ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন

ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০৩ এর দুটি ধারায় সংশোধনী সোমবার অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার সকালে সংশোধিত আইনের অধ্যাদেশে সই করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতির সহকারী প্রেস সচিব ইমরানুল হাসান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, গেজেট প্রকাশের পর মঙ্গলবারই সংশোধিত আইনটি কার্যকর হবে।

আইন সংশোধনীর যে কোনো প্রস্তাব সংসদে পাস হতে হয়। তবে সংসদ অধিবেশনে না থাকলে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে জারি করা যায়। পরে সংসদ যখন বসবে, প্রথম অধিবেশনেই এর অনুমোদন নিতে হবে।

২০০৩ সালে সংশোধন করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছিল। তবে দলগত ধর্ষণ বা ধর্ষণের ফলে মৃত্যু হলে প্রাণদণ্ডের বিধান আছে। পাশাপাশি দণ্ডিতের অর্থদণ্ডের বিধান ছিল।

আইনটি আবার সংশোধনের ফলে এখন থেকে যে কোনো ধর্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড হচ্ছে।

এর আগে সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল সভায় আইন সংশোধনের খসড়ায় অনুমোদন দেয়া হয়।

আইনে যেসব সংশোধনী

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ও ৯ (৪) ধারাতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু ইত্যাদির ক্ষেত্রে শাস্তির প্রসঙ্গ রয়েছে এ দুটি ধারায়।

সংশোধনের আগে ৯ (১) ধারায় বলা হয়েছিল, ‘যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে র্ধষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।’

অন্যদিকে ৯ (৪) এর (ক) ধারায় ছিল, ‘যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তা হলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।’

সংশোধন করে এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, হাইকোর্টের নির্দেশে আইনের ১১ (গ) ধারাও পাল্টানো হয়েছে। যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানোর মতো অপরাধের শাস্তির প্রসঙ্গ রয়েছে ১১ ধারায়। তবে ১১ (গ) ধারাটি সাধারণ জখম সম্পর্কিত। এ ধরনের অপরাধ আগে আপসযোগ্য না থাকলেও সংশোধিত আইনে সে সুযোগ রাখা হয়েছে।

১১ (গ)-তে বলা হয়েছে, কোনো নারীর স্বামী অথবা স্বামীর বাবা, মা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি যৌতুকের জন্য সাধারণ জখম (simple hurt) করলে… ‘অনধিক তিন বছর কিন্তু অন্যুন এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এই দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।‘




সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার নিয়ে সরকারের সতর্কবার্তা

নিউজ ডেস্ক : নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে দেশ ও বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে এসব অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে দেশ ও বিদেশ থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, জনপ্রতিনিধি, সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিষয়ে অসত্য, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে। এতে দেশের বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা, জনমনে উদ্বেগ, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকার ধৈর্যের সঙ্গে এসব অপপ্রচারকারী ও তাদের সহযোগীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, দেশের স্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও জনস্বার্থে এসব অপকর্ম সৃষ্টিকারী অপরাধীর বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।

এ অবস্থায় সরকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেশ ও বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সব ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




সব সহকারী শিক্ষক পেলেন ১৩তম গ্রেড

বার্তাকক্ষ : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে সবাইকে জাতীয় বেতন কাঠামোর ১৩তম গ্রেড দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার (১২ অক্টোবর) সবার গ্রেড উন্নীত করার নির্দেশনা দিয়ে আদেশ জারি করেছে।

ওই আদেশে বলা হয়, অর্থ বিভাগের সম্মতিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড-১৪ (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) এবং বেতন গ্রেড-১৫ (প্রশিক্ষণ বিহীন) থেকে গ্রেড-১৩ তে উন্নীত করা হয়। মাঠ পর্যায়ে সরকারের এ সিদ্ধান্ত বেশ প্রশংসিত হয়।

অর্থ বিভাগের সম্মতিপত্রে ৫ নম্বর কলামে উল্লেখ রয়েছে, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯ এর তফসিল অনুযায়ী পদ পূরণযোগ্য’ এবং ১ নম্বর শর্তে বলা হয়েছে ‘উপরের ৪ নম্বর কলামে নির্ধারণকৃত বেতন গ্রেড ৫ নম্বর কলামে প্রদর্শিত যোগ্যতা/অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কার্যকর হবে’। অর্থাৎ ২০১৯ সালের নিয়োগবিধি অনুযায়ী যারা নব নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন তাদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার এ শর্ত প্রযোজ্য হবে। বাকি শিক্ষকরা যারা আগে থেকে কর্মরত আছেন অর্থাৎ সহকারী শিক্ষক হিসেবে যাদের অভিজ্ঞতা আছে তারাও বেতন স্কেল উন্নীতকরণের এ সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন। কিন্তু যে সব অভিজ্ঞ সহকারী শিক্ষক ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯’ এর আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত হননি এবং স্নাতক ডিগ্রি বিহীন, তারা বেতন গ্রেড-১৩ তে বেতন নির্ধারণ করতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

