বন্ধ থাকছে না ইন্টারনেট

বার্তাকক্ষ : ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সাথে বৈঠকের আয়োজনের পর ইন্টারনেট ও ডিস ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক জুম মিটিংয়ে এই ঘোষণা দিয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) এবং ক্যাবল অপারেটর অব বাংলাদেশ (কোয়াব) ।

আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম এবং মহাসচিব ইমদাদুল হক, কোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম আনোয়ার পারভেজ এই ঘোষণা দেন। তারা বলেন, আগামীকাল থেকে আমাদের প্রতীকী ধর্মঘট স্থগিত করছি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. আফজাল হোসেন ছাড়াও কোয়াব এবং আইএসপিএবির নেতারা জুম মিটিংয়ে যুক্ত ছিলেন।

বিকল্প ব্যবস্থা না করে সড়কের পাশের ঝুলন্ত তার কাটার প্রতিবাদে রবিবার (১৮ অক্টোবর) থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা-১টা প্রতীকী ধর্মঘটের ডাক দিয়ে ৩ ঘন্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

আইএসপিএবি সভাপতির দাবি, এতে প্রায় ২০ কোটি টাকার তার কাটা হয়েছে।

গত আগস্ট থেকে দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় তার কাটা শুরু হয়। ইতোমধ্যে উত্তর সিটি কর্পোরেশন তার কাটা বন্ধ করলেও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে তার কাটা অব্যাহত ছিল।

মোস্তফা জব্বার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে জানানো হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সার্বিক বিষয় তুলে ধরবেন। আশা করি আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ পাব। আপনারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন।

ধর্মঘট প্রত্যাহারের অনুরোধ করে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আশা করি আমরা আগামী সাত দিনের মধ্যে একটা যৌক্তিক সমাধানে আসব।

টেলিযোগাযোগ সচিব বলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আপাতত আর ক্যাবল কাটা হবে না।

এ নিয়ে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সাথে রবিবার সকালে কোয়াব এবং আইএসপিএবির নেতাদের বৈঠক রয়েছে বলে জানানো হয়।




রোববার থেকে সারাদেশে ৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট

বার্তাকক্ষ : দেশে রোববার (১৮ অক্টোবর) থেকে প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা করে ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি (ডিশ) সংযোগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে আইএসপিএবি ও কোয়াব। ঝুলন্ত ক্যাবল (তার) অপসারণের প্রতিবাদে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

এরইমধ্যে তারা বিভিন্ন এলাকার ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের মুঠোফোনে এসএমএস ও ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছে। সকাল ১০ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ।

দেশজুড়ে আরও বেশি আতঙ্কে আছেন ব্যবসায়ীরা। যত ছোট উদ্যোক্তা আতঙ্ক তত বেশি। কারণ তার পুঁজি হারানোর ভয় বেশি। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে করোনা মহামারির এই সময়ে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

কর্মসূচির ঘোষণায়ও অনড় অবস্থানে আছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি র্কপোরেশন (ডিএসসিসি)। আইএসপিএবি, কোয়াব ও এনটিটিএন অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে মাটির নিচ দিয়ে তার সম্প্রসারণ না হওয়া পর্যন্ত তার না কাটার এক প্রকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। তবে তার অপসারণ এখনও অব্যাহত রেখেছে ডিএসসিসি।

নানা আপত্তি, অসুবিধা জানানোর পরও থেমে নেই রাজধানীতে ঝুলন্ত তার অপসারণ অভিযান। করা হয়নি বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও। ইন্টারনেট কিংবা স্যাটেলাইট সংযোগ সেবা পেতে চরম ভোগান্তি পড়েছেন রাজধানীর লাখ লাখ মানুষ। লোকসানে পড়ে রোববার (১৮ অক্টোবর) থেকে প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে সারা দেশে ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি সেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সেবাদাতারা।

করোনা সংকট মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতির স্বাভাবিক গতি ধরে রাখতে সারাবিশ্বই নির্ভর করছে অনলাইন যোগাযোগের ওপর। এ অবস্থায় হঠাৎ করে তার অপসারণে স্থবির হয়ে পড়ছে অর্থনৈতিক ও দাপ্তরিক নানা কাজকর্ম। দেশের দুই শেয়ারবাজারের লেনদেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমনকি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যক্রমও হচ্ছে বাধাগ্রস্ত। নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট না পেলে বন্ধ থাকবে এটিএম সেবাও। এতে শত শত কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন প্রযুক্তিবিদরা।

এদিকে, ১৭ অক্টোবরের মধ্যে চলমান সমস্যা সমাধানের সিটি করপোরেশন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, ইন্টারনেট ও ডিস সেবা প্রদানকারী দুটি সংগঠনের নেতারা।




