News Pabna
ঢাকামঙ্গলবার , ২ আগস্ট ২০২২

লিটন চাননি বলেই নেতৃত্বে মোসাদ্দেক!

Faysal Mahmud
আগস্ট ২, ২০২২ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিসিবির সঙ্গে কেন্দ্রীয় চুক্তির তিন সংস্করণের কোনটিতেই ছিলেন না মোসাদ্দেক হোসেন। তবুও শেষ ম্যাচে মোসাদ্দেককেই অধিনায়ক হিসেবে বেছে নিলো বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা! অধিনায়কের পদে মোসাদ্দেককে দেখে নির্বাচন প্রসেস নিয়ে প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক। একজন ক্রিকেটার যেখানে কোন ফরম্যাট বিবেচনায় ছিলেন না সেখানে হুট করেই নেতৃত্ব পাওয়াটা বিস্ময়ের! তবে প্রেক্ষাপটটা এমন ছিলো না টিম ম্যানেজমেন্ট শেষ ম্যাচের জন্য অধিনায়ক হিসেবে চেয়েছিলেন লিটন দাসকে। কিন্তু লিটন অধিনায়কত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানালে টিম ম্যানেজমেন্ট মোসাদ্দেককেই বেছে নিতে বাধ্য হন।

হাসান মাহমুদের বলে চোট পেয়ে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে যান অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। এরপরই শেষ ম্যাচের অধিনায়ক নিয়ে আলোচনায় বসেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। দলের প্রথম পছন্দ ছিলো লিটন। কেননা গত নিউজিল্যান্ড সফরে মাহমুদউল্লাহর ইনজুরিতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল লিটনের। ওই হিসেবে টেস্টের সহ-অধিনায়ককেই শেষ ম্যাচে টস করার প্রস্তাব দিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে লিটনকে শেষ ম্যাচের জন্য অধিনায়কের প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি তার নিতে অস্বীকৃতি জানান। টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মাহমুদউল্লাহকে বিশ্রাম দিয়ে জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় নুরুল হাসান সোহানকে। শেষ ম্যাচে তাই লিটনকে প্রস্তাব দেওয়া হলে লিটন জানিয়েছেন আগে যেহেতু তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়নি, এখন মাঝপথে তিনি দায়িত্ব নেবেন না। লিটনের এমন সিদ্ধান্ত দলের শৃঙ্খলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে!

যদিও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস জানিয়েছেন ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতেই নাকি অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে চাননি লিটন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘অধিনায়ক লিটনেরই হওয়ার কথা ছিল। ওকে প্রস্তাবও করা হয়েছিল। প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ও রাজী হয়নি। সে ফর্মে আছে। এই অবস্থায় অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে চায়নি।’

এদিকে বিশ্রামের দোহাই দিয়ে জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেই বাদ দেওয়া হয়েছিল মাহমুদউল্লাহকে। কিন্তু সোহানের ইনজুরিতে হুট করেই বিশ্রাম ভেঙ্গে ফেরানো হলো সাবেক অধিনায়ক বনে যাওয়া এই অলরাউন্ডারকে। ঠিক কী কারণে মাহমুদউল্লাহ দলে সেটির উত্তর পাওয়া যায়নি নির্বাচকদের কাছ থেকে। দুই নির্বাচককেই ফোন করা হলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোর্ড প্রধান নাজমুল হোসেন পাপনের কথাতেই মাহমুদউল্লাহকে দলে নেওয়া হয়েছে! যদিও এ ব্যাপারে কারও কাছ থেকেই মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জালাল ইউনুস জানিছেন, টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়াতেই মাহমুদউল্লাহকে শেষ ম্যাচে নেওয়া হয়েছে।

অধিনায়ক পরিবর্তনসহ হুট করে মাহমুদউল্লাহকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যেই গলদ দেখা গেছে। দল নির্বাচনের কোনও প্রসেসে না গিয়ে বার বার অপেশাদার আচরণ করে চলছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অথচ যোগাযোগ ঘাটতি যেন না হয় এই কারনে খালেদ মাহমুদ সুজনকে টিম ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দলের হ-য-ব-র-ল অবস্থা দেখে বোঝা কঠিন, ঠিক কতখানি সফলতার সাথে টিম ডিরেক্টরের দায়িত্বটা পালন করতে পারছেন সফল সাবেক এই অধিনায়ক।