দাঁত উজ্জ্বল করার ঘরোয়া উপায়

একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটাতে সুন্দর হাসি এবং ঝকঝকে দাঁত খুব জরুরি। কিন্তু এমন অনেক কারণ আছে যেজন্য দাঁতের ঝকঝকে ভাব চলে যায়, দাঁত খারাপ দেখায়। কখনও কখনও কিছু খাবার দাঁতের ফাঁকে আটকে দাঁতের সৌন্দর্য ব্যহত হয়। আবার কখনওবা দাঁতের ফাঁকে প্লেগ জমে দাঁত হলুদ দেখায়। যারা এই ধরনের সমস্যায় ভুগছেন খুব সহজেই কিছু ঘরোয়া সমাধানের মাধ্যমে এগুলো দূর করা যায়।

নারকেল তেল আপনার দাত পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারে। এক চামচ নারতেল তেল মুখের মধ্যে দিয়ে পাঁচ মিনিট দাঁত ব্রাশ করুন। এরপর কুলি করে ফেলুন। কিছুক্ষন পরেই এর ফলাফল দেখতে পাবেন। দাঁত হয়ে উঠবে ঝকঝকে।

আপেল সিডার ভিনেগারে এসিটিক এসিড, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম থাকে যা খারাপ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং দাঁতে জমে থাকা প্লেগ বিনষ্ট করে। এছাড়া এতে থাকা পটাশিয়াম দাঁতের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। কয়েক ফোটা আপেল সিডার ভিনেগার দাঁতে লাগিয়ে দুই মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। এতে দাঁত হয়ে উঠবে সুন্দর এবং পরিষ্কার।

লেবুর খোসা দিয়ে খুব সহজেই দাঁত পরিষ্কার রাখা যায়। এক টুকরা লেবুর খোসা দিয়ে দাঁত ভালভাবে ঘষুন। তারপর কুলি করে ফেলুন। দেখুন দাঁতের উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।

বেকিং সোডার সাহায্যেও দাঁত পরিষ্কার করা যায়। পানিতে সামান্য পরিমানে বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। এরপর মিশ্রণটি দাঁতে লাগিয়ে এক মিনিট ভালভাবে ব্রাশ করুন। তারপর ভাল করে কুলি করে ফেলুন। এতেও দাঁত হয়ে উঠবে ঝকঝকে ও সুন্দর।

সূত্র : টামইস অফ ইণ্ডিয়া




মৌসুমি অ্যালার্জি দূর করতে ঘরোয়া উপায়

যাদের মৌসুমি অ্যালার্জির সমস্যা আছে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সবুজ ঘাস, ফুলের রেণু, বাতাস, পুরনো কাপড়, উলের তৈরি পোশাক, ঘরের ধূলা বালি যেকোন কিছু থেকেই তারা অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হতে পারেন। এসময হাঁচি দিতে দিতে অনেকের নাক লাল হয়ে যায়, চোখ দিয়ে পানি পড়ে, জ্বর জ্বর ভাব, মুড পরিবর্তন , মেজাজ খিটখিটে  হতে পারে। কয়েকদিন হলো শীতের তীব্রতা বেড়েছে। যাদের কোল্ড অ্যালার্জির সমস্যা আছে তারা যেকোনো সময় অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হতে পারেন।

যাদের এ ধরনের মৌসুমিগত অ্যালার্জির সমস্যা আছে তারা ঘরোয়া পদ্ধতিতে কিছুটা হলেও নিরাময় পেতে পারেন।

সাইট্রাস জাতীয় ফলে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকায় এগুলো শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে। এসব ফলের মধ্যে কমলা, লেবু, জাম্বুরা এগুলো বেশ উপকারী। এ ধরনের ফল বা জুস মৌসুমি অ্যালার্জির সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখে। একারনে প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় এ ধরনের ফল রাখা উচিত।

