মচমচে চিকেন পাকোড়া

সারাদিন রোজার পর ইফতারে সবাই নানা স্বাদের খাবার খেতে পছন্দ করেন। নিয়মিত খাবারের সঙ্গে নতুন কোনও রেসিপি যোগ হলে তা ইফতারে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেহরি এবং ইফতারে প্রোটিন রাখা জরুরি।সেক্ষেত্রে মুরগী দিয়ে তৈরি চিকেন পাকোড়া রাখতে পারেন ইফতারে। স্বাদের পাশাপাশি এটি শরীরে প্রোটিনের চাহিদাও পূরণ করবে।

উপকরণ : মুরগীর বুকের মাংস ২ টুকরা ছোট ছোট করে কাটা, পেঁয়াজ বাটা ১টি, আদা বাটা আধা চা চামচ, মরিচের গুড়া ১ চা চামচ, হলুদের গুড়া সামান্য, গরম মসলা আধা চামচ, ধনিয়ার গুড়া ১ চামচ, লবণ স্বাদ মতো, বেসন আধা কাপ, চালের গুড়া ২ টেবিল চামচ

প্রস্তুত প্রণালী : প্রথমে মুরগীর ছোট টুকরাগুলো ভাল করে ধুয়ে একটা বড় গামলায় নিন। এবার এতে সব গুড়া মসলা মেশান। এখন এতে চালের গুড়া ও বেসন লাগান। ভুলেও এ মিশ্রণে পানি দেবেন না। কারণ মুরগীতে থাকা পানিতেই সব মিশ্রণ ভালভাবে মেখে যাবে। এবার মসলা মাখানো মুরগীর ছোট ছোট টুকরাগুলো কড়াইয়ে তেল দিয়ে ভাজতে থাকুন। একসঙ্গে সব টুকরা দেবেন না ।অল্প অল্প করে দিয়ে মাঝারি আঁচে ভাজতে থাকুন। মুরগীগুলো বাদামী রঙ ধারন করলে নামিয়ে ফেলুন। একটা হটপটে টিস্যু পেপারে ভাজা মুরগীর পাকোড়াগুলো রেখে দিন ইফতার পর্যন্ত। তাহলে ইফতারের সময়ও এগুলো গরম এবং মচমচে থাকবে।




মুরগির মাংসের ভিন্ন পদ ‘লেমন চিকেন’

রোজ রোজ মুরগির মাংসের ঝোল আর ফ্রাই খেতে কারই বা ভালো লাগে। চাইলে চির চেনা মুরগিকে রান্না করতে পারেন ভিন্ন উপায়ে। লেবুর রসের স্বাদযুক্ত মুরগির মাংস খেয়েছেন কখনো? চলুন জেনে নেওয়া যাক মুরগির মাংসের ভিন্ন রেসিপি লেমন চিকেনের প্রস্তুত প্রণালি-

যা যা প্রয়োজন-

সরিষার তেল- আধা কাপ

জিরা- ২ চা চামচ

শুকনো মরিচ- ২০টি

পেঁয়াজ কুঁচি- ৮/১০টি

রসুন কুঁচি- আধা কাপ

হলুদ গুঁড়া- দেড় চা চামচ

ধনিয়া গুঁড়া- ২ চা চামচ

লবণ- ৩/৪ চা চামচ

মুরগি- ৩ কেজি

লেবুর রস- ১ কাপ

আখের রস- ৩/৪ চা চামচ

ধনেপাতা কুচি- সামান্য
প্রণালি-

● কড়াইয়ে সরিষার তেল দিয়ে গরম হতে দিন। গরম হলে তাতে জিরা, শুকনো মরিচ ও পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ভেজে নিন।

● এবার রসুন কুচি, হলুদের গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো ও লবণ দিয়ে মাঝারি আঁচে নাড়ুন। মসলা কষে নরম হয়ে এলে এবং সুগন্ধ বের হলে মুরগির মাংস দিয়ে দিন। ভালো করে মাংসের টুকরোগুলো ভেজে নিন।

● এবার লেবুর রস মেশান। সবশেষে দিন আখের রস। এরপর ঢাকনা দিয়ে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা মাঝারি আঁচে রান্না করুন।