আদেশে আরো বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯’ অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকের নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। কিন্তু ইতোপূর্বে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৩’তে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এসএসসি এবং পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি। ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক বিধিমালা, ১৯৯১’তে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এসএসসি এবং পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি। ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩’তে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি এবং পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্নাতক।

২০১৯ সালের পূর্বের নিয়োগিবিধির আওতায় যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তারা ওই নিয়োগবিধিতে যে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারিত ছিল সে অনুযায়ী নিয়োগ পেয়েছেন। ওই সব শিক্ষকের দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কাজেই ওই সব বিধিমালার আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত সব সহকারী শিক্ষক অর্থ বিভাগের সম্মতিপত্রের ১ নম্বর শর্তে উল্লিখিত যোগ্যতা/অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বেতন গ্রেড-১৩ পেতে পারেন বলে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করে।

‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯ এর বিধি ১০ এ উল্লেখ রয়েছে, “(১)এই বিধিমালা কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩’ রহিত হইবে। (২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত বিধিমালার অধীন যে সকল কার্যক্রম নিষ্পন্ন হইয়াছে তাহা এই বিধিমালার অধীন সম্পন্ন হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে। ”

গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, শিক্ষাবান্ধব সরকারের এরকম একটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাদানে নিয়োজিত শিক্ষকদের বিরাজমান সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ২০১৯ সালের নিয়োগবিধি জারি হওয়ার পূর্বের নিয়োগবিধি অনুযায়ী যারা সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে বেতন গ্রেড-১৩ এর সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।




ধর্ষণ যারা করে, তারা পশু: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ষণকারীদের পশুর সাথে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান করেছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের ভার্চুয়াল আয়োজনে এ কথা বলেন তিনি। এ সময়, প্রকৃতি রক্ষা করেই উন্নয়ন করা হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ গোটা বিশ্বে এখন দৃষ্টান্ত গড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ধর্ষণ যারা করে, আমি বলব তারা পশু হয়ে যায়। এ কারণেই তাদের মধ্যে এরকম পাশবিকতা দেখা যায়। আর এ কারণে মেয়েরা ক্ষতিগ্রস্ত। তাই এই আইনটি সংশোধন করে যাবজ্জীবনের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে এরইমধ্যে ক্যাবিনেটে আইন পাশ করে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া যেহেতু সংসদ সেশনে নেই, আমরা এটা অধ্যাদেশ জারি করে দিচ্ছি। তাই যেকোন সমস্যা দেখা দিলে সেটা মোকাবেলা করাই আমাদের লক্ষ্য।




ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের অধ্যাদেশ জারি

ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করে সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আজ রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের অধিবেশন না থাকায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হলো।

বর্তমান আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। আর নতুন আইন চালু হওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি হবে ‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’।

একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আন্দোলনের মধ্যে গতকাল সোমবার (১৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে, সংশোধিত নারী ও শিশুনির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

এরপর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা নিশ্চয় বিশ্বাস করি যে, ধর্ষণের সাজা যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ড করায় এই অপরাধটি কমে আসবে। না হলে (সাজা) বাড়ানোর প্রশ্নটায় আসতাম না। সাজা বাড়ানোর ব্যাপারটা পরিস্থিতির কারণে। আপনারা জানেন বিশ্বে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে অনেক বিতর্ক আছে। তারপরও আমাদের দেশে এই ঘৃণ্য অপরাধটির যে চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি, সে কারণে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, এটা বাড়ানো উচিত। সেই প্রেক্ষিতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারটা সংশোধনী এনেছি।’

গতকাল (সোমবার) সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের পরই দেশব্যাপী ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেসব আন্দোলন থেকে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবনের পরিবর্তে মৃত্যদণ্ডের দাবি ওঠে। এরই প্রেক্ষিতে গেল ৮ অক্টোবর আইনমন্ত্রী জানান, জনগণের দাবির মুখে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার।