পেঁয়াজের রস মৌসুমি অ্যালার্জি কমাতে দারুনভাবে সাহায্য করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে হাঁচি রোধ করতে এটা বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

প্রতিদিন আখরোট খেলে মৌসুমি অ্যালার্জির উপসর্গ কমে যায়। এতে প্রচুর পরিমানে ম্যাগনেশিয়াম থাকায় এটি কাশি কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন ই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে অ্যালার্জির হাত থেকে রক্ষা করে। অন্যদিকে পেঁয়াজের রসের মতো আপেলও বেশ উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন আপেল খেলে মৌসুমি অ্যালার্জির ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

গরম এবং ঝাল খাবার নাক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এছাড়া হারবাল চা-ও মৌসুমি অ্যালার্জির জন্য দারুন উপকারী।

সূত্র : এনডিটিভি




কিডনিতে পাথর জমার লক্ষণ

কিডনির পাথর জমা অতি পরিচিত একটি সমস্যা। এটি সাধারণত আকারে ছোট হয়ে থাকে। কিডনির ভিতরে কঠিন পদার্থ জমা হয়ে কিডনিতে পাথর হয়। সাধারণত খনিজ এবং অম্ল লবণ দিয়ে কিডনির পাথর তৈরি হয়। কিডনিতে বিভিন্ন কারণে পাথর হয়ে থাকে। তবে প্রস্রাব গাঢ় হলে তা খনিজগুলোকে দানা বাঁধতে সহায়তা করে এবং তা পাথরে রূপ নেয়।

যেহেতু কিডনিতে পাথর জমলে যে কারও জন্য তা ক্ষতিকারক হতে পারে একারণে এর উপসর্গগুলো সবারই জানা উচিত। কিডনিতে পাথর হলে পিঠে কিংবা পাজরের দুইপাশে, তলপেটে ব্যথা হয়, প্রসাবের পরিমাণ বেশি থাকে, প্রসাবের সময় ব্যথা হয়, ইউররিনের রঙ গোলাপি, লাল, বাদামি কিংবা গাঢ় রঙের হয়। জ্বর এবং বমি বমি ভাবও হয়।

এগুলোর সবগুলিই যে একজনের মধ্যে দেখা দেবে তা কিন্তু নয়। একেকজনের উপসর্গ একেকভাবে দেখা দেয়। এটা পাথরের আকৃতি এবং কিডনির কোন স্থানে জমেছে তার উপর নির্ভর করে।

কিডনিতে পাথর জমলে কেউ কেউ ঠিকমতো দাঁড়াতে, বসতে কিংবা শুয়ে থাকতে পারেন না। সবসময়ই অস্বস্তি বোধ করেন। পেটে অসহ্য যন্ত্রনা হয়। কারও কারও আবার প্রসাবে রক্ত দেখা দেয়।

কিডনিতে পাথর জমলে রক্ত, ইউরিন পরীক্ষা, এক্স রে , আলট্রাসাউণ্ডের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা যায়। একারণে শরীরে উপসর্গগুলোর যেকোনটি দেখা দিলে এবং নিজের কাছে সন্দেহ লাগলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সূত্র : ওয়েবএমডি




যে ১৪টি ভোগ্য পণ্য ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

আপনি কি জানেন, আপনার টুথপেস্ট থেকেও আপনার ক্যান্সার হতে পারে? আমাদের নিত্য ব্যবহার্য নানা ভোগ্য পণ্য থেকেই আমাদের ক্যান্সার হতে পারে এমনটা জানার পর যে কেউই মর্মাহত হবেন। কিন্তু সেটাই বাস্তব। আসুন জেনে নেওয়া যাক এমন ১৪টি ভোগ্য পণ্য সম্পর্কে যেগুলো আমাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুনে বাড়িয়ে তুলতে পারে।