● মাংস সেদ্ধ হলে ওপর থেকে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিন।

ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে পরিবেশন করুন মজাদান লেমন চিকেন।




মুখরোচক চিকেন শর্মা রোল

চিকেন শর্মা রোল স্ন্যাকস হিসেবে বেশ সুস্বাদু একটি খাবার। খুব অল্প সময়েই তৈরি করা যায় এই মজাদার রেসিপি। বিকালের নাশতায় খেতে পারেন চিকেন শর্মা রোল।

আসুন দেখে নেই কীভাবে তৈরি করবেন চিকেন শর্মা রোল।

উপকরণ

মুরগির মাংস—২৫০ গ্রাম, পেঁয়াজ—এক কাপ, টমেটো—এক কাপ, আদা ও রসুনের পেস্ট—এক চামচ, মরিচ—আটটি, গাজর—হাফ কাপ ক্যাপসিকাম—হাফ কাপ সোয়া সস—এক চামচ।

টমেটো সস—এক চামচ, চিলি সস—এক চামচ, পিঠা রুটি—পাঁচটি, ধনে পাতা—হাফ কাপ, তেল, লবণ পরিমাণমতো।

প্রণালী

একটি প্যানে পরিমাণমতো তেল নিয়ে তাতে পেঁয়াজ, মরিচ, আদার পেস্ট, রসুনের পেস্ট, টমেটো, গাজর ও ক্যাপসিকাম দিন। উপকরণগুলো ভালো করে নাড়ুন। তারপর তাতে সবকটি সস দিয়ে আবার ভালো করে মেশান।

একটা প্রেশার কুকারে মুরগির মাংস নিয়ে ভালো করে রান্না করে নিন। মাংস রান্না হয়ে গেলে ছোট ছোট টুকরো করে নিন। এবার প্যানে বাকি উপকরণগুলোর সঙ্গে মুরগির মাংসটা যোগ করুন।

তারপর তাতে পরিমাণমতো লবণ, ধনে পাতা এবং বাকি সবজিগুলো দিয়ে ভালো করে নাড়ুন। চিকেনের এই তরকারির ওপর এবার পরিমাণমতো চিজ ছড়িয়ে দিন। এবার পিঠা রুটি নিন।

এক চামচ মাংসের তরকারি নিয়ে পিঠা রুটির মধ্যে দিয়ে দিন। এবার পিঠা রুটিগুলো রোল করে কাগজে মুড়িয়ে ফেলুন। আপনার চিকেন শর্মা রোল তৈরি পরিবেশনের জন্য।




ঘরেই তৈরি করুন ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ফালুদা

বাইরে বের হলেই তীব্র গরম। এসময় দরকার খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা সব কিছুর সচেতনতা। তাই চলতি ডায়েটে ভাজাপোড়া বর্জন করে রাখতে হবে ঠাণ্ডা জাতীয় খাবার। তীব্র গরমে ফালুদা খেতে কে না পছন্দ করবে ? ফালুদা তৈরি করতে পারেন ঘরেই।

আসুন জেনে নেই কীভাবে তৈরি করবেন ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ফালুদা।

ফালুদা

যা যা লাগবে

সাবু দানা- ১/২ কাপ, ঘন দুধ- ১ গ্লাস, কনডেন্স মিল্ক- আধা কাপ, চিনি- পরিমাণমতো, সিদ্ধ করা নুডলস- ১ কাপ, পেস্তা বাদাম কুঁচি, কাজু বাদাম- ১ টেবিল চামচ, স্ট্রবেরি, আম ও কলা কিউব করে কাটা- ২ টেবিল চামচ, আপেল, আঙুর কুঁচি- ১ চা চামচ।

দুই কালার/ফ্লেভারের আইস ক্রিম- পরিমাণমতো, বরফ কুঁচি- পরিমাণমতো, জেলো জমানো ২ রকম (প্যাকেটের নির্দেশমতো), রুহুআফজা- পরিমাণমতো, মাওয়া গুঁড়া- পরিমাণমতো (গুঁড়া দুধ ২ টেবিল চামচ, গুঁড়া চিনি ১ টেবিল চামচ, ঘি ১ টেবিল চামচ, গোলাপজল আধা চা চামচ সব একসঙ্গে মিশিয়ে ঘরে মাওয়া বানাতে পারেন)।