উন্নত টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে সেনাবাহিনী-বিএসসিএল সমঝোতা

উন্নত টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে ‘সহযোগিতার জন্য’ বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রোববার ভার্চুয়াল এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যালস ও আইটি পরিদপ্তর এবং বিএসসিএল এর মধ্যে এই সমঝোতা হয় বলে বিএসসিএলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি স্যাটেলাইট হাব স্টেশন স্থাপন এবং নয়টি অটোট্র্যাকিং টার্মিনাল স্টেশন স্থাপন প্রক্রিয়া প্রায় শেষ হয়েছে, যা পরিচালনার জন্য বিএসসিএল থেকে তরঙ্গ নেওয়া প্রয়োজন।

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় সেনাবাহিনীর সিগন্যালস ও আইটি পরিদপ্তর এবং বিএসসিএল তাদের জনবল কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ‘অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নত টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো বিনির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে’ বলে জানানো হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

বিএসসিএল বলছে, এই সমঝোতার আওতায় সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের কারিগরি জনবল উন্নত প্রযুক্তি সম্পর্কে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ পাবে। সেই সঙ্গে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালার মাধ্যমে লব্ধ জ্ঞান আদান প্রদান সম্ভব হবে। এ সংক্রান্ত যাবতীয় গবেষণা ও উন্নয়নে ‘সমন্বিত প্রচেষ্টার’ প্রতিফলন ঘটবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সফিকুর রহমান এবং বিএসসিএল চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

২০১৮ সালের ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর উৎক্ষেপণ করা হয়।

এরপর গতবছর ১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর বাণিজ্যিক সম্প্রচারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।




মানুষের মনের ভাষা প্রধানমন্ত্রী বোঝেন : ওবায়দুল কাদের

দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ বন্ধ করতে হলে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে সেতু মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধানের বিষয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে সিস্টেম করেছেন, যার অ্যাজেন্ডা নেই তাদের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডাকা হয় না। আমারও আজ কোনো অ্যাজেন্ডা ছিল না। তবে ধর্ষণের এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্যোগ নিয়েছেন। আমার মনে হয়, মানুষের মনের ভাষা প্রধানমন্ত্রী বোঝেন। এটি এখন জনদাবিতে পরিণত হয়েছে। কাজেই তাদের এই দাবিকে অবশ্যই আমরা স্বীকৃতি দেব। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত হলে এদের মধ্যে একটি ভীতিও থাকবে। যেভাবে এটি বাড়ছে, নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ বন্ধ করতে হলে এ ধরনের কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।




বরিশাল বিভাগে ২ লাখ ৮২ হাজার জেলে পাবেন ভিজিএফের চাল

শুরু হচ্ছে ইলিশের ডিম ছাড়ার প্রধান মৌসুম। এ কারণে আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে।

সরকারি এ নির্দেশনা অনুযায়ী ওই ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ।

এ নির্দেশনা অমান্য করলে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।

দীর্ঘ ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকলে জেলেদের রোজগারও বন্ধ হয়ে যায়। তাই এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। এবারও সে সহায়তা দেওয়া হবে।

নিষেধাজ্ঞার এ সময়কে ঘিরে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ৪১ উপজেলায় দুই লাখ ৮২ হাজার ৫০০ জেলে পরিবারের জন্য পাঁচ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বরিশাল বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তর। ফলে প্রতি পরিবার ২০ কেজি করে চাল পাবে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের মধ্যে বরিশাল জেলায় ৪৭ হাজার জেলে পরিবারকে ৯৪০ মেট্রিক টন, পিরোজপুর জেলায় ১৭ হাজার জেলে পরিবারকে ৩৪০ মেট্রিক টন, পটুয়াখালী জেলায় ৫৮ হাজার জেলে পরিবারকে এক হাজার ১৬০ মেট্রিক টন, ভোলা জেলায় এক লাখ ২০ হাজার জেলে পরিবারকে দুই হাজার ৪০০ মেট্রিক টন, বরগুনা জেলায় ৩৭ হাজার জেলে পরিবারকে ৭৪০ মেট্রিক টন ও ঝালকাঠি জেলায় তিন হাজার ৫০০ জেলে পরিবারের জন্য ৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক আনিছুর রহমান তালুকদার জানান, ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ মৌসুমে কেউ মাছ আহরণে নদীতে নামলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি জেলে পরিবার ২০ কেজি করে চাল পাবে। প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এসব চাল উপজেলা মৎস্য অফিসের তালিকাভুক্ত জেলেদের ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দেবেন।

সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে গত কয়েক বছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। যেখানে ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল দুই দশমিক ৯৯ লাখ মেট্রিক টন। সেখানে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন বেড়ে পাঁচ দশমিক ৩৩ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।




সহজ হচ্ছে মদ কেনাবেচার লাইসেন্স, কারা পাবেন?

