শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২১, ১১:৩৫ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

চিকিৎসক সংকটে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

চিকিৎসক সংকটে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

image_pdfimage_print

চিকিৎসক সংকটে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

বার্তাকক্ষ : প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ৫০ শয্যার ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চলছে মাত্র তিনজন চিকিৎসক দিয়ে। অথচ বেড়া উপজেলা ও এর পাশের আরও চারটি উপজেলার রোগীরা এখানে চিকিৎসার জন্য আসেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উন্নত যোগাযোগব্যস্থার কারণে বেড়া উপজেলার পাশের সাঁথিয়া, সুজানগর, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার রোগীরা এখানে আসেন। এ ছাড়া বেড়ার রোগীদের চাপ তো আছেই।

রোগীর চাপের কথা বিবেচনায় এনে এটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয় ২০০৬ সালে। ৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবনসহ অবকাঠামো তৈরি করে ২০১১ সালে সেগুলো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর ওই বছরেরই ৭ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া যায় ৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন। প্রশাসনিক অনুমোদন মিললেও আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি ৫০ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের অনুমোদন।

ফলে কাগজে-কলমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সেটি রয়ে গেছে ৩১ শয্যার পর্যায়েই। তবে ৩১ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসকও নেই।

৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন আবাসিক চিকিৎসক, অবেদনবিদ, জুনিয়র কনসালট্যান্ট-গাইনি, মেডিসিন, সার্জারিসহ চিকিৎসকদের নয়টি পদ রয়েছে। কিন্তু এখানে আছেন মাত্র তিনজন। অন্যদিকে, ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ১৮ জন চিকিৎসক থাকার কথা। এ ছাড়া নার্স, আয়া, পিয়নসহ অন্য কর্মচারীদের পদও আনুপাতিক হারে বেশি থাকার কথা।

সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন ভবনে ১৯ শয্যার একটি ওয়ার্ড, আধুনিক অস্ত্রোপচারকক্ষ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বার রয়েছে। কিন্তু লোকবল না থাকায় সেগুলোতে কার্যক্রম চলছে না। ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের জন্যও এখানকার রোগীদের স্থানীয় ক্লিনিক অথবা পাবনা সদরসহ অন্য এলাকার হাসপাতালে যেতে হয়।

ভুক্তভোগীরা বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা না মেলায় বেড়া ও কাশীনাথপুরে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ক্লিনিক। সেখানে অবেদনবিদ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আধুনিক অস্ত্রোপচারকক্ষ ছাড়াই দেদার চলছে অস্ত্রোপচার। বিশেষ করে সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

এতে ক্লিনিকগুলোতে প্রায়ই মা অথবা সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। অথচ বেড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক অস্ত্রোপচারকক্ষ থাকা সত্ত্বেও লোকবলের অভাবে জরুরি মুহূর্তে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার করানো যাচ্ছে না।

বেড়া পৌর এলাকার হাতিগাড়া মহল্লার এনামুল হক বলেন, ‘কয়েক দিন আগে সন্তানসম্ভবা আমার এক আত্মীয়কে নিয়ে বেড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে কোনো সেবা পাইনি। সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর সিজার করানোর জন্য পাবনার একটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে বাচ্চাটিকে বাঁচাতে পারিনি।

বেড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আধুনিক অপারেশন থিয়েটারে সময়মতো অপারেশন করানো গেলে বাচ্চাটিকে হয়তো বাঁচানো যেত। চিকিৎসকবিহীন এমন আধুনিক ভবনের হাসপাতাল দিয়ে আমাদের কী হবে?’

১৯ ডিসেম্বর সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি। সারিতে দাঁড়ানো সাঁথিয়া উপজেলার তলট গ্রামের ফারুক হোসেন বলেন, ‘অসুইখ্যা শরীল নিয়্যা এক ঘণ্টা দাঁড়ায়া আছি। আর পারত্যাছি না।’

জরুরি বিভাগেও দেখা গেছে রোগীদের অত্যধিক চাপ। সেখানে চিকিৎসা কর্মকর্তা (এমও) আলী রেজা ফারুক জরুরি বিভাগের রোগীদের পাশাপাশি বহির্বিভাগের রোগীদেরও চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।

রোগী দেখার ফাঁকে তিনি বলেন, ‘দিনে-রাতে যন্ত্রের মতো আমাদের কাজ করে যেতে হচ্ছে। এমন একটি ব্যস্ত হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানো উচিত।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আইয়ুব হোসেন বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রচুর রোগীর চাপ। চিকিৎসক-সংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। ৫০ শয্যার প্রয়োজনীয় জনবল অনুমোদনের জন্যও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!