রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:১০ অপরাহ্ন

৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করলেন তিনি

ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। এই প্রবাদের মতো ইচ্ছা পূরণ করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত কামাত গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান (৫৪)। অনেক বাধা পেরিয়ে তিনি এখন এসএসসি পাস। কারিগরি বোর্ডের অধীনে জিপিএ ৪ পেয়ে সবার মুখে মুখে তিনি। ফেসবুকেও আবদুল হান্নান এখন ভাইরাল।

জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ মঞ্জুরের ছেলে আবদুল হান্নান পেশায় একজন কৃষক। শৈশবে বাবাকে হারিয়ে এবং যুদ্ধের সময়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে মা, বোন, ভাইসহ পাঁচজনকে নিয়ে যখন দিশেহারা, তখন ঠাঁই হয় চাচার বাড়িতে। ২০ বছর বয়সে মায়ের চাপে বিয়ে করে সংসারের হাল ধরেন পুরোদমে। তবে পড়ালেখা করতে না পারার আক্ষেপ মেটাতে বাড়ির পাশে বিদ্যালয়ের দানকৃত জমিতে গড়ে ওঠে কামাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এক ছেলে বাবার সঙ্গে কাজে যোগ দেয়। তার অন্য দুই ছেলেকে শিক্ষিত করার পাশাপাশি নিজে অন্তত এসএসসি পাস করবেন এমন ইচ্ছা হয় তার। দুই মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর ছেলেদের সঙ্গে বাড়ির পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন তিনি। পরে ভর্তি হন তেলকুপি জামিলা স্বরণি ভোকেশনাল স্কুলে। অনেকের নিন্দা ও বিরূপ মন্তব্যের মধ্যেও তিনি চালিয়ে যান পড়ালেখা। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে জিপিএ ৪ দশমিক ১১ পান আবদুল হান্নান। তার এমন সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে তার বাড়িতে ভিড় করতে থাকে স্থানীয়রা। চলছে মিষ্টি বিতরণ।

আবদুল হান্নানের ভাবি জরিনা বেগম জানান, তার দেবর মাঝেমধ্যেই তার বাড়িতে এসে নাতির বই নিতে যেতেন। অনেক সময় এ নিয়ে তাকে সমালোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত সে মনোবল হারায়নি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার পাসের খবরটি পেয়ে আমরা ভীষণ আনন্দিত। আনন্দে আত্মহারা তার ছেলেরাও।
স্থানীয় বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র আবদুল হান্নানের বড় ছেলে জাহিদ হাসান জনি জানায়, তিনি গর্বিত। তার বাবা নিন্দুকদের মুখে ছাই দিয়ে এসএসসি পাস করেছেন।

অপর ছেলে নাহিদ হাসান রনি জানায়, বাবার এমন ফল তার জন্য বড় অনুপ্রেরণা। এটিকে কাজে লাগিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফল করার স্বপ্ন তার।
এ বিষয়ে আবদুল হান্নান বলেন, শিক্ষা গ্রহণে বয়স বাধা হতে পারে না। ইচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব। আর আমি এ শিক্ষা নিয়ে এলাকার গরিব ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করে তুলব ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠান। শিক্ষিতের হার বাড়লে বাড়বে দেশের নাম।

বিনোদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. কলিমুদ্দিন হোসেন জানান, আবদুল হান্নানের মতো বৃদ্ধ ব্যক্তির পক্ষে জিপিএ ৪ পাওয়ায় তারা গর্বিত। তাকে দেখে এলাকার ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি অন্যরাও উদ্বুদ্ধ হবে। এলাকার গণ্যমান্যরা তাকে ঘিরে আনন্দে বিমোহিত। তিনি প্রমাণ করলেন, শিক্ষার কোনো বয়স নেই।


© All rights reserved 2022 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com