তথ্যমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত

মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিনগত রাতে তথ্যমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা মীর আকরাম উদ্দিন সময় সংবাদকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মীর আকরাম উদ্দিন জানিয়েছেন, করোনায় আক্রান্ত হলেও তথ্যমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। তিনি সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫ হাজার ৬২৩ জনে। এ ছাড়া নতুন করে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৫২৭ জনের দেহে। এখন পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্ত হলো ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৮৬ জন করোনা রোগী।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থার অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ দিন সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫০৯ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৭৩৮ জন।




আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চাই এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বসম্প্রদায়ের উচিত মিয়ানমারে তাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করা।

মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই বিগান বৃহস্পতিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। খবর বাসস।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় উল্লেখ করে স্টিফেন ই বিগান বলেন, ‘আমরা এই ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখব।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ১১ লাখেরও বেশি লোক বাংলাদেশে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য অতিরিক্ত বোঝা। সমস্যাটি মিয়ানমার তৈরি করেছে এবং আমরা তাদের সঙ্গে সংলাপ করছি- তাদের উচিত তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়া।’

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু একটি সামাজিক সমস্যা এবং মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত নাগরিক কক্সবাজারে আশ্রয়শিবিরগুলোয় বাস করছে। তিনি বলেন, ‘কিছু মহল অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত হতে তাদের ভুলপথে চালিত করতে পারে। সুতরাং আমরা অবিলম্বে তাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন করাতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে আত্মগোপনে থাকা সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেন।

এ বিষয়ে স্টিফেন ই বিগান জানান, মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা সেবা আবার চালু করা হবে।

বুধবার বাংলাদেশ সফরে আসা মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভাবনীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায়। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার : মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বিগান বলেছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। কোভিড-১৯ বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র টিকা উৎপাদন করলে তার বিতরণে বাংলাদেশের প্রাপ্যতার বিষয় বিবেচনা করা হবে। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন বিষয়ে একত্রে কাজ অব্যাহত রাখবে দুই দেশ।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। স্টিফেন বিগান বলেন, বাংলাদেশে এটা তার প্রথম সফর। বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ নিবিড়ভাবে কাজ করে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টিমের সঙ্গে আমি বুধবার রাতে বৈঠক করেছি। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হল বাংলাদেশ।

বিগান বলেন, কোভিড-১৯বিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একত্রে কাজ করবে। টিকা উদ্ভাবন হলে তার বিতরণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক বিজনেস ফোরামে যোগ দেবে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি শহরে নতুন কনসুলেট চালু করবে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য এই কনসুলেট কাজ করবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এই সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশের অনুরোধে বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র ফেরত পাঠাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি একটি আইনি বিষয়। আইনগত পর্যালোচনা করার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে।

তবে তিনি এও বলেন যে, এই বিষয়টি তার মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়। তাই এটা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা তার পক্ষে সম্ভব নয়। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন বিগান।

বেইগানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এ সময় দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এসবের মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনস্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা, কৃষি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য সচিব, পিপিপি’র সিইওসহ অন্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান উপস্থিত ছিলেন। ভারত সফর শেষে দু’দিনের সফরে বুধবার বিগান ঢাকায় আসেন। মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বিগান বাংলাদেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশংসা করেন।

১০০ ভেন্টিলেটর দেবে আমেরিকা : স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি বলেছেন, আমেরিকা বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধুরাষ্ট্র। দেশের যে কোনো দুর্যোগে আমেরিকা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।

এবারের কোভিড মোকাবেলা করতেও আমেরিকা বাংলাদেশের সার্বিকভাবে নানা খাতে সহায়তা করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আমেরিকা বাংলাদেশের কোভিডসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা দিতে নতুন ও অত্যাধুনিক অন্তত একশটি ভেন্টিলেটর দেবে।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভ্যান্টিলেটর মেশিন ও গ্যাস অ্যানালাইজার মেশিন হস্তান্তর সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলমসহ অন্য কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সেই দেশের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের ডেপুটি সেক্রেটারি মি. স্টেফেন এডওয়ার্ড বিগান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএসএ অ্যাম্বাসেডর মি. আর্ল আর মিলারসহ অন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে আগামী দিনে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু হলে আমেরিকার পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন ডেপুটি সেক্রেটারি বিগান এবং বাংলাদেশের পক্ষে দ্রুত ভ্যাকসিন পেতে আমেরিকা সরকার সব ধরনের সয়াহতা করবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে দুটি অতি উন্নত গ্যাস অ্যানালাইজার মেশিন হস্তান্তর করেন ইউএসএ ডেপুটি সেক্রেটারি স্টেফেন এডওয়ার্ড বিগান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএসএ অ্যাম্বাসেডর মি. আর্ল আর মিলার।

