বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন

আতঙ্কিত হবেন না
করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে মিয়ানমার: সিপিএ

রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে মিয়ানমার: সিপিএ

image_pdfimage_print

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ মিলিশিয়া কর্তৃক রোহিঙ্গাদের উপর চলমান নিধনজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সদস্যরা। সিপিএ সম্মেলনে আগত এমপিরা রোববার রোহিঙ্গাদের উপর নিপীড়ন ও হত্যার কঠোর নিন্দা জানান। একইসঙ্গে তাদেরকে অবিলম্বে স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ারও প্রস্তাব দেন তারা। এর আগে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সিপিএ সদস্যদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী। মন্ত্রীর বিফ্রিং শেষে সদস্যরা তাদের মতামত ও প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেন।

এসময় তারা প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও খাদ্য দেয়ায় বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নৃতাত্ত্বিক ইতিহাস সিপিএ সদস্যদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার তাদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। এজন্য তারা আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

মিয়ানমার কর্তৃক এই গণহত্যা বন্ধ এবং মিয়ানমারের উপর চাপ বাড়ানোর জন্য সদস্যরা সিপিএ-তে একটি রেজ্যুলেশন গ্রহণের প্রস্তাব দেন।

অসহায় রোহিঙ্গাদের দুর্দশার বর্ণনা দিয়ে প্রতিনিধিরা বলেন, এই গণহত্যা ফলে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে খারাপ অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট অবসানে আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন তারা।

মালদ্বীপের স্পিকার আবদুল্লাহ মাসেহ মোহাম্মদ বলেন, ‘গত এক দশক ধরে রোহিঙ্গা জনগণের উপর অত্যাচার হচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন। এটি একটি গণহত্যা। আমরা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি।’

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার জন্য আমরা একটি রেজ্যুলেশন আনতে পারি।’

সাউথ ওয়েলসের প্রাক্তন জাতীয় পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আসগর বলেন, ‘আমি রোহিঙ্গাদের কষ্ট বুঝতে পারছি। সেই সঙ্গে অনুমান করতে পারছি রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বিরাট বোঝা। মিয়ানমার সরকারকে নিন্দা জানাতে ও তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে আমাদের ঐক্যমত্যে পৌঁছতে হবে। আমি মিয়ানমারকে অবিলম্বে তাদের জনগণকে ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নফিসা শাহ বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের উপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে পাকিস্তানের সংসদ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমরা বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে ও তাদের নাগরিকত্ব দেবে- এটাই আমাদের দাবি।’

কানাডার সিনেটর সালমা আতাউল্লাজান বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইনের ঘটনা একটি গণহত্যা। আমরা শরণার্থীদের পুনর্বাসন দেখতে চাই। আমরা কৃতজ্ঞ যে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। তবে মিয়ানমারকেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।’

যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের লর্ড ফাউলস বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রতি সমর্থন প্রদানের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করি আমরা। এটা স্পষ্টভাবে একটি গণহত্যা। এতে সন্দেহ নেই।’

এসময় রোহিঙ্গা শরণার্থী যারা এখন ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে, তাদের দেখার জন্য সিপিএ প্রতিনিধিদের যাতে কক্সবাজার নিয়ে যাওয়া সে প্রস্তাব করেন তিনি।

লর্ড ফাউলস আরও বলেন, ‘আমি ২৩ শে নভেম্বর হাউস অব লর্ডসে রোহিঙ্গা সমস্যা উত্থাপন করব। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না করেই যদি আমরা বাংলাদেশ ছেড়ে যাই তবে এটা অন্যায় হবে।’

দক্ষিণ আফ্রিকার ডেপুটি স্পিকার লেইচে তাসনিলি বলেন, ‘রোহিঙ্গা নির্যাতনের কঠোর নিন্দা করছি। রোহিঙ্গাদের প্রতি আমাদের সংহতি পাঠানো উচিত। আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি রেজ্যুলেশন গ্রহণ করতে পারি।’

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের গণহত্যার মুখে এখন পর্যন্ত প্রায় সোয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। অব্যাহত এই গণহত্যায় কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে।

Best WordPress themes


© All rights reserved 2020 ® newspabna.com

 
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!