ্চি সিঁড়ি!

রাজধানীর বনানীতে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর ২৩ তলাবিশিষ্ট এফ আর টাওয়ারের জরুরি বহির্গমন (ইমার্জেন্সি এক্সিট) সিঁড়ির প্রস্থ মাত্র ২৪ ইঞ্চি। দুর্ঘটনার সময় এই সংকীর্ণ সিঁড়িটিই রাখা হয়েছে মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য। তবে প্রয়োজনে তা কাজে এলো না। গত বৃহস্পতিবার এই ভবনে অগ্নিকাণ্ডের দিন অধিকাংশ তলায় সিঁড়িটি ছিল বন্ধ। যেখানে ২৯টি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন নয় শতাধিক লোক। এ ধরনের একটি বহুতল ভবনে এত সরু এক্সিট সিঁড়ি রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গতকাল শনিবার একাধিক তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারাও ভবনের ইমার্জেন্সি এক্সিট সিঁড়ি ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আজ রোববার তদন্ত কমিটি গণশুনানি করবে। দুর্ঘটনাস্থলে স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোল রুমে এই শুনানিতে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও বক্তব্য শোনা হবে। এদিকে, বনানীর দুর্ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে গতকাল একটি মামলা করেছে। সুনির্দিষ্ট কাউকে, নাকি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে- এ ব্যাপারে রাত ৮টা পর্যন্ত কোনো তথ্য দেয়নি পুলিশ।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে প্রথমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা পোড়া ভবনটিতে ঢোকেন। এরপর সেখানে যান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটির সদস্যরা। বহুতল ওই ভবনে গত বৃহস্পতিবার অগ্নিকাণ্ডের পর ছয়টি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফয়জুর রহমানের নেতৃত্বে বুয়েট, ঢাকা জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও আর্মড ফোর্সেসের প্রতিনিধিসহ নয় সদস্যের তদন্ত দল এফ আর টাওয়ারে প্রবেশ করে।
পরিদর্শন শেষে ফয়জুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ভবনের ৮, ৯ ও ১০ তলায় আগুনে বেশি ক্ষতি হয়েছে। তবে কীভাবে আগুন লেগেছে, ঠিক কোন জায়গা থেকে লেগেছে, তা এখনও বলতে পারছি না। যেসব ফ্লোরে গিয়েছি, সেখানে দেখেছি অগ্নিনির্বাপণ সামগ্রী অকার্যকর ছিল।
তিনি আরও বলেন, ৩ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশা করছি। আজ সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ঘটনার সময় ৮, ৯ ও ১০ তলায় যারা ছিলেন, তাদের কথা শুনব। তারা হয়তো আগুন লাগার কারণ বলতে পারবেন। ভবনের মূল মালিক এস এম এইচ আই ফারুকের বিরুদ্ধে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রাখবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তরুণ কান্তি শিকদার বলেন, ভবনে জরুরি বহির্গমন সিঁড়িটি খুবই সরু। এত বড় ভবনের জন্য যা মোটেও যথেষ্ট নয়। ওপরের তলায় গিয়ে দেখলাম, বেশি মানুষ নিহত হওয়ার কারণ হচ্ছে এই সরু সিঁড়ি। সিঁড়িটির প্রস্থ মাত্র ২৪ ইঞ্চি। বিভিন্ন ফ্লোর মালিকরা ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন যেভাবে করেছেন, তাতে করে লোকজনকে একতলা থেকে অন্য তলায় যেতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। ভবনের টেম্পার নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আমরা বুয়েটের তদন্ত দলের জন্য অপেক্ষা করছি। তারা এসে ভবন পরীক্ষার পর আমরা বলতে পারব, ভবনটি কতটা ঝুঁকিতে আছে।
ইমার্জেন্সি এক্সিট সিঁড়ির ব্যাপারে তদন্ত কমিটির দুই সদস্যের সঙ্গে কথা হয়। একজন জানালেন, সিঁড়িটির প্রস্থ ২৪ ইঞ্চির মতো। আরেকজন জানালেন, ২৮ থেকে ৩০ ইঞ্চি হতে পারে। মোটকথা, সিঁড়ির প্রস্থ কোনোভাবেই দুই থেকে আড়াই ফুটের বেশি নয়। এত বড় ভবনে এত ছোট এক্সিট সিঁড়ি কেন রাখা হয়েছে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করলেন দু’জনেই।
আগুন লাগার পর থেকে এফ আর টাওয়ারের সামনের কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর একটি অংশে যান চলাচল এখনও বন্ধ রয়েছে। পেছনের ১৭ নম্বর সড়কেও যান চলাচল বন্ধ। তবে গতকাল অনেকে এসে এফ আর টাওয়ারের পার্কিংয়ে থাকা তাদের মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার নিয়ে গেছেন।

এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত অন্য দুই তদন্ত কমিটি কার্যক্রম শুরু করেছে। এফ আর টাওয়ারের নকশা অনুমোদন এবং নির্মাণ-সংক্রান্ত ত্রুটি-বিচ্যুতি খুঁজে দেখা হবে তাদের মূল কাজ। গতকাল শনিবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা রাজউক কনফারেন্স হলে প্রথম বৈঠক করেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ভবনটি নির্মাণের সময় অনুমোদনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের চিহ্নিত করা, অনুমোদনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি-না, হলে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তলার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে কি-না এ ধরনের বিষয় খুঁজে দেখবে কমিটি। এ জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাজউকের কাছে চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বৈঠকে উপস্থিত কমিটির একজন সদস্য জানিয়েছেন। তবে তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি। রাজউকের কাছ থেকে কাগজপত্র পাওয়ার পর শিগগির আবারও বৈঠক হবে বলে জানান তিনি।

error20
fb-share-icon0
Tweet 10
fb-share-icon20


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
error: Content is protected !!