News Pabna
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৪ নভেম্বর ২০২২

ককটেল বিস্ফোরণ, পাবনায় বিএনপির ৬ শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা 

ডেস্ক নিউজ
নভেম্বর ২৪, ২০২২ ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গত কয়েকদিনে পাবনার সাতটি উপজেলা ও থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ১৮টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ২০টি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির ৬০০ নেতা-কর্মীকে আসামি করে ৭টি মামলা করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) রাতে ও বুধবার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। কোনো মামলায় পুলিশ আবার কোনো মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বাদী হয়েছেন। তবে এসব মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

আর ককটেল বিস্ফোরণ, ককটেল উদ্ধারের মামলাগুলোকে ‘সাজানো ও গায়েবি মামলা’ হিসেবে দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, আগামী ৩ ডিসেম্বর বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ বানচালের ষড়যন্ত্রে এসব মামলা।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) হাদিউল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস হাইস্কুলে নাশকতার উদ্দেশ্যে বিএনপি নেতাকর্মীরা বৈঠক করছিলেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় ছয়টি অবিস্ফোরিত ককটেল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় থানার এসআই শীতল কুমার বাদী হয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজমল হোসেন সুজনসহ ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ১৬০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ভাঙ্গুড়া পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার সময় হঠাৎ চারটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল জব্দ করে।

এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সদস্য সাইদুল ইসলাম বুরুজসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টার দিকে পৌর সদরের কড়ইতলা মোড়ে দলীয় অফিসে বসে খেলা দেখছিলেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

এ সময় হঠাৎ অফিসের পাশে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল জব্দ করে। এ ঘটনায় পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম মুকুল বাদী হয়ে বুধবার দুপুরে একটি মামলা করেছেন। মামলায় বিএনপির ১০ নেতার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, পৌর সদরের আফ্রাতপাড়ায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড ফুড অ্যান্ড বেভারেজের মালিক হাসাদুল ইসলাম হীরার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মঙ্গলবার রাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছিলেন।

খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত অবস্থায় চারটি ককটেল জব্দ করে।

এ ঘটনায় নাশকতার অভিযোগ এনে পুলিশ বিএনপি নেতা হাসাদুল ইসলাম হীরাসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৯০ জন বিএনপি নেতা-কর্মীকে আসামি করে মামলা করে।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, নতুন কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ ও শক্তি প্রদর্শনের মহড়া চলছে কয়েকদিন ধরে। পৌর সদরের ভবানীপুর মোড়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছিল। সেখানে ৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল জব্দ করে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাতে আতাইকুলায় একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ সময় একটি অবিস্ফোরিত ককটেল জব্দ করেছে পুলিশ। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার ধোপাদহ ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামে মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বৈঠক করার সময় ৩টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল জব্দ করে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা মনছুর আলী বাদী হয়ে বিএনপির ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এর আগে গত ২১ নভেম্বর পাবনা শহরের খেয়াঘাট সড়ক এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক ও নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টার অভিযোগে জেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সাতজনের নাম উল্লেখসহ ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় দুটি ককটেল জব্দ করে পুলিশ।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, ‘এসব ঘটনা স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সাজানো নাটক। মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করার ষড়যন্ত্রের অংশ। আগামী ৩ ডিসেম্বর বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে যাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নিতে না পারে, সেজন্যই এসব ঘটনা সাজানো হয়েছে।’

বিএনপির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল রহিম লাল বলেন, ‘নিজেদের বাঁচাতে বিএনপি মিথ্যা কথা বলছে। তারা নিজেরাই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। নাশকতার চেষ্টা করছে। কারণ তারা নাকি ১০ ডিসেম্বরের পর থেকে দেশ চালাবে! এজন্য তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে।’

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মাসুদ আলম বলেন, ‘ঘটনা যা ঘটছে, তার আলোকে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, মামলা নিচ্ছে। পুলিশ জনগণের জানমাল রক্ষা আর নিরাপত্তায় তাদের দায়িত্ব পালন করছে। সব ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

error: Content is protected !!