১. অ্যালকোহল
মদ পানে হৃদরোগ হয়। এছাড়াও অ্যালকোহল আামাদের দেহে ৭ ধরনের ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। মলদ্বার, স্তন, খাদ্যনালী এবং মলাশয় সহ আরো নানা অঙ্গের ক্যান্সার হয় মদপানের কারণে।

কারণ অ্যালকোহল পাকস্থলিতে এমন এসিড তৈরি করে যা নাড়ি-ভুড়ির ক্ষয় সাধন করে। অ্যালকোহল ডিএনএ-তেও ক্ষয় সাধন করতে পারে। যা থেকে ক্যান্সার হতে পারে। অ্যালকোহল লিভার কোষ এবং ইস্ট্রোজেন এর উৎপাদনও বাড়ায়। যা থেকে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে।

২. গ্রানাইট মার্বেল
অনেকেই বাড়ির মেঝেতে গ্রানাইট মার্বেল ব্যবহার করতে চান। কারণ সেগুলো সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং দাগ পড়ে না। কিন্তু গ্রানাইট থেকে রেডিওঅ্যাকটিভ গ্যান র‌্যাডন বের হয় যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। আর এই রঙহীন এবং গন্ধহীন গ্যাসটি দেখা যায় না। যেসব কারণে সবচেয়ে বেশি ফুসফুস ক্যান্সার হয় তার মধ্যে দ্বিতীয় শীর্ষস্থানে আছে এই র‌্যাডন গ্যাস।

৩. মোমবাতি
মোমবাতিতে আছে কার্সিনোজেন এবং এমন অন্যান্য উপাদান যেগুলো ঘরের ভেতরে বৃদ্ধি পেতে সক্ষম। মোমবাতির ধোয়াঁয় আছে প্যারাফিন ওয়াক্স বার্নস, টুলেন, অ্যালডিহাইডস, কেটনস কার্সিনোজেন সহ আরো কিছু জীবাশ্ম জ্বালানির উপাদান। এসব থেকে ক্যান্সার হতে পারে।

৪. এয়ার ফ্রেশনার
বাড়িতে বা গাড়িতে ব্যবহৃত হয় এমন এয়ার ফ্রেশনারে আছে এমন সব রাসায়নিক যা আমাদের নাকের আর কোনো গন্ধ শনাক্ত করার সক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এসব রাসায়নিক ক্যান্সারেরও কারণ হতে পারে।

৫. গাড়ির ধোঁয়া
বিশেষত ডিজেল চালিত গাড়ির ধোঁয়া শ্বাসকষ্ট ফুসফুস ক্যান্সারের বড় কারণ। তবে সব ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানিতেই ক্যান্সার সৃষ্টিকারক উপাদান রয়েছে। গাড়ির ধোঁয়ায় আছে কার্বন মনোক্সাইড এবং বেনজেন এর মতো মারাত্মক ক্ষতিকারক গ্যাস।

বেনজেন অস্থি মজ্জায় ক্ষয় সাধন করতে পারে এবং বেশ কয়েক ধরনের রক্তের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

৬. টুথপেস্ট
টুথপেস্টে আছে ফ্লুওরাইড। এ থেকে হতে পারে হাড়ের ক্যান্সার। টুথপেস্টে আছে ট্রাইক্লোসেন নামের আরেকটি ক্যান্সার সৃষ্টিকারক উপাদান। এ থেকে যকৃতের ক্যান্সার।

৭. কসমেটিকস
সানস্ক্রিনের মতো কসমেটিকসে আছে বেনজোফেনন-৩ এর মতো রাসায়নিক। সানস্ক্রিন ব্যবহারের পর এটি দেহে প্রবেশ করে পেশাবের সঙ্গে বেশ কয়েকদিন অবস্থান করতে পারে। যা থেকে পরে ক্যান্সার হতে পারে।

নানা ধরনের কসমেটিকস-এ আরো যেসব ক্যান্সার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক আছে সেগুলো হলো ফরমালডিহাইড, বেনজেন, টুলেন এবং ১.৪-ডিওক্সেন।