যেভাবে করবেন

প্রথমে পানি দিয়ে সাবু দানা সিদ্ধ করে নিন। ঘন দুধ, কনডেন্স মিল্ক ও চিনি একসঙ্গে জ্বাল দিয়ে ঘন করে ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে নিন। তারপর একটি সার্ভিস বাটি বা গ্লাসে পর্যায়ক্রমে প্রথমে সিদ্ধ সাবু দানা ও নুডলস এর পর ঘন দুধ দিন।

এবার দুই ফ্লেভারের আইসক্রিম, বাদাম কুঁচি, আবার ঘন দুধ, নুডলস, ফলের টুকরো, মাওয়া কুঁচি এবং সবশেষে ঘন দুধ, জেলো, রুহুআফজা ও বরফ কুঁচি দিয়ে ইচ্ছামতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন।




ঘরেই রাধুন কাচ্চি বিরিয়ানি

কাচ্চি বিরিয়ানি পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। তাই ছুটির দিনে প্রিয়জনের জন্য ঘরেই রান্না করুন কাচ্চি বিরিয়ানি। এছাড়া অতিথি আপ্যায়নে কাচ্চি বিরিয়ানির জুড়ি নেই।

আসুন জেনে নেই কীভাবে রান্না করবেন সুস্বাদু কাচ্চি বিরিয়ানি।

রান্না করতে যা যা লাগবে

খাসির মাংস ১ কেজি, আদা পেস্ট ১ চা চামচ, রসুন পেস্ট ১ চা চামচ, মরিচের গুঁড়া ৩-৪ চা চামচ, এলাচি ও দারুচিনি ২-৩টি, জিরা গুঁড়া ৩ চা চামচ, লবঙ্গ ও জয়ত্রী আধা চা চামচ, জয়ফল গুঁড়া ১/৮ চা চামচ, আস্ত জিরা ১-২টি, টক দই ২ টেবিল চামচ, ঘি ৩/৪ চা চামচ, গোল আলু ৫টি, অরেঞ্জ খাবার কালার, পেঁয়াজ কুচি ১/২ চামচ, বাসমতি চাল ৪ কাপ, পানি ৬ কাপ, গুঁড়া দুধ ২ চামচ, তরল দুধ ২ চামচ, জাফরান ১০-১২টি, আলু বোখারা ও লবণ পরিমাণমতো।

যেভাবে রান্না করবেন

মাংস ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। পিতলের হাঁড়িতে মাংসের সঙ্গে আদা-রসুন বাটা, লবণ, চিনি, টক দই, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ দিয়ে মাখিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে দিন। এবার গরম মসলার গুঁড়া, অর্ধেক ঘি ও জাফরান দিয়ে ভালোভাবে মাংস মেখে ১০ মিনিট রাখুন। এবার দুই কাপ তরল দুধ মাংসের ওপর ঢেলে দিন। আলু সামান্য লবণ মাখিয়ে তেলে ভেজে মাংসের ওপর দিন। চাল ধুয়ে অল্প সিদ্ধ করে মাংসের ওপর দিন।

বাকি অর্ধেক ঘি, পেঁয়াজের বেরেস্তা, কিশমিশ, আলু বোখারা, বাদাম, গোলাপজল ছড়িয়ে দিয়ে অল্প আঁচে এক ঘণ্টার মতো চুলোয় রাখুন। চুলোয় উঠানোর আগে আটা গুলিয়ে হাঁড়ির মুখ বন্ধ করে দিন। এক ঘণ্টা পর আঁচ আরও কমিয়ে রাখুন। খড়ির চুলোয় রান্না করতে পারলে ভালো। গ্যাসের চুলোর ক্ষেত্রে তাওয়ার ওপর হাঁড়ি বসিয়ে অল্প আঁচে রাখুন। এবার চুলা থেকে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।




মাছ দিয়ে মজাদার একটি খাবার ফিশ ফিঙ্গার

মাংসের চেয়ে মাছ খেতে বেশি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। মাছ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করা যায়। মাছের একটি মজাদার খাবার হচ্ছে ফিশ ফিঙ্গার। আপনি চাইলে ঘরেই তৈরি করতে পারেন মজাদার এই খাবারটি।

