অল্প দিনেই উন্মুক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

বাংলাদেশি কর্মিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শিগগিরই উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান আজ বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের সাথে এক ভার্চূয়াল বৈঠকে শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণে সম্মতি জানিয়েছেন।

অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মিদের জন্য স্থগিত ঘোষিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য পুনরায় উন্মুক্তকরণ, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, কর্মি নিয়োগের ক্ষেত্রে অনলাইন সিস্টেম চালু , কর্মি প্রেরণে রিক্রুটিং এজেন্টের সম্পৃক্ততা, পরবর্তী জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা আয়োজন ও কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আটকে পড়া বাংলাদেশি কর্মিদের মালয়েশিয়ায় প্রত্যাগমনসহ উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কোভিড-১৯ পরিস্থিতি উন্নত হলে বাংলাদেশ থেকে তার দেশে কর্মি নিয়োগ প্রক্রিয়া পুন:শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রী।

সভায় উভয় মন্ত্রী সুষ্ঠু শ্রম অভিবাসনের স্বার্থে বাংলাদেশ হতে সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্টের তালিকা মালয়েশিয়ায় প্রেরণ করা হবে এবং মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে সেসব তালিকা হতে উপযুক্ত সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্ট নির্বাচন করা হবে বলে একমত পোষণ করেন।
রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়ায় ডাটাবেইজ থেকে কর্মি সংগ্রহ, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ন্যায্য সার্ভিস মূল্য প্রদানসহ পুরো প্রক্রিয়া একটি সমন্বিত অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে মনিটরিং করার ব্যাপারেও উভয় মন্ত্রী সম্মত হন।

কর্মি রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়ায় মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়েও উভয় মন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মিদের রিক্রুটমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে শিগগিরই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের মিটিং করার বিষয়েও উভয়পক্ষ সম্মত হয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মালয়েশিয়ায় অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মিদের নিয়মিতকরণের বিষয়ে সে দেশের মানব সম্পদ মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, বিএমইটির মহাপরিচালক মো. শামসুল আলম, অতিরিক্ত সচিব বশির আহমেদ এবং কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম অংশগ্রহণ করেন।

মালয়েশিয়ার পক্ষে সেদেশের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল দাতুক জামিল বিন রাকন, ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এ. মানিয়াম , পলিসি ডিভিশনের আন্ডার-সেক্রেটারি ড. নুর মাজনি বিনতি আবদুল মাজিদ ও ইন্টারন্যাশনাল ডিভিশনের আন্ডার-সেক্রেটারি ড. জাকি বিন জাকারিয়া এতে অংশগ্রহণ করেন।




ইউটিউব-আইপি টিভিভে সংবাদ প্রচার করা যাবে না

আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউটিউব চ্যানেল ও আইপি টিভি সংবাদ পরিবেশন করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে এ কথা জানান মন্ত্রী। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ সংলাপের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইউটিউব চ্যানেল বা আইপি টিভি নিবন্ধনের জন্য আমরা দরখাস্ত আহ্বান করেছি। সেগুলো তদন্তের কাজ চলছে। প্রাথমিক তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে। সেটি হওয়ার পর আমরা নিবন্ধন দেয়ার কাজ শুরু করব। এক্ষেত্রে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আইপি টিভিগুলো শুধুমাত্র এন্টারটেইনমেন্ট (বিনোদন) চ্যানেল হিসেবে কাজ করবে। সমস্ত বিষয়গুলো নরমাল টেলিভিশন চ্যানেলের মতো করার কথা নয়, এ রকম সিদ্ধান্ত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘ইউটিউব চ্যানেল ও আইপি টিভি নিয়মিত সংবাদ পরিবেশন করতে পারবে না। এমনিতেই কোনো টেলিভিশন চ্যানেল যখন অনুমতি পায় শুরুতে তারা সংবাদ পরিবেশনের অনুমতি পায় না। সেজন্য তাদের কিছু প্যারামিটার পূরণ করতে হয়, আবার দরখাস্ত করতে হয়। তারপর তারা সংবাদ প্রকাশের অনুমতি পায়। সুতরাং আইপি টিভির ক্ষেত্রেও অন্যান্য সবকিছু করতে পারবে কিন্তু সংবাদ পরিবেশনের কাজটি তারা আপাতত করতে পারবে না- এটি আমাদের মন্ত্রণালয় নয়, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত।’

অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর নিবন্ধন প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অনলাইন নিবন্ধনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে আমরা বেশ কয়েকটি অনলাইনকে নিবন্ধনের জন্য অনুমতি প্রদান করেছি। বাকিগুলো আমরা ধীরে ধীরে দেবো। যেহেতু কয়েক হাজার অনলাইন, এগুলো সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগবে। কারণ বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা রিপোর্ট দেয়ার পরই কিন্তু আমরা দিতে পারছি। এর আগে তো দিতে পারছি না। সেই কারণেই একটু সময় লাগছে। বেশিরভাগকে নিবন্ধন দেয়ার কাজ এই বছরের মধ্যে আমরা শেষ করার চেষ্টা করব। অনলাইন নিবন্ধনের কাজ এই বছর শেষ হলেই শেষ হয়ে যাবে তা নয়। কারণ অনলাইন তো ভবিষ্যতেও অনেকগুলো প্রকাশিত হবে।’

‘পত্রিকা প্রকাশ করতে হলে অনুমতি লাগে, টেলিভিশন চ্যানেল খুলতে হলে লাইসেন্স লাগে। ভবিষ্যতে যখন অনলাইন নিবন্ধনের কাজটি শেষ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারব তখন আমরা ভবিষ্যতে অনলাইন খোলার ক্ষেত্রেও অনুমতির বিষয়টি সংযুক্ত করব’, যোগ করেন মন্ত্রী।

টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদ কর্মীদের ওয়েজবার্ডের বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘টেলিভিশনের ঠিক ওয়েজবোর্ড নয়। সম্প্রচার আইন যখন হবে, এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হয়েছে। এরপর মন্ত্রিসভা হয়ে সংসদে যাবে। সম্প্রচার আইনের আলোকে টেলিভিশন, রেডিও, এমনকি অনলাইনসহ এই সমস্ত মাধ্যমের সাংবাদিকদের বেতন-ভাতাদি আইনি কাঠামোর মধ্যে আসবে।’

সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করা, পরীক্ষা নেয়াসহ নীতিমালা করা হবে কি না- জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছি। এখানে একটি নিয়ম-নীতি থাকার প্রয়োজন আছে। কিন্তু ডিগ্রি পাস হলেই শুধু এই পেশায় আসতে পারবে, আমি ব্যক্তিগতভাবে এটার সঙ্গে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করি। অনেক মেট্রিক পাস মানুষ এমএ পাস লোকের চেয়েও ভালো জানে ভালো লিখে। এমন আমাদের দেশে আছে। ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নসহ অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠন উদ্যোগ নিলে আমরা সরকার সেটিতে সহায়তা করতে প্রস্তুত আছি। এখানে নিয়মনীতি থাকা প্রয়োজন, যে কেউ একটা পত্রিকা বের করে সাংবাদিক সেজে যাওয়া। সেটি সমীচীন নয়।’

তিনি বলেন, ‘ডিগ্রির কথা বলছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিন্তু কোনো ডিগ্রি ছিল না, কবি নজরুলেরও কোনো ছিল না। বিল গেটস কম্পিউটার সায়েন্সে ফেল করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে হয়েছে। এখন বিল গেটসের ওপরই পিএইচডি হয়। এ রকম বহু উদাহরণ আছে। সুতরাং পাসই যোগ্যতার মাপকাঠি সবসময় নয়। পাস একটি মাপকাঠি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর একটি গণমাধ্যম বয়কটের কথা বলেছেন। এ বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে অবাধ মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। সেই স্বাধীনতার কারণেই যে কেউ যেকোনো কথা বলছে। কে কোন গণমাধ্যম দেখবে কী দেখবে না- সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। সেটি কেউই নির্দিষ্ট কিংবা নির্ধারণ করে দিতে পারে না।’




