সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

৩০৫ রান করেও সাদামাটা বোলিংয়ে বিরাট হার

৩০৫ করেও সাদামাটা বোলিংয়ে বিরাট হার

image_pdfimage_print

স্পোর্টস ডেস্ক : তামিম-মুশফিকরা যখন ব্যাট করছিলেন, গ্যালারিতে তখন লাল সবুজের উৎসব। সাকিব-রুবেল-মোস্তাফিজদের সাদামাটা বোলিংয়ে সেই উৎসব ক্রমেই ম্রিয়মান হতে লাগলো। এবং জয় দেখার আশায় বসে থাকা হাজার হাজার টাইগার সমর্থক অবশেষে ফিরে গেলেন ভাঙা হৃদয় নিয়ে। দারুণ সুযোগ পেয়েও বাংলাদেশের ওভাল জয় হয়ে উঠলো না এ যাত্রায়।

গর্বের ব্যাটিংয়ের পর হতাশার বোলিং। বিরাট স্কোর করেও বোলিং ব্যর্থতায় কষ্টের হার। বুধবার কেনিংটনের দ্য ওভালে ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে হেরে হতাশা দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরু করলো বাংলাদেশ।

প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৩০৫ রান করেছিল টাইগাররা। তবে বিরাট এ টার্গেটে পৌঁছাতে মোটেও কষ্ট হয়নি ইয়ন মরগ্যানের দলের। ১৬ বল বাকি থাকতে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে স্বস্তির জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড।

গত দুই বছরে অসাধারণ দল হয়ে উঠেছে ইংল্যান্ড। অহরহই তারা তিনশ সাড়ে তিনশ রান করছে। এর মধ্যে চারশ রানও করে ফেলেছে একবার! ওভালের কন্ডিশন, উইকেট একেবারেই সহজ হয়ে গেছে। ৩০৬ রান বড় টার্গেট, কিন্তু দুর্দান্ত এই ইংল্যান্ড দলের কাছে খুব বেশি বড় নয়।

দরকার ছিল শুরুতে উইকেট নিয়ে চাপে ফেলা। সেই কাজটা এদিনও মাশরাফি কল্যাণে হলো। ব্যক্তিগত ১ রানে জ্যাসন রয়কে ফিরিয়ে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু এর পরের গল্প একেবারেই সাদামাটা। সাদামাটা পেস বোলিং, সাদামাটা স্পিন। আলেক্স হেলস ও জো রুটকে মোটেও টলাতে পারলেন না বাংলাদেশি বোলাররা। মাত্র ৬ রানের মাথায় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও আস্থার সঙ্গে সেই চাপ কাটিয়ে উঠে স্বাগতিকরা।

হেলস-রুটের ১৫৯ রানের মহামূল্যবান জুটিতেই মূলত শেষ বাংলাদেশ। মাত্র ৮৬ বলে ৯৫ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে হেলস সাব্বিরের বলে আউট হলেও ম্যাচে ফেরার অবস্থা তৈরি হয়নি। জো রুটের সঙ্গে এরপর সাবলীল ব্যাটিং করে গেলেন অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান। হেলস ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও ঠিকই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন জো রুটস। তিনি সেঞ্চুরি করেন ১১৫ বলে। তার একটু আগেই ৪৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করে ফেলেন অধিনায়ক ইয়ন মরগান। ১৬ বল বাকি থাকতে এ জুটি অবিচ্ছিন্ন থেকে বিরাট জয় এনে দেন ইংল্যান্ডকে। রুট ১৩৩ এবং মরগ্যান ৭৫ রান করে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে তামিম ইকবালের তুখোড় সেঞ্চুরি (১২৮), মুশফিকের ক্ল্যাসিক ইনিংসে (৭৯) ৬ উইকেটে ৩০৫ রানের বিরাট স্কোর তোলে বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এর আগের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ২৮৮। ২০১৬ সালে ঢাকাতে ওই রান করেছিল টাইগাররা। টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে শুরুটা মোটামুটি ভালো করলো বাংলাদেশ।