আসুন জেনে নেই কীভাবে তৈরি করবেন ফিশ ফিঙ্গার।

উপকরণ

রুই মাছের টুকরা ৫-৬টি, আলু মাঝারি ২টি, লবণ পরিমাণমতো, কাঁচামরিচ ২-৩টি, গোলমরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, আদা ও রসুন বাটা ১ চা চামচ, তেল ২ কাপ, ডিম ২-৩টি, হলুদের গুঁড়া আধা চা চামচ, কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ, টোস্টের গুঁড়া ১ কাপ।

প্রণালি

রুই মাছের টুকরাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে একটু লবণ ও হলুদের গুঁড়া মাখিয়ে পানি দিয়ে সিদ্ধ করতে হবে। আলু সিদ্ধ করে ভালোভাবে চটকিয়ে নিতে হবে।

মাছের টুকরাগুলো থেকে কাঁটা বেছে নিয়ে ভালো করে চটকে নিয়ে তার মধ্যে চটকানো আলু দিয়ে আদা ও রসুন বাটা, কাঁচামরিচ কুচি, গোলমরিচের গুঁড়া কর্নফ্লাওয়ার, ধনেপাতা ও লবণ দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে তারপর ফিশ ফিঙ্গার বানিয়ে ডিমের সাদা অংশের মধ্যে ডুবিয়ে বিস্টু্কটের গুঁড়ার মধ্যে মেখে ডুবো তেলে লালচে করে ভেজে গরম গরম সস দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।




ঘরেই তৈরি করুন মুখরোচক চিকেন শাসলিক

মুখে রুচি বাড়াতে খাবারে আনুন ভিন্নতা। কিছু খাবার আছে যা সাধারণ আমরা বাইরে থেকে কিনে খেয়ে থাকি। তেমনি একটি খাবার হচ্ছে চিকেন শাসলিক। আপনি চাইলে ঘরেই তৈরি করতে পারেন মজাদার এই কাবাব। ছুটির দিনে বিকালে চায়ের আড্ডায় বা অতিথি আপ্যায়নে তৈরি করতে পারেন এই কাবাব।

আসুন জেনে নেই কীভাবে তৈরি করবেন চিকেন শাসলিক।

উপকরণ

মোরগ এক কেজি, আদার রস এক চা চামচ, রসুনের রস এক চা চামচ, মরিচ গুঁড়া দুই চা চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া এক চা চামচ, মাস্টারড পেস্ট এক চা চামচ, ওয়েস্টার সস দুই চা চামচ, চিনি এক চা চামচ।

টকদই কোয়ার্টার কাপ, সরিষার তেল চার টেবিল চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, বাটারঅয়েল তেল ভাজার জন্য, মটো, বড় পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম, টুথপিক অথবা কাঠি।

প্রণালি

মোরগের মাংস হাড় ছাড়িয়ে ছোট চারকোণা আকারে টুকরা করতে হবে। মাংসের সঙ্গে লবণ, সব মসলা ও তেল মিশিয়ে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। ক্যাপসিকাম, টমেটো (বিচি ফেলে) চারকোণা টুকরা করে পেঁয়াজ লম্বায় দু’ভাগ করে ভাঁজে ভাঁজে খুলে নিতে হবে। কাঠিতে মাংস, টমেটো, মাংস পেঁয়াজ, মাংস ক্যাপসিকাম এভাবে পরপর গেঁথে নিতে হবে। পরে ফ্রাইং প্যান/তাওয়ায় সেঁকা তেলে ভেজে নিতে হবে।




ঘরেই তৈরি করুন মুখরোচক চিকেন বল

চর্বিযুক্ত খাবার যারা পছন্দ করেন না তারা খেতে পারেন চিকেন বল। বিকালে চায়ের আড্ডায় খেতে পারেন চিকেন বল। সব বয়সী মানুষের পছন্দের এই খাবার তৈরি করতে পারেন ঘরেই। বেশিরভাগ সময় যদিও কিনেই খাওয়া হয়। এবার ঘরেই তৈরি করুন মুখরোচক চিকেন বল।