ভিপি নুর ও রাশেদকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা ছাত্র অধিকার পরিষদের

নিউজ ডেস্ক : ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে তারা এই ঘোষণা দেন। আগের ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নামেই তারা ২২ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।

রাশেদ ও নূরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর দায়ের করা তিনটি মামলায় আসামি করা হয়েছে নুরকে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর এই শিক্ষার্থী রাজধানীর লালবাগ থানায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় নুরসহ আরো পাঁচজনকে সহযোগিতার অভিযোগে আসামি করা হয়। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর তিনি এই ছয় আসামির বিরুদ্ধে নতুন আরেকটি মামলা করা হয় কোতোয়ালি থানায়। এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা ও হেয় প্রতিপন্ন করতে ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ আনা হয়।

এরপর বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের ঢাবির ওই একই শিক্ষার্থী। নুর তার ফেসবুক আইডি থেকে বাদীকে চরিত্রহীন বলে স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।




ধর্ষণ মামলায় দেশে প্রথম পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

বার্তাকক্ষ : টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে মাদ্রাসাছাত্রী গণধর্ষণের মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এ রায় দেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডাদেশ সংক্রান্ত অধ্যাদেশে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর ধর্ষণ মামলায় দেশে এটাই কোনো মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিলেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন- সাগর চন্দ্র, সুজন মনি রিশি, রাজন, সঞ্জীত এবং গোপী চন্দ্র শীল। এদের মধ্যে সঞ্জীত এবং গোপী চন্দ্র কারাগারে থাকলেও বাকিরা পলাতক।

এর আগে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০০০’-এর খসড়া সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়। পরদিন সেই অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

জাতীয় সংসদের অধিবেশন না থাকায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হয়।




সাতক্ষীরায় একই পরিবারের ৪ জনকে গলাকেটে হত্যা

বার্তাকক্ষ : সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ঘরের ভেতরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোর রাতে উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলসি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- খলসি গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে হ্যাচারি মালিক শাহিনুর রহমান (৪০), তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৩০), ছেলে সিয়াম হোসেন মাহি (৯) ও মেয়ে তাসনিম (৬)। এ ঘটনায় শাহিনুরের চার মাস বয়সী অপর সন্তান বেঁচে আছে।

শাহিনুর রহমানের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলাম জানান, বাড়িতে মা ও বড় ভাইয়ের পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ তারা সাতজন থাকতেন। মা কাল আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। তিনি (রায়হানুল) ছিলেন পাশের ঘরে। ভোরে পাশের ঘর থেকে তিনি বাচ্চাদের গোঙানির শব্দ শুনতে পান। তাৎক্ষণিক এগিয়ে গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। দরজা খুলে দেখেন ভাই-ভাবির মরদেহ। এর কিছুক্ষণ পর বাচ্চারাও মারা যায়। তবে শাহিনুরের চার মাস বয়সী অপর সন্তান মারিয়া বেঁচে আছে। তার শরীর কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।

তিনি আরো বলেন, তাদের সঙ্গে জমি-জায়গা নিয়ে পাশের কিছু লোকের বিরোধ রয়েছে। কিন্তু কারা এ ঘটনা ঘটালো তা বুঝতে পারছি না।

কলারোয়া থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিজের ঘরের মধ্যে গৃহকর্তা শাহিনুর রহমানসহ চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে শাহিনুরের পা বাধা ছিল ও তাদের চিলে কোঠার দরজা খোলা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে ছাদের চিলে কোঠার দরজা দিয়ে হত্যাকারীরা ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে।




‘২০২১ সালের শেষে ঢাকার মেট্রোরেল আংশিক চালু হবে’

ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি আশা প্রকাশ করেছেন, ২০২১ সালের শেষে ঢাকার মেট্রোরেল আংশিক চালু হবে। আর জাপানে নতুন প্রধানমন্ত্রী এলেও ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক জোরদার হবে।

এছাড়া চলতি অক্টোবর থেকে জাপান মহামারির কারণে অর্পিত ভিসা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে।

একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্পে অর্থায়ন করছে জাপান। করোনা পরিস্থিতির কারণে এই প্রকল্প কি বিলম্বিত হতে পারে বলে মনে করেন? যদি হয়, তবে নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প শেষ করা কি সম্ভব হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, “করোনা মহামারির সময়ও মেট্রোরেলের কাজ চলছে। তবে গতি কিছুটা কমেছে এটা ঠিক। কাজের অগ্রগতির জন্য নির্মাণ শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। এমআরটি লাইন-৬ নির্মাণে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক উদ্যোগ নিয়েছেন এবং কোভিডের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ”

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, “ডিএমটিসিএলের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে, তাদের নেতৃত্বে সময়সীমার মধ্যে যেন কাজটি সম্পন্ন হয়। আমি আশাবাদী, ২০২১ সালের শেষে এমআরটি লাইন-৬ আংশিক চালু হবে। এছাড়া লাইন-১ এর বিস্তারিত নকশা তৈরির কাজ চলছে। আমরা গত আগস্টে পরামর্শ চুক্তি স্বাক্ষরের পরে নর্থ লাইনের কাজ শুরু করেছি। ”

তিনি জানান, ডিএমটিসিএল এখন মেট্রোরেল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার কাজ শুরু করবে। বাণিজ্যিক পরিচালনা শুরুর জন্য শুধু নির্মাণের ক্ষেত্রে নয়, সুরক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সক্ষমতা জোরদার করা জরুরি।

ইতো নাওকি বলেন, “এমআরটি লাইন-৬ নির্মাণের লক্ষ্যে জাপান সরকার ২০১২ সাল থেকে চার ধাপে ২৩৭.৫ বিলিয়ন ইয়েন অর্থায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা এমআরটি লাইন-৬ এর বাণিজ্যিক অপারেশনের লক্ষ্যে নিরাপদে পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখব। একইসঙ্গে আমরা বাংলাদেশ সরকার ও ডিএমটিসিএলকে রেল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ- প্রশিক্ষণের জন্য অনুরোধ করতে চাই। ”

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। তার সময়ে ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক সবচেয়ে শক্তিশালী হয়েছিল। আবের পদত্যাগের পর ঢাকা-টোকিও সম্পর্কে কোনও প্রভাব পড়বে কি-না জানতে চাইলে জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, “২০১৪ সালে ঐতিহাসিক পারস্পরিক সফরের সময় দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর থেকে জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক নাটকীয়ভাবে বিস্তৃত ও অংশীদারিত্বের মধ্যে দিয়ে বিকাশ লাভ করেছে। ২০১৯ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফরকালে উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বিকাশের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে সম্বোধন করা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা স্মরণ করেছিলেন, সেই পারস্পরিক সফর ছিল দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অনেক বড় সুযোগ। আমি নিশ্চিত, জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের আগামী দিনে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। জাপানের নতুন নেতৃত্বেও সেই সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। প্রকৃতপক্ষে জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদ সুগা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী চলবেন। সে কারণে অবশ্যই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করি। ”

মহামারি পরবর্তী সময়ে জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে আপনারা গুরুত্ব দেবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, “দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বিকাশের জন্য উভয় দেশের দৃঢ়তা ও নিচ থেকে উচ্চ পর্যায়ের পারস্পরিক সফর বিনিময়ের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। আমার প্রত্যাশা, জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হবে। একই সাথে দুই দেশের জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ, পারস্পরিক বিনিময় ও সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করবে। বাংলাদেশ থেকে আমরা আরও শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণার্থী ও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীদের জাপানে স্বাগত জানাই। অক্টোবর থেকে জাপান মহামারির কারণে দেওয়া ভিসা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। নতুন শিক্ষার্থীদের জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসতে এবং পড়াশোনা করার অনুমতি দেবে। উভয় দিকে পর্যটনখাতেও সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হবে। ”

তিনি বলেন, “আগামী ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ও ২০২২ সালে জাপান-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০তম বার্ষিকীতে আমাদের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব আরও উন্নত করার জন্য আমাদের সামনে দুর্দান্ত সুযোগ। আমি সে লক্ষ্যে ঢাকায় আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার অপেক্ষায় আছি। ”