ধর্ষণ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন- বিপিএটিসি’র প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী : ধর্ষণ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এই অপরাধের ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা (ধর্ষণ) রোধ করার ব্যাপক ব্যবস্থা নিতে হবে। সব থেকে বড় কথা- মানুষের মাঝেও জনসচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার।

সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান সংযুক্ত করে অধ্যাদেশ জারি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইদানীং ধর্ষণটা ব্যাপকভাবে হচ্ছে এবং প্রচারও হচ্ছে। এটার যত বেশি প্রচার হয়, প্রাদুর্ভাবটাও তত বাড়ে।’

বৃহস্পতিবার সকালে সাভারে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) ৭০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী এবং সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থলসহ ৭টি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আপনারাই আগামী দিনের কর্ণধার হবেন। আপনারাই দেশটাকে পরিচালনা করে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আজকের যারা নতুন প্রজন্ম, তারই একচল্লিশের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আপনারা অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কারণ আমি জানি যে, বিচার না পেলে কী কষ্ট। আমার বাবা-মা, ভাই, ভ্রাতৃবধূ-তাদেরকে যখন হত্যা করা হয়, খুনিদেরকে ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছিল। আমার বিচার চাওয়ার কোনো অধিকার ছিল না। আমি কেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট যারা নিহত হয়েছিলেন, তাদের পরিবারের কারোরই বিচার চাওয়ার কোনো অধিকার ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা-মা, ভাই মারা গেছে, আমি একটা মামলাও করতে পারিনি। আমার সেই অধিকারটাও ছিল না। এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে যেন আর না থাকে।’

শেখ হাসিনা বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালে সংস্কারের মাধ্যমে স্বাধীন দেশের উপযোগী সিভিল সার্ভিস গঠনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

এ সময় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া জাতির পিতার একটি ভাষণেরও উদ্ধৃতি দেন প্রধানমন্ত্রী। জাতির পিতা তার ভাষণে বলেছিলেন, ‘আপনি চাকরি করেন, আপনার মাইনা দেয় ওই গরিব কৃষক, আপনার মাইনা দেয় ওই গরিব শ্রমিক, আপনার সংসার চলে ওই টাকায়, আমি গাড়ি চড়ি ওই টাকায়, ওদের সম্মান করে কথা বলেন, ওদের ইজ্জত করে কথা বলেন, ওরাই মালিক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যারা নবীন কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাদের কিন্তু ওই কথাটাই মনে রাখতে হবে যে, এই দেশের গরিব মানুষ যারা বা এখনও তৃণমূলে যারা পড়ে রয়েছেন, তারাই এদেশের মালিক। আর তাদের ঘর থেকেই লেখাপড়া শিখে আজকে উঠে এসেছেন। কাজেই, সেদিকে লক্ষ রেখে তাদের সেবা করাটাই হবে সব থেকে বড় দায়িত্ব।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে জাতির পিতা তার দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচির অংশ হিসেবে সব মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করে প্রত্যেক জেলার জন্য ‘জেলা গভর্নর’ নিযুক্ত করেন। কারণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই ছিল জাতির পিতার মূল লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না, কোনো শিশুই পথশিশু থাকবে না, প্রত্যেক শিশুরই একটা ঠিকানা হবে এবং লেখাপড়া ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান করে জীবনে যাতে দাঁড়াতে পারে, তার ব্যবস্থা আমাদের করে যেতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই চর কুকরি-মুকরি থেকে শুরু করে সারা দেশ যেন ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আসতে পারে, সেই উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। দেশ ডিজিটাল হয়েছে বলেই করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে দূর থেকে আপনাদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কথা বলতে পারছি।’

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পরপরই আমি নির্দেশ দিয়েছিলাম যে, আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতেই হবে। যে কারণে দেশে কোনো খাদ্য সংকট হয়নি। অর্থনীতির চাকা যেন সচল থাকে, সে ব্যবস্থা যেমন আমাদের করতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে দেশটা যেন এগিয়ে যেতে পারে, সেটাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিপিএটিসি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ভৌত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিপিএটিসি’র সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০তলাবিশিষ্ট ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন’ এর নকশা ইতোমধ্যে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আমরা চাচ্ছি, আমাদের এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটা যেন একদিকে যেমন দৃষ্টিনন্দন হয় এবং সেখানের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাটাও যেন বিশ্বমানের হয়। আর এখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা সমগ্র বিশ্বে যেন একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন।’

সিভিল প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়ে তুলবেন, যেন দেশ আর কোনোদিন পিছিয়ে না যায়।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি মানুষের জীবনেই একটা দিক দর্শন থাকতে হয়। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হয়। লক্ষ্যবিহীন জাতি যেমন এগোতে পারে না, তেমনই দিকহারা জাতি কোনো ঠিকানা খুঁজে পায় না। কাজেই, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সব পরিকল্পনা দিয়ে গেলাম। যাকে আপনারাই সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। বিপিএটিসি’র রেক্টর মো. রাকিব হোসেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে ৭০তম বুনিয়াদি কোর্সের ফলাফল হস্তান্তর করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুষ্ঠানে সনদ বিতরণ করেন।