আসুন জেনে কীভাবে তৈরি করবেন চিকেন বল।

উপকরণ

মুরগির কিমা আধা কেজি। গোলমরিচ আধা চা-চামচ। পেঁয়াজকুচি ১ কাপ। রসুনবাটা ১ চা-চামচ সয়া সস ১ চা-চামচ। ৪/৫টি মরিচকুচি। লবণ স্বাদমতো। তেল ১ টেবিল-চামচ।

ভাজার জন্য: তেল, বিস্কুটের গুঁড়া আর ডিম।

যেভাবে তৈরি করবেন

কিমার সঙ্গে সব উপকরণ মিশিয়ে ভালো করে মাখিয়ে বলের আকার অথবা গোল গোল আকার বানিয়ে রাখুন। এবার একটা পাতিলে পানি গরম করতে দিন।

পানি গরম হয়ে গেলে বলগুলো ছেড়ে দিন। ৫ মিনিট সিদ্ধ করে নামিয়ে ফেলুন। সিদ্ধ চিকেন বলগুলো ঠান্ডা করে বিস্কুটের গুঁড়া আর ডিমে মাখিয়ে তেলে ভেজে পরিবেশন করুন।




লাউ ডগায় চিংড়ি মাছ

শীতের বাজারে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় লাউ শাক ও লাউ। সারা বছর এই লাউয়ের খুব একটা দেখা না মিললেও শীতে সবজি হিসেবে এর জুড়ি নেই। লাউয়ের ভাজি ও বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু তরকারি রান্না করতে পারেন। তবে লাউ দিয়ে একটি জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে লাউ ও চিংড়ি।

আসুন জেনে নেই কীভাবে রান্না করবেন সুস্বাদু লাউ চিংড়ি।

যা লাগবে

চিংড়ি মাছ (বড়) ৫০০ গ্রাম, লাউয়ের ডগার পাতা পরিমাণমতো, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, রসুন কুচি ১টি, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, কাঁচামরিচ ৭টি, তেল আধা কাপ, লবণ স্বাদমতো, আদা বাটা সামান্য, হলুদ ও মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ।

যেভাবে করবেন

চিংড়ি মাছ ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে, লাউপাতার আগার অংশের ডাঁটা ও পাতা কুটে নিতে হবে। এবার সব উপকরণ একসঙ্গে মেখে অল্প পানি দিয়ে চুলায় বসিয়ে রান্না করতে হবে ২০ মিনিট। নামিয়ে পরিবেশন করতে হবে।




পাবনার ঐতিহ্যবাহী তিনটি খাবারের রেসিপি

আঞ্জুমান্দ সেতু, রন্ধনশিল্পী। থাকেন ঢাকায়। তাঁর বাড়ি পাবনায়। এই বিভাগে পাবনার ঐতিহ্যবাহী তিনটি খাবারের রেসিপি দিয়েছেন।

লাউ-বরইয়ের খাট্টা

উপকরণ: লাউ ২ কাপ, তেঁতুল পরিমাণমতো, গুঁড় পরিমাণমতো, সরিষার তেল আধা কাপ, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, শুকনা মরিচ ৬টি, ভাজা জিরার গুঁড়া ১ চা-চামচ, শুকনা বরই ২৫০ গ্রাম, তেজপাতা ৪টি, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, রসুনকুচি ১ চা-চামচ, আদাবাটা আধা চা-চামচ ও পাঁচফোড়ন ১ চা-চামচ।

প্রণালি: লাউ ছোট করে কেটে পানিতে হলুদগুঁড়া, মরিচগুঁড়া, লবণ, তেজপাতা দিয়ে ভালো করে সেদ্ধ করতে হবে। একটা পাত্রে সরিষার তেলে পেঁয়াজ, রসুন, শুকনা মরিচ, পাঁচফোড়ন দিয়ে হালকা নেড়ে লাউ দিয়ে এতে তেঁতুল, বরই, গুড় দিয়ে রান্না করতে হবে। ভাজা জিরার গুঁড়া দিয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন।