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে একত্রে একটি স্বাধীন ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তুলতে চাই। একই সঙ্গে এই প্রসঙ্গে আমিও রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুটি স্পর্শ করার সুযোগটি নিতে চাই। এই ইস্যুর স্থায়ী সমাধান কেবল বাংলাদেশ নয়, এই অঞ্চল ও এই অঞ্চলের বাইরের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাপান শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদানে সক্ষমতা ও প্রত্যাবাসনে সক্রিয় পরিবেশ তৈরি করতে বাংলাদেশের জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।




সিজনাল ভিসায় ৩০ হাজার শ্রমিক নেবে ইতালি

প্রতি বছরের মতো এবারও ৩০ হাজার ৮৫০ শ্রমিক নেবে ইতালি সরকার। কৃষি, হোটেল ও ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ইতালিতে প্রবেশ করতে পারবেন এসব শ্রমিক।

দীর্ঘ ৮ বছর পর বাংলাদেশকে কালো তালিকামুক্ত করল ইতালি সরকার। এর ফলে ইতালিতে সিজনাল ভিসায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। ১২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে কৃষি, হোটেল ট্যুরিজম সেক্টরে ৬ মাসের জন্য শ্রমিক আনেন ইতালি সরকার। ৬ মাস কাজ করার পর কাজের চুক্তি শেষে আবার তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরতে হয়। চলতি মাসের ১৩ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

যেসব দেশ থেকে শ্রমিক আসতে পারবে তারমধ্যে আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, দক্ষিণ কোরিয়া, আইভেরি কোস্ট, মিসর, এল সালভাদর, ইথিওপিয়া, ফিলিপাইন, গাম্বিয়া, ঘানা, জাপান, ভারত, কসোভো, মালি, মরক্কো, মরিশাস, মলডোভা, মন্টিনিগ্রো, নাইজার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, উত্তর ম্যাসেডোনিয়া প্রজাতন্ত্র, সেনেগাল, সার্বিয়া, শ্রীলংকা, সুদান, তিউনিসিয়া ও ইউক্রেন। স্পিড আইডি ও অভিবাসী সার্ভিস কাপ অফিস থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন আবেদনকারীরা।

এছাড়া এ বছর আবেদন করার পর অনেক যাচাই-বাছাই করার পর একজন শ্রমিক ইতালিতে বৈধভাবে আসতে পারবে। সেজন্য একজন মালিক সঠিক কর প্রদান করে কিনা তা কঠোরভাবে দেখবে সরকার।

তাই এ যাচাই-বাছাইয়ে অনেক আবেদন বাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিজ্ঞ অনেক অভিবাসী পরামর্শক মনে করেন। উল্লেখ্য, অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশিরা সরকারের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করার কারণে দীর্ঘ আট বছর বাংলাদেশকে কালো তালিকাভুক্ত করে রাখা হয়। নিয়মানুসারে সিজনাল ভিসায় একজন শ্রমিক ছয় মাস কাজ করার পর তাকে নিজ দেশে অবশ্যই ফেরত যেতে হয়।

এ ব্যাপারে, ইতালিতে জাসদের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনিচুজ্জামান আনিচ বলেন, চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালি সরকারের আমন্ত্রণে সফরে এলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ব্যাপারে তিনি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ইতালি সরকারের কাছে প্রস্তাব দেন। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর বাংলাদেশি শ্রমিকদের ব্যাপারে সরকার কালো তালিকা তুলে নেয়ায় শ্রমিকরা আসতে পারছেন।




ক্ষমা না চাইলে নুরকেই বয়কট: বিএসপি

বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদের (বিএসপি) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. কাজী এরতেজা হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নিজামুদ্দিন জিতু এক বিবৃতিতে ধর্ষণকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তর টেলিভিশন বয়কটের ডাক দেয়ায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