এবারের ৬ মাসের কোর্সটির শেষ এক মাস করোনার কারণে অনলাইনে সমাপ্ত করা হয়। যেখানে ১৬১ জন নারীসহ ৬৬৩ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৫০ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী সেন্টার অব এক্সিলেন্স সনদপ্রাপ্ত হন।




যেভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ কাতারে বাংলাদেশ

বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে চারদিকে যখন নেতিবাচক খবর, তখন প্রবৃদ্ধিতে আশা জাগিয়েছে বাংলাদেশ। করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলোতে উন্নতি করে প্রবৃদ্ধিতে পেছনে ফেলছে প্রতিবেশী দেশগুলোকে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, মহামারির মধ্যেই চলতি অর্থবছরে মাথাপিছু জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ।

শুধু ভারতই নয়, চলতি অর্থবছরে মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ এবং এশিয়ার মধ্যে চতুর্থ হতে চলেছে বাংলাদেশ। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবৃদ্ধিতে ভারতের মতো বৃহৎ অর্থনীতির দেশকে ছাড়িয়ে যাওয়া বিরাট অর্জন। তবে এ নিয়ে আত্মতৃপ্তিতে না ভুগে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে।

বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বৈশ্বিক অর্থনীতিবিদরা আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, করোনা মহামারি পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ঘটবে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক দ্রুত। আমদানি-রপ্তানি ব্যয়ে ভারসাম্য, রেমিট্যান্সে সাফল্য, বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং জিডিপি অনুপাতে সরকারি ঋণ কম হওয়ায় অন্য দেশের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তার পরও প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থাকছে বাংলাদেশ। যদিও সরকার এ বছরের বাজেটে ৮.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে।

বাংলাদেশের এমন সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করে ভারতের সংবাদপত্র দ্য ইকোনমিক টাইমস বলেছে, ‘মধ্যবর্তী সময়ে (করোনা কাল) ভারতের সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ যখন ধীরে এগোচ্ছিল, সেই সময়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।’

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনাভাইরাসের মধ্যে বড় মাপের প্রণোদনা প্যাকেজ, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অর্থনীতি খুলে দেওয়ার মতো সরকারের সাহসী পদক্ষেপ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুবিন্যস্ত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার কারণে করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে। এর মধ্যে বড় চমক ছিল লক্ষাধিক কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা। এতে ভেঙে পড়েনি উৎপাদনপ্রক্রিয়া। পাড়া-মহল্লার দোকান থেকে শুরু করে সুপারশপ, শপিং মল, বড় শিল্প-কারখানার চাকা সচল আছে। আমদানি-রপ্তানি, উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং পরিবহন চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হচ্ছে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও বিপণিবিতান খুলে দেওয়ায় বিশাল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শ্রেণি কাজে ফিরেছে। তারা করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য আবার ঝাঁপিয়ে পড়েছে।’

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকারি হিসাবে তো ৮ শতাংশের ওপরে একটা আশাবাদ আছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফের হিসাব তো তার চেয়ে অনেকটা কম। তবে আমি সে তর্কে যাচ্ছি না। তার থেকে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে যে সবাই একটা অ্যাগ্রিমেন্টে আছে। অন্যান্য দেশ যেখানে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে যাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ কিন্তু আসলে একটা পজিটিভ প্রবৃদ্ধিতে আছে। সেটার মাত্রা নিয়ে হয়তো কিছু কথা থাকতে পারে। তাই আমার কাছে মনে হয় এটা আশাবাদী হওয়ার মতো একটা বিষয়।’

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার আঘাতের পরও বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার করছে—এটি অত্যন্ত আশার খবর। আমাদের কিছু শক্তিশালী সূচক আছে যেগুলোর কারণে আমরা ভালো করছি। এখন আমাদের বিনিয়োগ বাড়ানোয় মনোযোগ দিতে হবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।’

এদিকে সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সরকার সহজেই মোকাবেলা করতে পারবে। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে অর্থনীতিকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করা খুবই সম্ভব। করোনা সংকটের মধ্যেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন রেকর্ড অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এবার রিজার্ভ ছাড়িয়েছে ৪০ বিলিয়ন বা চার হাজার কোটি ডলার, যা দিয়ে ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। এই নিয়ে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে সাতবার নতুন মাইলফলক অতিক্রম করল রিজার্ভ। রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক ঋণ সহায়তার ওপর ভর করে রিজার্ভ এই উচ্চতায় পৌঁছেছে।