চিংড়িতে কলার মোচা ঘন্ট

উপকরণ: কলার মোচা ২টি, আলু ২টি, চিংড়ি মাছ ১ কাপ, আদাবাটা ২ টেবিল চামচ, হলুদগুঁড়া ২ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল আধা কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি ১ টেবিল চামচ, শুকনা মরিচ ৪-৫টি, জিরার গুঁড়া ১ চা-চামচ, আস্ত জিরা ১ চা-চামচ, গরমমসলার গুঁড়া ১ চা-চামচ, মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ ও নারকেল দুধ আধা কাপ।

প্রণালি: কলার মোচা বেছে, কেটে ধুয়ে লবণপানিতে ২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর হলুদগুঁড়া আর লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে বেটে নিতে হবে। আলু সেদ্ধ করে চটকে নিন। চিংড়ি মাছের খোসা ছাড়িয়ে নিন। কড়াইতে তেল দিয়ে শুকনা মরিচ ও জিরার ফোড়ন দিয়ে কলার মোচা ঢেলে অন্য মসলা, আলু ও চিংড়ি দিয়ে নেড়ে ঢাকনা দিয়ে রান্না করতে হবে। এবার নারকেল দুধ, ঘি ও গরমমসলার গুঁড়া দিয়ে ভালোভাবে ১০ মিনিট রান্না করে পরিবেশন করতে হবে।

বেগুনের খাট্টা

উপকরণ: বড় বেগুন ১টি, তেঁতুল ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল ভাজার জন্য, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, জিরাগুঁড়া ১ চা-চামচ, পাঁচফোড়ন ১ চা-চামচ, শুকনা মরিচ ৪টি, চিনি স্বাদমতো, পেঁয়াজকুচি ১ চা-চামচ, রসুনকুচি ২ চা-চামচ, টক দই ১ টেবিল চামচ ও সরিষার তেল ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি: আস্ত বেগুন পুরা না কেটে ৪ ভাগ করে নিতে হবে। এবার হলুদ, মরিচ ও লবণ দিয়ে মেখে ডুবো তেলে বেগুন ভেজে নিতে হবে। প্যানে সরিষার তেল দিয়ে পেঁয়াজকুচি, রসুনকুচি, শুকনা মরিচ ও পাঁচফোড়ন ভেজে সামান্য পানি ও বেগুন দিয়ে ১০ মিনিট রান্না করতে হবে। নামানোর আগে অল্প একটু চিনি ছড়িয়ে দিতে হবে।

 

 




খাবারের পুষ্টি বাড়াবে রোদে পোড়া লবণ মাখানো টমেটো

রান্নায় বিভিন্ন তরকারিতে বা সালাদে আমরা টমেটো ব্যবহার করে থাকি। তবে রোদে পোড়া কিংবা শুকনো টমেটো খেয়েছেন কখনো। এই টমেটো ব্যবহার করা হয় রেস্তরাঁয়। এমনিতেই শীতের টমেটোর স্বাদ বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে ভাল হয়। এই টমেটোকে শুকিয়ে রান্নায় ব্যবহার করলে সে রান্নার স্বাদ আরও বাড়ে।

নানা ফুড চেনের পিৎজা, ইতালীয় খাবারে এমন টমেটো ব্যবহার করতে চাইলে বাড়িতেই মজুত রাখতে পারেন এটি। সহজ কয়েকটি উপায়ে সারা বছর বাড়িতে সংরক্ষণ করে রাখুন ও ব্যবহার করুন।

যেভাবে সংরক্ষণ করবেন

পাতলা টুকরো করে কেটে নিন টমেটো। এ বার এতে নুন ছিটিয়ে রোদে দিন। অনেকে স্বাদ বাড়াতে এতে যোগ করতে পারেন থাইম বা ওরেগ্যানো। খুব চড়া রোদে রাখবেন না, বরং হালকা রোদে রেখে খানিক ক্ষণ বাদে গিয়ে উল্টে দিন অপর পিঠ।

ব্যবহার

বাড়িতে বানানো টমেটো সসের রং আরও গাঢ় ও আকর্ষক করে তুলতে এই টমেটো ব্যবহার করুন।

পিৎজা, স্যান্ডউইচ বা স্যালাডে ব্যবহার করুন এই রোদে পড়া শুকনো টমেটো। এতে স্বাদ যেমন বাড়বে তেমনই রংও খোলতাই হবে।