বুধবার এক বিবৃতিতে বিএসপি’র দুই নেতা বলেন, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর কোনো টেলিভিশনের টকশো-র আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করতেই পারেন। কিন্তু সেই টেলিভিশনকে বয়কট করার জন্য সামাজিক মাধ্যমে নুর যেভাবে নোংরা তৎপরতা চালিয়েছেন তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একাত্তর টিভির ফোন নম্বর ফেসবুকে শেয়ার করে তিনি গর্হিত অপরাধ করেছেন। সেই নম্বরে প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদী চক্র ক্রমাগতভাবে অশ্লীল বক্তব্য ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। নুর এ ঘটনায় স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন।

বিএসপি’র নেতারা বিবৃতিতে আরও বলেন, একাত্তর টেলিভিশনের বিরুদ্ধে নুরুল হক নুরের আহ্বান থেকে সরে এসে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা না করলে তাকে গণমাধ্যমের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হবে এবং তাকেই বয়কট করা হবে।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলার আসামি এই নুরুল হক নুর। এমনকি নানা সময়ে সরকারের বিভিন্ন কাজ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের সাথেও তার আঁতাত দেখা গেছে। টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে ধর্ষিতাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এসব কাজের জন্য নুরুল হক নুরকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।




প্রাথমিকে দুই পদে নিয়োগ পাবেন ৫১৬৬ শিক্ষক

নিউজ ডেস্ক : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের জন্য পাঁচ হাজার ১৬৬ জন শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার। এর মধ্যে দুই হাজার ৫৮৩ জন সংগীতে এবং দুই হাজার ৫৮৩ জন শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে নিয়োগ পাবেন।

সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পদ সৃষ্টি করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। এছাড়া ৯৮ হাজার ৩৩৮টি সাধারণ শিক্ষক এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক ৬৫ হাজার ৬২০টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও দেয়া হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং দেশীয় সংস্কৃতির শিক্ষা নিয়ে মানসম্মত জীবনযাপনে উপযোগী করে তুলতে এ দুইটি বিষয়ের জন্য আলাদা করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

এর আগে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, দেশের বিভিন্ন ক্লাস্টারে একজন করে শারীরিক শিক্ষা ও একজন করে সংগীতের শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন করে এ দুইটি পদে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই প্রাথমিকের প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নেয় মন্ত্রণালয়। সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষকের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দেন। শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু প্রাথমিক শিক্ষকের পদ সৃষ্টিই নয়, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের এক হাজার ৬৮০টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে প্রশাসনিক সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।




নুরের বিরুদ্ধে আরেক মামলা

বার্তাকক্ষ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে।

আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস সাম জগলুল হোসেনের আদালতে এ মামলাটি করা হয়।

মামলাটি করেন ভিপি নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগে করা মামলার বাদী। ফেসবুক লাইভে এসে মামলার বাদীকে নিয়ে ‘অশালীন মন্তব্য’ করায় মামলাটি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।




২৪ ঘণ্টার মধ্যে নুরলের গ্রেফতার দেখতে চান তুরিন আফরোজ

ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছাত্রীকে ‘দুশ্চিরত্র’ বলেছেন মামলার অন্যমত আসামি ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ৷ এই মন্তব্যের জন্য নুরুলকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ৷

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সমাবেশে তুরিন আফরোজ এই দাবি জানান৷ ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে গত ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর লালবাগ ও কোতোয়ালি থানায় নুরুল ও ছাত্র অধিকার পরিষদের সাময়িক অব্যাহতি পাওয়া আহ্বায়ক হাসান আল মামুনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন এই ছাত্রী৷ সেই মামলায় নিজের সংগঠনের দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের পেইজ থেকে লাইভে এসে নুরুল ওই মন্তব্য করেন৷