বার্তাকক্ষ : সহজ হচ্ছে মদ কেনাবেচার জন্য বারের লাইসেন্স। এক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে দেশের পর্যটন এলাকাসহ কূটনৈতিক জোন ও বিশেষ অর্থনৈতিক জোনকে।

দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, কোকেনের মতো ভয়ঙ্কর মাদক থেকে তরুণ সমাজকে ফেরাতেই নেওয়া হচ্ছে এমন উদ্যোগ। এর বাইরেও বার কিংবা অফ শপের লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আসা বিদেশিদের বিষয়টিও বিশেষভাবে বিবেচনায় রেখেছেন সংশ্লিষ্টরা। এক্ষেত্রে রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার লাইসেন্স, হোটেল অ্যান্ড বার লাইসেন্স, কাব অ্যান্ড বার লাইসেন্স, বিলাতি মদের অফ শপ লাইসেন্স, ডিউটি ফ্রি অফ শপ লাইসেন্স, ডিউটি পেইড অফ শপ লাইসেন্স নামে ছয় প্রকারের লাইসেন্সের বিষয়টি রাখা হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ‘হোটেল/রেস্তোরাঁ/কাব-এ বার লাইসেন্স ও সব ধরনের অফ শপ-এ বিলাতি মদ/বিদেশি মদের লাইসেন্স/পারমিট প্রদান ও নবায়ন সংক্রান্ত’ একটি নীতিমালার খসড়ায়।

এছাড়া বিদেশি মদ আমদানি, মদপানের পারমিট প্রদান, একজন ব্যক্তি মাসে কতটুকু মদ গ্রহণ করতে পারবেন ইত্যাদি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। দেশে অ্যালকোহল বা মদ কেনাবেচায় এখনো মুসলিম প্রহিবিশন রুল- ১৯৫০ ও এক্সাইজ ম্যানুয়াল, ভলিউম-২ এর বিধান প্রতিপালন করা হয়। এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাহী আদেশে অ্যালকোহল বা মদপান ও কেনাবেচার বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯০ এর আলোকে ১৯৯৯ সালে একটি বিধিমালা করা হলেও সেখানে অ্যালকোহল বা মদপানের বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ ছিল না।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালয়েশিয়ার মতো মুসলিম দেশেও যত্রতত্র বার রয়েছে। বারের সংখ্যা বেশি হলেই যে অপরাধ বেড়ে যাবে, এটা কোনোভাবেই ঠিক নয়। অথচ প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অবৈধ মাদকের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এতে করে বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। তবে লাইসেন্সের সংখ্যা বাড়ালেও বারের কেনাবেচার এবং কারা কতটুকু কিনছেন এর ওপর বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বিধিমালায় অ্যালকোহলের বিষয়টা একটা গাইডলাইনের মধ্যে আনা হচ্ছে। বিধিমালা হলে গাইডলাইনের মধ্য থেকে যারা আবেদন করবে, সরকার যাচাই-বাছাই করে তাদের লাইসেন্স দেবে। তবে অবৈধ মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে খসড়ায় বারের লাইসেন্স প্রাপ্তি অনেক সহজতর করা হয়েছে। পর্যটনের বিষয়টি মাথায় রেখে নিয়ন্ত্রিতভাবে হোটেল-রেস্টুরেন্ট এবং তারকামানের হোটেলগুলোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, খসড়া নীতিমালায় কূটনৈতিক জোন, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন এবং পর্যটন এলাকায় বার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হোটেলের মানভেদে বার লাইসেন্সের সংখ্যা নির্ধারিত হবে। উপযুক্ততা ও বাস্তবতার নিরিখে দুই তারকা মানসম্পন্ন হোটেলে একটি বার লাইসেন্স, তিন তারকা হোটেলে সর্বোচ্চ তিনটি বার লাইসেন্স, চার তারকা হোটেলে সর্বোচ্চ চারটি, পাঁচ বা অধিক তারকা হোটেলে সর্বোচ্চ সাতটি বার লাইসেন্স, পর্যটন বা কূটনৈতিক এলাকার রিসোর্টে একটি বার লাইসেন্স, রেস্টুরেন্টে একটি বার লাইসেন্স, কাবে একটি বার লাইসেন্স, ডিউটি ফ্রি শপে আগমন/বহির্গমন/ট্রানজিটের জন্য পৃথকভাবে একটি করে ডিউটি ফ্রি অফ শপ লাইসেন্স, ডিউটি পেইড অফ শপ লাইসেন্স একটি (বৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের কর্মস্থল বা বাসস্থান নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে), পর্যটন বা অভিজাত এলাকায় একটি বিলাতি মদের অফ শপ লাইসেন্স দেওয়া হবে। বিভিন্ন মানসম্পন্ন হোটেলের ক্ষেত্রে একাধিকবার লাইসেন্স প্রদান করা যাবে। তবে একাধিক লাইসেন্সের আবেদনের ক্ষেত্রে ভিন্ন স্থান নির্ধারণ এবং যৌক্তিকতা প্রদান করতে হবে। এরূপ ক্ষেত্রে আবেদনের যোগ্য বিবেচিত প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে যোগ্যতা ও যৌক্তিকতা উল্লেখপূর্বক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