পুষ্টিবিদদের মতে, রোদে পোড়া টম্যাটো শুধু স্বাদই বাড়ায় না, রান্নায় যোগ করে অতিরিক্ত পুষ্টিগুণও। তাই টমেটো ব্যবহার করা হয়, এমন যে কোনও রান্নায় কাঁচা টমেটোর বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করুন এটি।
চাটনি ও আচারের রং আরও গাঢ় করতে ও স্বাদ বাড়াতে এর ব্যবহার করা হয় নানা রেস্তরাঁয়।




মাংসের তেলেই সুস্বাদু ভুনা মাংস

মাংস ভুনা মানেই অনেকটা তেল-চর্বি? একদম নয়! আজ সায়মা সুলতানা জানাচ্ছেন মাংস ভুনা রান্না করার সবচাইতে সহজ রেসিপি। এই রেসিপিতে মাংস মেরিনেট করে রাখতে হবে সব মশলা দিয়ে আর তারপর চুলায় বসিয়ে দিলেই কাজ শেষ। অল্প আঁচে জ্বাল হয়ে তৈরি হয়ে যাবে ভীষণ স্বাদের মাংস ভুনা মাংস। গরু বা খাসি যে কোন মাংস দিয়েই রান্না করা যাবে। পরিমাণ অনুসরণ করলে সব সময়েই মাংস হবে সমান সুস্বাদু।

প্রণালি

  • খাসি বা গরুর মাংস ২ কেজি
  • পেঁয়াজ বাটা আধা কাপ
  • আদা বাটা ২ টেবিল চামচ
  • রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ
  • জিরা বাটা ১ চা চামচ
  • হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ
  • মরিচ গুঁড়ো / কাশ্মীরি লাল মরিচ গুঁড়ো ২ চা চামচ
  • দারুচিনি ২ টি
  • এলাচ ৪ টি
  • তেজপাতা ২ টি
  • গরম মশলা পাউডার ১ চা চামচ
  • টক দই ১/২ কাপ
  • কাঁচা মরিচ বাটা ২ চা চামচ
  • পোস্ত দানা, কিসমিস ৭/৮ টি
  • জয়েত্রি ,জায়ফল বাটা মিলে ২ চা চামচ ( মিহি করে বেটে নিতে হবে )
  • লেবুর রস ১ টেবিল চামচ
  • টমেটো পেস্ট ২ চা চামচ
  • তেল ১/৪ কাপ
  • লবণ স্বাদমতো
  • পেঁয়াজ বেরেস্তা অল্প

প্রণালি

  • পেঁয়াজ বেরেস্তা ছাড়া উপরের সব উপকরণ একসাথে মাখিয়ে রাখুন অন্তত ২ ঘন্টা অথবা মাখিয়ে ঢাকনা লাগিয়ে সারারাত ফ্রিজে রাখতে পারেন।
  • হাঁড়িতে মাখানো মাংসে আধা কাপ গরম পানি দিয়ে ঢাকনা লাগিয়ে প্রথম ১০ মিনিট কড়া আঁচে রান্না করুন। এরপর একদম অল্প আঁচে চাপিয়ে দিন ২/৩ ঘন্টার জন্য।
  • সাধারণত মাংসের পানি দিয়েই তরকারি রান্না হয়ে যায় তবে মাংস সেদ্ধ কম হলে আরেকটু পানি দিয়ে আরো ৪০ মিনিট রান্না করতে পারেন।
  • যদি আলু দিতে চান তাহলে আলু আগেই ভেজে রাখুন লাল করে। ভেজে রাখা আলু মাংস আর মশলার সাথে মিশিয়ে দিন, কয়েক ফালি কাঁচামরিচ ছিটিয়ে ঢাকনা লাগিয়ে রান্না করুন আরো ১০ মিনিট।
  • মাংস হয়ে তেল উপরে উঠে এলে বেরেস্তা ছিটিয়ে নামিয়ে নিন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেলো স্লো কুকড ভুনা মাংস।