এক মাসের হিসাবে গত সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় ফের ২০০ কোটি ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। এ মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২১৫ কোটি ডলার, যা একক মাস হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এটি গত অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে সাড়ে ৪৫ শতাংশ এবং আগের মাসের চেয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ বেশি।

আর জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে রপ্তানি গতবারের একই সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি হয়েছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৫৮ শতাংশ।

করোনাকালে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে কৃষি। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ১৫.৪৪ শতাংশ অবদান কৃষি ও সেবা খাতের। কর্মসংস্থানেও বড় ভূমিকা রাখছে খাতটি। আয় কমে যাওয়ায় শহরত্যাগী মানুষগুলোকেও ধারণ করেছে গ্রামীণ অর্থনীতি।

অন্যদিকে করোনায় বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মাঝেও ভালো পারফরম করছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে পুঁজিবাজারের উত্থানে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে বাংলাদেশ। এমনকি ২৪.৪ শতাংশ উত্থানের মধ্য দিয়ে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। এই সাফল্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। তবে এই দেশ দুটিও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগ, বৈদেশিক বাণিজ্য, রাজস্ব আয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এসব ক্ষেত্রে নেতিবাচক ধারা চলছে। এ ছাড়া ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে। কমেছে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি।

আইএমএফ প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে (ডাব্লিউইও) বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি ২৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এ কারণে বিশ্ব অর্থনীতি সঙ্কুচিত হবে ৪.৪ শতাংশ। তবে বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

ডাব্লিউইও রিপোর্টে বলা হয়, ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ১০.৫ শতাংশ কমে এক হাজার ৮৭৭ ডলার দাঁড়াতে পারে, যা হবে চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে বাংলাদেশে মাথাপিছু জিডিপি ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৮৮ ডলার। ২০২০ সালে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়ে ৩.৮ শতাংশ দাঁড়িয়েছে, ২০২১ সালে এই প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৪ শতাংশ দাঁড়াবে। করোনাভাইরাস মহামারির রোধে দেশব্যাপী কড়া লকডাউনের কারণে তীব্র অর্থনৈতিক সংকোচনে ভারতের এই প্রবৃদ্ধি হ্রাস ঘটেছে।

ম্যানিলাভিত্তিক সংস্থা এডিবি বলছে, শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স সাফল্যে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। একই সঙ্গে কাটছে করোনা মহামারি সংকট। ফলে আশা করা যায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে ৬.৮ শতাংশ।

বাংলাদেশে এডিবির আবাসিক প্রধান মনমোহন প্রকাশ বলেছেন, ‘মহামারি থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার পেতে শুরু করেছে। চলমান মহামারির মধ্যেও সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ ও সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা অর্থনীতিকে সুসংহত করেছে।’

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের আসিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ এডওয়ার্ড লি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ মন্দার মাঝেও আসিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দেশ এ বছর ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে যাবে। বাংলাদেশ এর অন্যতম, অন্য দেশটি ভিয়েতনাম।’ তিনি বলেন, ‘জিডিপি প্রবৃদ্ধির দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বের সব দেশের জন্যই চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক ছিল সবচেয়ে খারাপ। সেখানেও পুনরুদ্ধার দেখাতে পেরেছে বাংলাদেশ।’ দক্ষিণ এশিয়ায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের অর্থনীতিবিদ সৌরভ আনন্দ বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মন্দার যে ঝড় এসেছিল তা এরই মধ্যে কেটে গেছে।’

অর্থনীতিবিদ এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা যাঁদের পাওয়ার কথা তাঁরা যাতে পান, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যাঁরা কাজ হারাচ্ছেন, তাঁদের আয়-রোজগারের ব্যবস্থা করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তার প্রকল্পগুলোকে আরো জোরদার করতে হবে এবং বণ্টনের ক্ষেত্রে যাতে দুর্নীতি না হয়, সেটি দেখতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হবে।’

অর্থনীতি ও বিনিয়োগ বিশ্লেষক মামুন রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একটি টাস্কফোর্স করে ব্যবসার পরিবেশ দ্রুত উন্নত করতে হবে।’




বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো অত্যাধুনিক সাত প্রশিক্ষণ বিমান

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো চীনের তৈরি অত্যাধুনিক সাতটি কে-৮ ডব্লিউ প্রশিক্ষণ বিমান। চীন সরকারের সঙ্গে ক্রয় চুক্তির আওতায় সম্প্রতি এই সাতটি বিমান কেনা হয়। চীনের দেহং মাংসি থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর নিজস্ব বৈমানিক সরাসরি সফল ফেরি ফ্লাইটের মাধ্যমে গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিমানবাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হকে বিমানগুলো অবতরণ করান।