নবেন্দু নির্মল সাহা নামের এক ব্যক্তির উদ্যোগে ‘ফাতেমার পাশে আমরা’ শিরোনামে আয়োজিত এই সমাবেশে সংহতি জানিয়ে তুরিন আফরোজ বলেন, আমরা ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আইন পেতে যাচ্ছি৷ কিন্তু শুধু আইন করেই সবকিছু হয় না৷ আইনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন দরকার৷ যেখানে আমরা একজন নির্যাতিত নারীর পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছি, সেখানে একজন নির্লজ্জ কুলাঙ্গার তাঁকে চরিত্রহীন বলছে৷ এই যে ধৃষ্টতা সে দেখাচ্ছে, সেই নুরুলের সাহস আসলে কোথায়? আমি জানি, আইন তার নিজের গতিতে চলবে৷ একজন নির্যাতিত নারীকে দুশ্চরিত্রা বলার দায়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আটক করা না হলে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব, ঘরে ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেব৷

করোনা মহামারির মধ্যে অভিবাসীদের প্রতি মালয়েশিয়া সরকারের আচরণ নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলায় গত আগস্টে গ্রেফতার হওয়া রায়হান কবির বলেন, ধর্ষকদের কোনো দল বা সংগঠন নেই৷ ধর্ষকের বিকারগ্রস্ত মানসিকতাই ধর্ষণের জন্য দায়ী৷ আমি মালয়েশিয়ায় বাংলার মেহনতি মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে কারাভোগ করেছি, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি৷ আজকে সেই আমাকেই নিজের দেশে ব্যানার হাতে প্রতিবাদ করতে হচ্ছে৷ দেশে ধর্ষণের পরিসংখ্যান দেখে হতভম্ব ও লজ্জিত হই৷ আমিও পুরুষ, লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে৷ সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি সব ধরনের ধর্ষকদের বিরুদ্ধে৷ যখন যৌক্তিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক মোড়ক দেওয়া হয়, তখন আমার কষ্ট হয়৷ ধিক্কার জানাই, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুলকে, যিনি লাইভে এসে নির্যাতিত ছাত্রীকে নিয়ে খারাপ কথা বলেছেন৷ এটা পটেনশিয়াল ধর্ষকের লক্ষণ৷

২০০১ সালে ধর্ষণের শিকার হওয়া পূর্ণিমা রাণী শীল সমাবেশে বলেন, নিপীড়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধর্ষককে জুতাপেটা করে শাস্তি দেওয়া উচিত৷ এখনও মামলার জন্য মাঝেমধ্যে আমাকে আদালতে গিয়ে দাঁড়াতে হয়৷ আমি ফাতেমার পাশে আছি৷ নুরুলসহ সব আসামিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে৷

যৌন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীজোটের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুলের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘নুরুল সেই সমাজের প্রতিনিধি, যে সমাজ নারীকে ঘরে বন্দি করতে চায়৷ সরকার ঠিক কিসের ভয়ে নুরুলসহ ধর্ষকদের কেন গ্রেফতার করছে না? ধর্ষণের বিচার-প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা কাটাতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল করতে হবে, প্রত্যেক থানায় নারী সেল গঠন করতে হবে, আইন সংশোধন করতে হবে৷

অপরাজেয় বাংলার সদস্যসচিব এইচ রহমান মিলু বলেন, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল ক্ষমতাশালী হওয়ায় তাঁর ক্ষেত্রে আইন কাজ করছে না৷ অন্যান্য ঘটনায় আসামিরা গ্রেফতার হলে নুরুলের ক্ষেত্রে কেন কালক্ষেপণ করা হচ্ছে? এই ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে অপরাজনীতি করার চেষ্টা হচ্ছে৷ ধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার হয়ে থাকলে নুরুল কেন নয়? নুরুলের ক্ষেত্রে কেন আইনের শাসন কাজ করে না? সে কি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী নাকি প্রধান বিচারপতি? নুরুলের পক্ষে এখন জামায়াত ও বিএনপি কাজ করছে৷ সব ধর্ষক গ্রেফতার হয়, নুরুল কেন গ্রেফতার নয়?




বিচার চাইলে নারী দুশ্চরিত্র কেন?