৮. ডায়েট সোডা
এতে থাকা কৃত্রিম মিষ্টি বর্ধক উপাদান স্যাকারিন, অ্যাসপারটেম এবং সাইক্লামেট মূত্রাশয়ের ক্যান্সার এবং ব্রেন টিউমার সৃষ্টি করতে পারে।

৯. গরম চা
অতিরিক্ত গরম চা খেলে খাদ্যনালীর ক্যান্সার হতে পারে।

১০. ক্যানজাত খাবার
স্তন ক্যান্সার হয় ক্যানজাত খাবার থেকে। কারণ এসব ক্যানের মুখ বন্ধ করতে ব্যবহৃত হয় প্লাস্টিক কোটিং যাতে থাকে বিপজ্জনক রাসায়নিক। যা খাবারে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে ডিএনএ এবং হরমোনগত পরিবর্তন করে স্তন ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।

১১. মাইক্রোওয়েভ পপকর্ন
পপকর্ন ব্যাগের যে কোটিং থাকে তা থেকে পারফ্লুয়োরুকট্যানোইক এসিড উৎপাদিত হয়। যা থেকে প্রস্টেট এবং লিভার ক্যান্সার হতে পারে।

১২. সানস্ক্রিন
বেশিরভাগ সানস্ক্রিনে জিঙ্ক অক্সাইড থাকে। এই উপাদানটি দেহে এমন সব ফ্রি র‌্যাডিক্যালস উৎপাদন করে যারা ডিএনএন-তে ক্ষয় সাধন করে। যার ফলে ক্যান্সার হয়।

১৩. পোড়া খাবার
গ্রিলড খাবারের মতো অতিরিক্ত রান্না করা খাবার পাকস্থলি, মলাশয় এবং অগ্নাশয়ের ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। মুরগীর মাংস, মাছ এবং গরুর মাংসের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার অতিরিক্ত তাপদিলে সেগুলোতে থাকা অ্যামাইনো এসিড হিটেরোসাইক্লিক অ্যামাইনস (এইচসিএ) নামের এসিড তৈরি করে যা থেকে ক্যান্সার হতে পারে।

১৪. জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি
এটি থেকে স্তন, সার্ভিক্স এবং লিভার ক্যান্সার হতে পারে। সন্তান জন্ম না দিলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ৩০ বছর বয়সের আগেই সন্তান জন্মদিলে এবং সন্তানকে বুকের দুধ পান করালে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে আসে।

সূত্র: এনডিটিভি হেলথ




নাক ডাকায় অবহেলা নয়

চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে অল্প-বিস্তর নাক ডাকা যেমন ক্ষতিকর নয়; তবে বিকট শব্দে নাক ডাকা এবং বাচ্চাদের নাক ডাকা সবসময়ই কোনো রোগের কারণে হয়ে থাকে। ঘুমের মধ্যে দমবন্ধ হয়ে আসা এবং শ্বাস নেয়ার জন্য হাঁসফাঁস করা সবচেয়ে খারাপ ধরনের নাক ডাকা।

 

কেন ও কোথায় হয়- শ্বাসের রাস্তায় বাতাস প্রবেশে বাধা পাওয়ায় এ সমস্যা হয়। নাক, তালু বা মুখগহ্বর নাক ডাকার উৎপত্তিস্থল। নাকের হাড় বাঁকা, সাইনাসে প্রদাহ, মোটা মানুষের গলায় অতিরিক্ত মেদ জমা নাক ডাকার প্রধান কারণ, শিশুদের এডিনয়েড বা টনসিল বড় হয়ে গেলে এবং গলায় ঘনঘন ইনফেকশন হলে শিশু নাক ডাকতে পারে।

উপসর্গ- এ সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের বুদ্ধিমত্তার ক্রমশ অবনতি, অমনোযোগিতা, ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন, মাথা ব্যথা, সকালে মাথা ভার হয়ে থাকা, দিনেরবেলা ঘুমঘুম ভাব, শিশুদের ঘন ঘন প্রস াব করা নাক ডাকার কারণে হয়ে থাকে।