আইএসপিআর সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বর্তমান সরকার বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে অত্যন্ত সচেষ্ট। এরই ধারাবাহিকতায় চীনের তৈরি অত্যাধুনিক বিমানগুলো কেনা হয়। এ মিশনের নেতৃত্বে ছিলেন বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে এম আবদুর রাজ্জাক। বিমানগুলো জহুরুল হক ঘাঁটিতে অবতরণের পর বাহিনীর রীতি অনুযায়ী সেখানে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং বিমান সদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসাররাসহ ঘাঁটি জহুরুল হকের এয়ার অধিনায়ক ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে বর্তমানে বিদ্যমান কে-৮ ডব্লিউ প্রশিক্ষণ বিমানের সঙ্গে নতুন কেনা এই সাতটি বিমানের অন্তর্ভুক্তি বাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি সক্ষমতাও বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে।




লালনের তিরোধান দিবসে এবার আয়োজন নেই

পয়লা কার্তিক শনিবার ফকির লালন শাহের ১৩০তম তিরোধান দিবস। এবার সরকারিভাবে পালন হচ্ছে না দিবসটি – এমন ঘোষণা দিয়েছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। কিন্তু এটি মেনে নিতে পারছেন না লালনের অনুসারী বাউল-ফকিররা। অনেকেই এসেছেন কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় লালনের আখড়ায়। কিন্তু হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে এসব বাউল, ফকির এবং লালন ভক্তদের।

লালন একাডেমির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সেলিম হক বলেছেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে, এ আশঙ্কায় একাডেমির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ৪ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সরকারের। ইচ্ছে থাকলেও কিছু করার নেই।

সেলিম হক বলেন, এরপর থেকে একাডেমির পক্ষ থেকে আখড়াবাড়িতে এ ঘোষণার ব্যানার টানিয়ে দেয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে সব গেট।

লালন একাডেমির মাঠেও যাতে কেউ না যেতে পারে, সে জন্য সব ফাঁক ফোকর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর অবিরাম লালন শিশু আশ্রমের পরিচালক বাউল ফরিদুল ইসলাম এসেছিলেন তার শিশুশিল্পীদের নিয়ে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই লালনের তিরোধান দিবসে আমার শিল্পীরা এখানে গান করে। ধর্মীয় আচার হয় আখড়াবাড়িতে। বাইরের মাঠে চলে তিন দিনের মেলা ও গানের আয়োজন। এখানে এসে জানতে পারলাম, এবার কিছুই হচ্ছে না। ভাঙা মন নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। তবে আমার আশ্রমে লালনকে স্মরণ করবো। থাকবে গানের অনুষ্ঠান।’

বাউল-ফকিরদের দাবি ছিল অল্পসংখ্যক বাউল-ফকিরকে আখড়াবাড়িতে ঢুকতে দিয়ে হলেও রেওয়াজটুকু পালন করা। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে বিবেচনায় সে দাবি মানে নি প্রশাসন। সব ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে সারা দেশে জেলায় জেলায় অনলাইনে লালনের তিরোধান দিবস উদযাপন হবে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা সুজন রহমান। তিনি জানান, কুষ্টিয়ার আয়োজন বড় হবে। প্রথমে থাকবে আলোচনা, আর দ্বিতীয় পর্বে রাতে থাকবে গানের আয়োজন। এখানে ৪০ জন শিল্পী গান পরিবেশন করবেন। প্রচার করা হবে শিল্পকলা একাডেমির ফেসবুক পেইজে।




যশোরে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেট কারের ৪ যাত্রী নিহত

যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় ট্রেনের সঙ্গে প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দু’জন। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার নওয়াপাড়া ভৈরব ব্রিজ রেলক্রসিংয়ে এ ঘটনা ঘটে। হতাহতরা সবাই প্রাইভেট কারের যাত্রী।

নিহতদের মধ্যে দু’জন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু কন্যা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভৈরব ব্রিজ থেকে একটি প্রাইভেটকার যশোর-খুলনা মহাসড়কের দিকে যাওয়ার সময় খুলনাগামী ট্রেন মহানন্দা এক্সপ্রেসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে নিহত হয় দু’জন। আহত অপর তিনজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর এক শিশু ও অপর একজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তারও মৃত্যু হয়।

অভয়নগর থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, নিহতরা হলেন নড়াইলের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার হিরক, তার বন্ধু আশরাফুল, তাদের একজনের স্ত্রী এবং সাত বছরের এক শিশু।

তিনি জানান, অভয়নগরের এলবি টাওয়ারে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে আসার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানতে নড়াইলে খবর দেওয়া হয়েছে। স্বজনরা আসলে বাকি পরিচয় জানা যাবে।