বিদেশি নাগরিকের ১০০ ভাগ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে বার লাইসেন্স দেওয়া হবে না উল্লেখ করে নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বাংলাদেশিদের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে বার লাইসেন্স ইস্যু করা যাবে। সেক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট, বিনিয়োগ বোর্ডের নিবন্ধন, বিনিয়োগের পরিমাণ ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য দাখিল করতে হবে।’

খসড়া নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, ‘কাব-এ বার লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের সঙ্গে কাবের মদপায়ী (পারমিটধারী) সদস্য ও সব সাধারণ সদস্যের পূর্ণ তালিকা আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। কাবের লাইসেন্সের আবেদন করতে হলে সদস্যদের মধ্যে কমপক্ষে ২০০ জন বিলাতি মদপানের জন্য পারমিট থাকতে হবে। কাবের ক্ষেত্রে পারমিটধারী কাব মেম্বাররা কাবের বারের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসে মদপান করতে পারবেন।’

মদপানের পারমিট ইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘কোনো মুসলামনের ক্ষেত্রে মদ বা মদজাতীয় পানীয় পানের পারমিট প্রাপ্তির জন্য ডাক্তারি ব্যবস্থাপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে সংশ্লিষ্ট অফিসে আবেদন করতে হবে। মুচি, মেথর, ডোম, ঝাড়ুদার ও চা বাগানের শ্রমিক ইত্যাদি পেশার লোকজন পারমিট বলে দেশি মদ পান করতে পারবেন।’ আগেও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য মদপানে ডাক্তারি ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে পারমিট গ্রহণ করতে হতো। তবে অমুসলিমদের জন্য মদপানে আগের মতো নতুন বিধিমালায় কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। মদপানের পারমিট আগের মতো বছর শেষে নবায়ণযোগ্য হবে না। প্রতি বছর নতুন করে পারমিট সংগ্রহ করতে হবে। একই ব্যক্তির নামে একই মেয়াদে বিলাতি মদ এবং দেশি মদের পারমিট ইস্যু করা যাবে না। একজন পারমিটধারীকে মাসে সর্বোচ্চ সাত ইউনিট (প্রতি ইউনিট ৭৫০ মিলিলিটার) বিলাতি মদ, ১১.২৫ লিটার বিয়ার, ২.২৫ লিটার ওয়াইন বা মদজাতীয় পানীয় সরবরাহ করা যাবে। তবে ২১ বছরের নিচে কোনো ব্যক্তির কাছে মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে নীতিমালায়।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, বার বা অফ শপের পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত নির্ধারিত সময়সূচি বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে।

শুক্রবারে বার বা অফ শপ বন্ধ রাখতে হবে। এছাড়া মহররম, ঈদে মিলাদুন্নবী, শবেবরাত, শবেকদর, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা এবং সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত দিনে বার বা অফ শপ বন্ধ রাখতে হবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত বার প্রেমিসেসের মধ্যে কোনোরূপ নাচ বা অশ্লীল সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা যাবে না। হোটেল/মোটেল/রিসোর্ট/রেস্টুরেন্ট/কাব বার ও অফ শপ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা ও সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। দেশি মদের দোকান সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট বা মার্কেটের প্রবেশ পথ, গোসলের ঘাট, শিশু সদনের প্রবেশ পথ বা তার ১০০ মিটার সংলগ্ন এলাকার মধ্যে সাধারণভাবে কোনো বার বা অফ শপের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না।