১২ ওভারে বিনা উইকেটে ৫৬। বলতে বলতেই ৩৪ বলে ২৮ রান করে ফিরে গেলেন সৌম্য। তামিম আগের চেয়েও পরিণত। মাথা ঠান্ডা রাখতে শিখেছেন ভালোভাবে। ওভালে এদিনও মাথা ঠান্ডা রাখলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র কয়েকদিন আগেই সেঞ্চুরি হাঁকানো তামিম ইকবাল।

ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ৩৯ রানের জুটি। ২০ বলে ১৯ করে ফিরেন ইমরুল। তামিম-মুশফিক। বাংলাদেশ দলের সেরা দুই ব্যাটসম্যান। গত ৭-৮ বছর ধরে এটা প্রমাণিত। ওভালে বড় ম্যাচে সেটা আরেকবার দেখিয়ে দিলেন তারা।

৭১ বলে হাফ সেঞ্চুরি। একটু ধীরস্থির হয়েই তামিম ব্যাট করলেন শুরুতে। কিন্তু মুশফিকের হাত শুরু থেকেই খোলা। একবারে ভয়ডরহীন ব্যাটিং। ৪৮ বলে তুলে নিলেন হাফ সেঞ্চুরি। ওদিকে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করার পর তামিমও হাত খুলে ব্যাটিং শুরু করে দেন।

২০১০ সালে ঢাকাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তামিম করেছিলেন ১২৫ রান। কিন্তু ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের মাঠে সেঞ্চুরি ছিল না তার। ওভালে কী পারবেন? হ্যাঁ, পারলেন তামিম ইকবাল খান। ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরিটা পূরণ করেন ১২৪ বলে। শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন ১২৮ রানের (১৪২ বলে) তুখোড় ইনিংস খেলে।

দলকে বড় স্কোর দোরগোড়ায় রেখে গিয়ে যখন আউট হলেন তখন গ্যালারিতে করতালি। সবাই দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানালেন এই ড্যাসিং ওপেনারকে। শুধু বাঙালি নন, সেই অভিবাদনে সামিল ব্রিটিশরাও।

তামিম যে বলে আউট হলেন তার পরের বলেই আউট হয়ে যান মুশফিকুর রহিম। ৭২ বলে ৭৯ রানের ক্লাসিক ইনিংস খেলে। তামিম-মুশফিকের ১৬৬ রানের পার্টনারশিপ। দলকে আর কী দিবেন তারা?

মুশফিক আউট হবার পর তখন ৩৮ বল বাকি। হাতে ছয় উইকেট। তখন রান ছিল ২৬১। আরও ৫০ রান হবে তো? না হয়নি । শেষটা খুব ভালো হয়নি। সাব্বির ১৫ বলে ২৪ করলেও ৩০৫ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের স্কোর। অথচ ফিনিংশ আরো ভালো হলে ৩২০ রান হতে পারত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: আট উইকেটে জয়ী ইংল্যান্ড

বাংলাদেশ ইনিংস: ৩০৫/৬ (৫০ ওভার)

(তামিম ইকবাল ১২৮, সৌম্য সরকার ২৮, ইমরুল ১৯, মুশফিকুর রহিম ৭৯, সাকিব আল হাসান ১০, সাব্বির রহমান ২৪, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ রিয়াদ ৬*, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ২*; ক্রিস ওয়েকস ০/৪, মার্ক উড ০/৫৮, জেক বল ১/৮২, বেন স্টোকস ১/৪২, লিয়াম প্লানকেট ৪/৫৯, মঈন আলী ০/৪০, জো রুট ০/১৮)।

ইংল্যান্ড ইনিংস: ৩০৮/২ (৪৭.২ ওভার)

(জ্যাসন রয় ১, আলেক্স হেলস ৯৫, জো রুট ১৩৩*, ইয়ন মরগ্যান ৭৫*; মাশরাফি বিন মর্তুজা ১/৫৬, সাকিব আল হাসান ০/৬২, মোস্তাফিজুর রহমান ০/৫১, সৌম্য সরকার ০/১৩, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ০/৪৭, রুবেল হোসেন ০/৬৪, সাব্বির রহমান ১/১৩)।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: জো রুট (ইংল্যান্ড)


পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

পাবনার কৃতী সন্তান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

Posted by News Pabna on Tuesday, August 18, 2020

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

পাবনার কৃতি সন্তান নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা

Posted by News Pabna on Monday, August 10, 2020

© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!