নুরের গণমাধ্যম বর্জনের ডাকে এডিটরস গিল্ডের নিন্দা

সম্প্রতি ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ৭১ টেলিভিশনসহ তার অপছন্দের কিছু মিডিয়াকে বর্জনের ডাকে উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে এডিটরস গিল্ড। বুধবার (১৪ অক্টোবর) এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশ-এর সভাপতি মোজাম্মেল বাবু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানায় সংগঠনটির সদস্যরা।

বিবৃতিতে গিল্ড সদস্যরা বলেন, ‘৭১ টেলিভিশনের পক্ষ থেকে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ধর্ষণের বিষয়ে টকশোতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তিনি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। আমরা বিশ্বাস করি সেই অধিকার তার রয়েছে। কিন্তু সেই টেলিভিশনসহ আরও কিছু মিডিয়াকে বর্জন করার জন্য সামাজিক মাধ্যমে নুর যে তৎপরতা চালিয়েছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

এতে আরও বলা হয়, ‘একাত্তর টিভির যে সাংবাদিক তাকে টকশোতে আমন্ত্রণ জানাতে যোগাযোগ করেছিলেন তার ফোন নম্বর ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে নুর গর্হিত অপরাধ করেছেন। প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদী চক্র এখন সেই নম্বরে ক্রমাগত কল করে অশ্লীল বক্তব্য ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। নুরের এই তৎপরতা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি কী ভুলে গেছেন আজ তার পরিচিতির পেছনে গণমাধ্যমের বড় ভূমিকা রয়েছে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নুরকে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে নেওয়া এই অবস্থানের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। নয়তো তিনি যেমন কিছু গণমাধ্যম বর্জনের ডাক দিয়েছেন তেমনি গণমাধ্যমও তাকে বর্জন করতে পারে।’




ভেঙে গেল ছাত্র অধিকার পরিষদ

ভেঙে গেল কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে ‘অবাঞ্চিত’ ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকে সরে যাওয়া, স্বেচ্ছাচারিতা, নারী কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে নুর-রাশেদকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনটির আগের ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নামে ২২ সদস্যের এই আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নতুন কমিটির আহ্বায়ক এপিএম সোহেল। কমিটি ঘোষণা করেন নতুন কমিটির সদস্য সচিব ইসমাইল সম্রাট।

নিজেদের সিন্ডিকেটের গুটিকয়েক সদস্য ছাড়া বাকিদের মতামত অগ্রাহ্য করে ছাত্র অধিকার পরিষদকে স্বৈরতান্ত্রিক সংগঠনে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আহ্বায়ক এপিএম সোহেল।

তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ ছাত্র অধিকারের জন্য সংগঠন গড়ে নুর ও তার সহযোগীরা রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করেছে।

নুর, রাশেদ ও ফারুক প্রবাসীদের অর্থ, কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সময় সংগ্রহ করা অর্থ ও করোনার ত্রাণের অর্থ নিয়ে নয়ছয় করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলা হয়।

কমিটির বিষয়ে ইসমাইল হোসেন সম্রাট বলেন, ছোট পরিসরে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ২২ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হলো। শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আমিনুর রহমান, জালাল আহমেদ, আব্দুর রহিম, মো. আমিনুল হক রুবেল, রিয়াদ হোসেন, মো. সেলিম, শাকিল আদনান, নাদিম খান নিলয়, পৃথু হামিদ, একেএম রাজন হোসেন, মো. সাইফুল ইসলাম, সাজাদুর রহমান রাফি, আফরান নাহিদ নিশো ও জাহেদুল ইসলাম নোমান।

যুগ্মসচিব হয়েছেন সৈয়দ সামিউল ইসলাম। সদস্যরা হলেন- মিজানুর রহমান মুশফিক, মো. সিয়াম ও মো. জুনায়েদ। উপদেষ্টা হলেন- মোহাম্মদ উল্লাহ মধু ও মুজাম্মেল মিয়াজি।




প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পাচ্ছেন প্রতিবন্ধী রুবিনা

রুবিনা বেগম। বয়স ৩৬। মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় এলাকায় রুবি পাগলি নামেই পরিচিত তিনি। বাড়ি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের মধ্যমপাড়ায়। ১৫ বছর আগে রুবির বিয়ে হয়েছে। বিয়ের দেড় বছরের মাথায় তাকে ফেলে বিদেশ চলে যায় স্বামী। রুবিনার ঠাঁই হয় গরীব অসহায় বাবার সংসারেই। কিন্তু বাবা আব্দুল ওয়াহেদও মারা যান কয়েক মাস আগে। তার একমাত্র ছোট ভাই আশরাফুল আলমও শারিরিক প্রতিবন্ধী। কোনোমতে দিন এনে দিন খায় দুই ভাই-বোন।