সেনানিবাস এলাকার মধ্যে বার বা অফ শপ স্থাপন করতে হলে আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেনানিবাস এলাকার জিওসির অনাপত্তিপত্র দাখিল করতে হবে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিফতরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বারের সঙ্গে।

তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে মাত্র আমি ডিএনসিতে যোগদান করেছি। এখনো পর্যন্ত সবকিছুর বিষয়ে খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই এ বিষয়ে পুরোপুরি না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন




সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত মেয়র আতিক

স্ত্রী ও ব্যক্তিগত সহকারীসহ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

রোববার (১১ অক্টোবর) তাদের সবার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

মেয়র আতিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী এপিএস টু রিশাদ মোর্শেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

করোনা শনাক্ত হলেও স্ত্রীসহ বর্তমানে বাসায় আইসোলেশোনে আছেন ঢাকা উত্তরের এ নগরপিতা।

জানা গেছে, রোববার থেকে আতিকুল ইসলামের শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। পরে রাতে করোনা পরীক্ষায় তার পজিটিভ আসে।

সিটি কপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, সিটি কর্পোরেশনের সচিব রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়াও কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন।

ডিএনসিসি কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, বুধবার দুপুরে ডিএনসিসির উদ্যোগে চলমান খাল পরিষ্কার কার্যক্রম এবং বিভিন্ন খাল থেকে প্রাপ্ত মালামাল প্রদর্শনী পরিদর্শনে সময় জনসমাগম হয়। সেখান থেকে তিনি সংক্রমিত হতে পারেন।




পদ্মা সেতুর প্রায় ৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান

অবশেষে পদ্মা সেতুর ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটির ওপর স্থাপন করা হয়েছে ৩২তম স্প্যান। ৩১তম স্প্যান বসানোর ৪ মাস পর এই স্প্যানটি বসানো হলো। এটি বসানোর ফলে মূল সেতুর অবকাঠামোর দৈর্ঘ্য দাঁড়াল ৪ হাজার ৮০০ মিটার বা প্রায় ৫ কিলোমিটার।

তবে শনিবার মাওয়া প্রান্তের ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটির ওপর পদ্মা সেতুর ৩২তম স্প্যান বসানোর দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হলেও পরে তা সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ৫টি স্প্যান খুঁটির ওপর বসানোর লক্ষ্য ছিল। তবে মাওয়া প্রান্তের মূল পদ্মায় প্রচণ্ড স্রোত থাকায় একটি স্প্যানও বসানো সম্ভব হয়নি। এখন পদ্মায় বন্যার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্রোতের তীব্রতাও স্বাভাবিক গতিতে ফিরেছে। ফলে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজেও গতি ফিরেছে।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল পদ্মা সেতুতে মোট ৪২টি খুঁটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে ২১টি ও জাজিরা প্রান্তে ২১টি। আর ৪২টি খুঁটির ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হলো ৩২টি স্প্যান।
এসএ/




ফেনীতে বাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ৩

ফেনীর ফতেহপুর রেলক্রসিংয়ে এনআর পরিবহনের বাসে চট্রগ্রামগামী মেইল ট্রেনের ধাক্কায় তিনজন নিহত ও আরো অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আজ রবিবার (১১ অক্টোবর) ভোর সোয়া ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এই দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। জেলা সদর হাসপাতালে আহতদের নেয়া হয়েছে। আহতদের বেশিরভাগ রোগীই জরুরি বিভাগে আছেন বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এছাড়াও কয়েকজনকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বাসের যাত্রীদের কয়েকজন জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসে এনআর পরিবহনের বাসটি। কুমিল্লার নুর জাহান হোটেলে যাত্রা বিরতির পর আবার ছাড়ে। আর ভোরে গভীর ঘুমের ছিলেন তারা। হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তাদের। এরপর তারা দেখেন বাসটি উলটে আছে। অনেকেই ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় বাসের ড্রাইভারের কোনো গাফিলতি আছে কিনা তা জানা যায়নি।

কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আমি ঘটনাটি আরেকজনের মুখে শুনে সাথে সাথে গাড়ি ঘুরিয়ে এখানে আসি। আমি অন্তত ১০-১২ জনকে অবস্থায় হাসপাতালে পাঠাই। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক মনে হয়েছে।