শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৯:০৪ অপরাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

ওবামার ‌উচ্ছৃঙ্খল জীবনের কথা জানালেন সাবেক প্রেমিকা

ওবামার ‌উচ্ছৃঙ্খল জীবনের কথা জানালেন সাবেক প্রেমিকা

image_pdfimage_print

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে ‘‌উচ্ছৃঙ্খল’‌ জীবনযাপন ত্যাগ করেছিলেন বারাক ওবামা। হাত ধরেছিলেন গুরুগম্ভীর মিশেল ওবামার। দাবি জেনিভিভ কুকের। বারাক ওবামার সাবেক প্রেমিকা এই জেনিভিভ কুক। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী ডেভিড জে গ্যারোর লেখা ‘রাইজিং স্টার:‌ দ্য মেকিং অফ বারাক ওবামা’‌ বইয়ে এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি।

তিনি জানিয়েছেন, ১৯৮৩ সালে বর্ষবরণের রাতে ওবামার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই দু’‌জনে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ওবামার ম্যানহ্যাটনের ফ্ল্যাটে নিয়মিত যাতায়াত ছিল কুকের। এক সময় সেখানে থাকতেও শুরু করে দেন। প্রায়ই এক সঙ্গে মাদক সেবন করতেন তারা। দুই পাকিস্তানি বন্ধুকে বাড়িতে ডেকে এক সঙ্গে কোকেন নিতেন ওবামা। তাদের যৌনজীবনও ছিল উদ্দাম।

লস এঞ্জেলসের অক্সিডেন্টাল কলেজে পড়ার সময়, কলেজের অধ্যাপক লরেন্স গোল্ডিনের সঙ্গে সমকামিতার সম্পর্ক হয়েছিল ওবামার। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে লরেন্স গোল্ডিনের আর্জিতেই সমকামীদের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ করেছিলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

১৯৮৫ সাল নাগাদ কুক আর ওবামার সম্পর্কে ছেদ পড়ে। এরপর বেশ কয়েকবার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ওবামা। যাদের মধ্যে নৃতত্ত্বে পিএইচডি করা তরুণী শায়লা মিয়োসি জ্যাগারের সঙ্গে ওবামার সম্পর্ক অনেকদিন টিকেছিল। এমনকী মিশেল তার জীবনে আসার পরেও লুকিয়ে শায়লার সঙ্গে দেখা করতেন ওবামা।

১৯৮৬ সালে শায়লার মা–বাবার সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। কিন্তু ওবামার সঙ্গে মেয়ের বিয়েতে আপত্তি ছিল তাদের। তা সত্ত্বেও দু’‌জনের মধ্যে সম্পর্ক টিকেছিল। কিন্তু সেই সময়ই ১৯৮৭ সাল নাগাদ ওবামার জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। হইহুল্লোড়, রসিকতা ছেড়ে নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ার নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে শুরু করেন।

মিশেলের দৌলতেই আচমকা ওবামার মধ্যে এমন বদল আসে বলে দাবি করেছেন শায়লা। তার দাবি, ওই সময় নিজের আফ্রিকান–আমেরিকান পরিচয় নিয়ে আরও সচেতন হয়ে পড়েন ওবামা। শ্বেতাঙ্গ কোনও মহিলাকে বিয়ে করলে রাজনৈতিক জীবনে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা জন্মায়। ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে শায়লার সঙ্গে।

হার্ভার্ড চলে যাওয়ার পরে শায়লার সঙ্গে একেবারেই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় ওবামার। মিশেলকে লুকিয়ে দু’-এক‌বার এসেছিলেন বটে। বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। কিন্তু তা বেশি দূর এগোয়নি। এরপর মেরি অ্যান লেনা নামের এক ডিভোর্সি সমাজকর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয় ওবামার। সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ওবামা। কিন্তু ১৯৯২ সালে বিয়ের পরে আদ্যোপান্ত পাল্টে যান বারাক ওবামা। পুরনো প্রেমিকাদের সঙ্গে যোগাযোগ একেবারে বন্ধ করে দেন তিনি।

নিজের পরিবার ও মার্কিন রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন। তারপরের ঘটনা তো সকলেরই জানা। ২০০৮ সালে আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বারাক ওবামা। দেশের প্রথম আফ্রিকান–আমেরিকান প্রেসিডেন্টও তিনি।

গত ৯ মে ‘রাইজিং স্টার:‌ দ্য মেকিং অফ বারাক ওবামা’ প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের আত্মজীবনী লিখে পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিলেন ডেভিড গ্যারো।

0
1
fb-share-icon1

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!