একমাত্র ছোট ভাইকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন বাবার রেখে যাওয়া জরাজীর্ণ মাটির ঘরে। বর্ষার পানিতে ধুঁয়ে গেছে সেই ঘরটির দেওয়াল। রান্নার একমাত্র ছোট্ট ঘরটিও ভেঙ্গে গেছে কয়েকদিন আগে। বৃষ্টির দিনে ভাঙা টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ তাদের থাকার ওই ঘরটিতে। বসবাস অযোগ্য ঘরটি মেরামত বা নতুন ঘর তৈরীর টাকা নেই তাদের। তাইতো গ্রামে নতুন মানুষ দেখলেই এগিয়ে আসেন রুবিনা। হাত পাতেন সাহায্যের। সম্প্রতি এক সাংবাদিককে দেখে রুবিনা এগিয়ে এসে বলেন, তোরা কি সরকারি লোক বাহে? তোরা কি এটা (একটা) বাড়ি দিবার পারো হামাক? এ জগতে মোর কেউ নাই। সরকারকে কইয়্যা মোক এটা বাড়ি দে বাহে।

রুবিনার এই দুর্দশার কথা উঠে আসে গণমাধ্যমে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নজরে আসে। দুঃস্থ ও দরিদ্র মানুষকে ঘর নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে তাৎক্ষনিক রুবিনার জন্য ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সূত্রে জানা যায়, সরকারের আশ্রায়ন প্রকল্পে ‘আবাসিক ভবন নির্মাণ’ খাতের আওতায় রুবিনা ও আশরাফুলকে একটি সেমি পাকা ঘর নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত ডিজাইন অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে বাড়িটি নির্মাণেও নির্দেশ দেয়া। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ও প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে মুজিববর্ষের মধ্যে সকল গৃহহীনদের জন্য ঘর তৈরি করে দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে। দিনাজপুরের মানসিক প্রতিবন্ধী রুবিনার জন্যও ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। একটি সেমি পাকা ঘর নির্মাণে ইতোমধ্যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। দ্রুততম সময়ে তার জন্য ঘরটি নির্মাণ করে দেয়া হবে।

‘আশ্রয়নের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ এই স্লোগানে মুজিববর্ষের মধ্যে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে আশ্রয়ণে ২ প্রকল্পের মাধ্যমে ২ হাজার ৯৩২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ঘর নির্মাণ করে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৩৬টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালের ১৯ মে কক্সবাজারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হলে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐ এলাকা পরিদর্শনে যান। তিনি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল হয়ে পড়েন। সকল গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের তাৎক্ষনিক নির্দেশ দেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালে “আশ্রয়ণ” নামে একটি প্রকল্প নেয়া হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে তখন থেকে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৪০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৪৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন-অসহায়-ছিন্নমূল পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এছাড়াও ২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৫৬ জনকে আয়বর্ধক পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭১৮টি পরিবারকে ঋণও দেয়া হয়েছে। সবুজায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি প্রকল্প গ্রামে ফলদ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ করা হয়ে থাকে। ২১ লাখের বেশি বৃক্ষরোপন করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্প গ্রামে বসবাসরত উপকারভোগীদের জীবনমান সহজীকরণের জন্য বিদ্যু সংযোগ দেয়া, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দেশের সকল মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতের ঘোষণা দিয়ে ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবর্ষে আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রতিটি এলাকা থেকে গৃহহীনদের খুঁজে খুঁজে বের করে ঘর করে দেয়া হচ্ছে। আশ্রায়ন প্রকল্প ছাড়াও গৃহহীনদের আবাসন নিশ্চিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি তহবিলসহ বেশ কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার।




বাংলাদেশিদের ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ইতালি

নিউজ ডেস্ক : ভিসাধারী বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে ইতালি সরকার। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ইতালিতে অবস্থানরত বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশিদের জন্য ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এটা ইতালির পুলিশ কর্তৃপক্ষ চেক করবে, তারপর ভিসা নবায়ন করবে। ইতালি এখনো নিয়মিত ভিসা ইস্যু চালু করেনি। শুধু যাদের বৈধ ভিসা রয়েছে, তাদের জন্যই ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নীতিমালা অনুসরণ করে গত ১৬ জুন থেকে সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হয়। কাতার এয়ারওয়েজ বাংলাদেশ থেকে কাতার হয়ে বিভিন্ন দেশে যাত্রীদের নিয়ে যায়। এর মধ্যে অন্যতম গন্তব্য ছিল ইতালি। গত ৬ জুলাই বাংলাদেশ থেকে রোমে যাওয়া একটি ফ্লাইটের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যাত্রীর শরীরে কভিড-১৯ রোগের উপসর্গ ধরা পড়ে। এরপর বাংলাদেশের সঙ্গে সব ধরনের ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয় ইতালি। এরপর ৮ জুন বাংলাদেশ থেকে কাতার হয়ে ইতালিতে যাওয়া দুটি ফ্লাইটের ১৬৮ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়।