জটিলতা- এ রোগীদের জীবনের ওপর ঝুঁকি হতে পারে- কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, হার্ট ফেইলুর ও শিশুদের কট ডেথ হয়।

করণীয়- মেদবহুল শরীর হলে ওজন কমানো দরকার। ধূমপান ও মদপানের অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করতে হবে। ঘুমের ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। শিশুদের টনসিল ও এডিনয়েড অপারেশন করা। নাকের হাড় বাঁকার যথাযথ চিকিৎসা প্রয়োজন। কোনো অবস্থাতেই এ সমস্যাকে হেলাফেলা করবেন না।

অধ্যাপক ডা. জাহীর আল-আমিন। বিভাগীয় প্রধান, বারডেম

মোবাইল ফোন : ০১৭১৫০১৬৭২৭




রোগ প্রতিরোধে কলার ভূমিকা

‘কলা’ হলো এমন একটি ফল যা স্বাদে অসামান্য হওয়ার পাশাপাশি পুষ্টি মূল্যেও ভরপুর। লো প্রেশার মোকাবিলা কিংবা ক্যানসার প্রতিরোধ অথবা অ্যাজমা সারাতে কলার জুড়ি মেলা ভার।

একটি মাঝারি মাপের কলার পুষ্টিমূল্য প্রচুর। এতে থাকে ক্যালোরি (১০৫), ফ্যাট (০.৪ গ্রাম), সোডিয়াম (১.২ গ্রাম), পটাসিয়াম (৪২২.৪ মি.গ্রা), কার্বোহাইট্রেড (২৭ গ্রাম), প্রোটিন (১.৩ গ্রাম)। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য রইলো, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কলার ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত-

১। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়-

কলার মধ্যে উপস্থিত পটাসিয়াম সাধারণত হার্টের কর্মক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। যার ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে। ব্লাড প্রেশার লেভেলও ঠিক থাকে।

২। এনার্জি বাড়ায়-

কলার মধ্যে যেহেতু ক্যালোরি ভরপুর তাই এটি এনার্জি বুস্টার হিসাবেও কাজ করে। যে কোনও খেলোয়াড়রা কিংবা যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তারা খেলার মাঝে বা ব্যায়ামের মাঝে কলা খেয়ে থাকেন এনার্জি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে।

৩। হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে-

কলার মধ্যে ফাইবারের উপস্থিতি মানবদেহের পাচন ক্ষমতাকে উন্নত করে। তাই যারা বদহজমের সমস্যায় ভোগেন তাদের জন্য কলা খুব উপকারী।

৪। ক্যানসার প্রতিরোধ করে কলা-

কলার মধ্যে এমন অনেক প্রকার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে যা ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষ উপকারী।  তাই সারা বিশ্বের চিকিৎসকরা কলা খাওয়ার উপর বিশেষ জোর দিতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

৫। হাঁপানি প্রতিরোধ করে-

কলার মধ্যে কিছু এমন অ্যান্টি অ্যালার্জিক উপাদান আছে যা হাঁপানি কমাতে বিশেষ উপকারী। তাই যাঁরা দীর্ঘদিন এই সমস্যায় ভুগছেন তাঁদের চিকিৎসকরা নিয়মিত কলা খাওয়ার নির্দেশ দেন।

৬। মানসিক অবসাদ রোধে-

কলায় অ্যামাইনোজ অ্যাসিড আছে, যা স্ট্রেস কমাতে এবং মুড ভাল করে। মানসিক অবসাদে আক্রান্তদের জন্যও কলা ভাল কাজ দেয়।

৭। ত্বকের সুরক্ষায়-

কলা ত্বক ভাল রাখতেও সাহায্য করে। পাশাপাশি কলার সাহায্যে বানানো মাস্ক মুখে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি স্কিন ময়েশ্চারাইজের কাজও মেটে।