।।লীনা পারভীন।।
গোটা দেশ এখন উত্তাল ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে। প্রতিদিন গড়ে দুটি-তিনটি করে সংবাদ আসে নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যার। পরিসংখ্যান বলে, এর মাত্রা দিনে দিনে বেড়েই চলছে। আমরা সবাই যখন সোচ্চার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে, ভিক্টিম ব্লেইমিং চলবে না, আদালতে জেরার নামে ভিক্টিমকে হয়রানি করা যাবে না- ঠিক সেই সময়েই ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরু এক ভিডিওবার্তার মাধ্যমে ধর্ষণের বিচার দাবিতে অনশনরত এক ছাত্রীকে ‘দুশ্চরিত্রা’ বলে বক্তব্য দিয়েছেন।

কেন এই অপবাদ? কী দোষ সেই ছাত্রীর? ২১ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী নুরসহ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ছয় নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহায়তাকারী হিসেবে মামলা করেছেন। জানা গেছে, ছাত্রীটিও একই সংগঠনের একজন সদস্য। অর্থাৎ, তিনি তারই দলীয় লোকদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এই অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য তিনি অনশনের মতো কঠিন কর্মসূচিতেও গিয়েছেন। আমরা কেউই জানি না যে, এই অভিযোগ সত্য না মিথ্যা। কিন্তু একটি অভিযোগ এসেছে যার প্রক্রিয়ায় পুলিশ ইতিমধ্যে দুই জনকে গ্রেফতারও করেছে।

আমরা জানি নুর একজন প্রতিনিধি যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন এই একই ব্যানার থেকে। জাতীয় পর্যায়ের নানা ইস্যুতেও তিনি বক্তব্য দিয়ে থাকেন। চলমান ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনেও তিনি সরব আছেন রাস্তায়। তাহলে তিনি কেন একজন ভিক্টিমের চরিত্র নিয়ে কথা বলছেন? নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সেজন্য? সেই ছাত্রীটি যদি মিথা অভিযোগও করে থাকে তাহলেও কিন্তু নুর কেন, কেউই তাকে প্রকাশ্যে ‘দুশ্চরিত্র’ বলতে পারে না। আরেকজনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারোই নেই। কথা বলতে চাইলে আপনি অভিযোগ নিয়ে কথা বলবেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আপনাকে অবশ্যই যৌক্তিকভাবে আসতে হবে।

আমরা এটাও জানি যে অভিযোগকারী এর আগে বলেছিলেন যে নুর তাকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করবে বলে হুমকি দিয়েছিল। আজকে নুরের এই বক্তব্য কি সেটিকেই সমর্থন করছে না? আইন তার নিজের গতিতে চলবে। সেখানে প্রভাব খাটাতে গেলে আপনাকে ভুল পথেই যেতে হবে।

নুরের এই বক্তব্য আসলে আমাদের সমাজের পিছিয়ে পড়া কুপুমুণ্ডুক জনগোষ্ঠীরই বক্তব্য, যারা নারীকে কেবল দুর্বলই ভাবে না, সুযোগ পেলেই নারীর চরিত্র নিয়ে মনগড়া কাহিনী গড়তে পিছ পা হয় না। নুরের বক্তব্য একজন নারীর প্রতি মারাত্মক অবমাননাকর ও আপত্তিজনক। স্বাধীন বাংলাদেশের আইনের আশ্রয় নেয়ার অধিকার সবারই আছে। সুতরাং আমি মনে করি, নুরের এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আরেকজনের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছেন। সামাজিকভাবে হেয় করেছেন একজন নারীকে। তিনিও সমাজের প্রচলিত ধারাতেই চলতে চেয়েছেন, যেখানে যুক্তিতে না পারলে পুরুষতান্ত্রিক পেশি শক্তিকেই কায়েম করতে চায়।

আমরা আশা করি, সাবেক ভিপি নুর তার বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবেন এবং ভিক্টিমকে তার অভিযোগ প্রমাণে সকল ধরনের সহায়তা দিবেন। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাইবেন, আবার আপনি নিজেই ধর্ষকের আশ্রয়দাতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ দিবেন- এটা কারোই কাম্য নয়।

নুরসহ সকল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে। এমন একটি মুহূর্তে নুরের এমন বক্তব্য আসলে ‘ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাই না’ টাইপ হয়ে গেল।

লীনা পারভীন- কলাম লেখক