News Pabna
ঢাকাবুধবার , ৬ জুলাই ২০২২

২ শিশুর লাশ ফেরত দিল বিএসএফ

বার্তা কক্ষ
জুলাই ৬, ২০২২ ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের ধাওয়ায় নীলকমল নদে নিখোঁজ হওয়া দুই শিশুর লাশ ৭৮ ঘণ্টা পর ফেরত দিল ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা রাত ৭টা ৩৮ মিনিটে দীর্ঘ আলোচনার পর সীমান্তের আন্তর্জাতিক পিলার ৯৩৮/৮ পিলারের ভারতীয় সেউটি-২ গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র রায়ের উঠানে শিশু পারভিন ও তার সহোদর সাকেবুল হাসানের লাশ তার বাবা রহিচ উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

লাশ হস্তান্তরের সময় সেখানে এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের অবতারণা হয়।

এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- এএসপি সার্কেল সুমন রেজা, ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ ফজলুর রহমান, অফিসার ইনচার্জ মো. সারওয়ার পারভেজ, কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক, ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলম, নেওয়াশী ইউপি সদস্য মেছের আলী,আজিজুল হক, লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি কাশিপুর কোম্পানি কমান্ডার ফরিদ উদ্দিন। ভারতের পক্ষে ছিলেন স্থানীয় সরকারের ১২টি অঞ্চল প্রধান বিষ্ণু কুমার সরকারসহ ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার শুক্রবার ভারতের দিল্লি থেকে পারভীন খাতুন (৮) ও সাকেবুল হাসান (৪) তার বাবা মায়ের সঙ্গে কুরবানি ঈদ পালন করার জন্য অবৈধ পথে বাংলাদেশে ফিরছিল। এ সময় ভারতীয় দালালরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদেরকে সীমান্তে নিয়ে এসে এক বাড়িতে গোপনে রাখেন। ওই দিন মধ্যরাতে আন্তর্জাতিক ৯৪৩নং মেইন পিলারের কাছ দিয়ে ফুলবাড়ী উপজেলার ধর্মপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করার চেষ্টা করে দুই দেশের দালাল চক্র।

দালাল চক্র মা বাবাসহ শিশুদ্বয়কে কাঁটাতার কেটে নীল কমল নদের তীরে নিয়ে আসে। এ সময় ডিউটিরত ভারতের শেউটি-১ ক্যাম্পের বিএসএফের সদস্যরা টর্চ লাইট জ্বালিয়ে দেখার পর ধাওয়া করে। দালালরা তড়িঘড়ি করে নদ পাড় হওয়ার জন্য তাদের চাপপ্রয়োগ করে।

এ সময় বাবা রহিচ উদ্দিন মালপত্র নিয়ে নদীর মধ্যখানে চলে যান। তখন শিশু ভাইবোন মা ছামিনার কাছে থাকে। কিন্তু তারা কেউই সাঁতার না জানার কারণে স্রোতের টানে রাতের অন্ধকারে নিখোঁজ হয় শিশু পারভিন ও সাকেবুল।

বিএসএফের ধাওয়ায় নদে ডুবে যাওয়া ভাই বোনের লাশ রোববার সকাল বেলা নিখোঁজ স্থানের নদের পানিতে ভেসে উঠে। দুইশ গজ অদূরে তাদের লাশ স্থানীয়রা দেখে খবর দেন বিজিবিকে। নদটি ভারতের ভূখণ্ড হওয়ায় বিজিবি বিএসএফকে অবগত করে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে বিজিবি-বিএসএফের কড়া পাহারায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ভারতের কুচবিহার জেলার দিনহাটা থানা পুলিশ ও বিএসএফ লাশ উদ্ধার করে ভারতীয় পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীর্ঘ আলোচনা শেষে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দুই ভাইবোন শিশু পারভিন ও সাকেবুলের লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।