স্থূলতা ডায়াবেটিসের প্রধান নিয়ামক

ডায়াবেটিস একটি নীরব ঘাতক। স্থূলতার সঙ্গে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্পর্ক রয়েছে।শুধু তাই নয়, স্থূলতা ডায়াবেটিসের ঝুঁকিগুলোর মধ্যে প্রধান নিয়ামক। সম্প্রতি মার্কিন গবেষণা সংস্থা জেএএমএ-এর এক সমীক্ষায় এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

আমরা জানি, দুই ধরণের ডায়াবেটিস রয়েছে: ডায়াবেটিস টাইপ-১ ও টাইপ-২। এর মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস সবচেয়ে বিপদজনক। মার্কিন গবেষকরা ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৪২৫১ জন মার্কিন নাগরিকের ওপর সমীক্ষা চালান। এ গবেষণা চলে প্রায় ২৫ বছর।
এ গবেষণায় ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে গ্লুকোজ নিরোধ, বডি-মাস-ইনডেক্স, রক্তচাপ, রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ, বাসস্থান, আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ইত্যাদি নিয়ামকের প্রভাব পর্যালোচনা করা হয়। সকল তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গবেষকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান, স্থূলতাই ডায়াবেটিসের সবচেয়ে বড় নিয়ামক বা কারণ।আপনি যদি স্থূল বা খুব মোটা হন তবে প্রস্তুত থাকুন নীরব ঘাতকে আক্রান্ত হবার। কারণ, শুধুমাত্র এই একটি কারণে গ্লুকোজ, রক্তচাপ, রক্তে চর্বি বৃদ্ধি, বডি-মাস-ইনডেক্স ইত্যাদি ঝুঁকিতে থাকবেন আপনি।

তাই, স্লিম থাকুন, স্থূলতা এড়িয়ে চলুন, নীরব ঘাতক থেকে মুক্ত থাকুন।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস




স্থূলতা ও স্তন ক্যান্সার

স্তন ক্যান্সার আমাদের দেশে খুব পরিচিত রোগ। প্রতি বছর অনেকে এই রোগে আক্রান্ত হয় এবং অনেকেই মৃত্যুবরণ করে। স্তন ক্যান্সারের সব কারণ আজও কিন্তু জানা সম্ভব হয়নি। তবে বেশ কিছু ‘রিস্ক ফ্যাক্টর’ জানা সম্ভব হয়েছে। স্থূলতা তার মধ্যে অন্যতম।

যেসব মহিলার ওজন বেশি তাদের স্তন ক্যান্সার বেশি হয়। বেশিরভাগ মহিলার ক্ষেত্রেই স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ হচ্ছে- স্তনে ব্যথাহীন পিণ্ড। অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দিতে চান না। অথচ একটু সচেতন হলেই স্তন ক্যান্সার প্রথম দিকে ডায়াগনসিস করা সম্ভব। তাতে সমস্যা অনেক কমে যায়। রোগীর পরিণতিও ভালো হয়।

স্তন ক্যান্সারে বিভিন্ন উপসর্গ থাকে। এর মধ্যে আছে

১। স্তনের আকার বা আকৃতিতে পরিবর্তন।

২। স্তনে পিণ্ড।

৩। স্তনের ত্বকের পরিবর্তন।

৪। স্তনের বোঁটা থেকে তরল পদার্থের নিঃসরণ।

৫। বগলে গোটা।

৬। স্তনের বোঁটার পরিবর্তন।

একেকজনের একেকরকম উপসর্গ হয়। সবার কিন্তু একরকম উপসর্গ হয় না। যাদের পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস আছে এবং হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নিচ্ছেন তাদের অবশ্যই নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করতে হবে। কোন সন্দেহ হলেই পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে। চল্লিশ বছরের পরে প্রত্যেক মহিলারই প্রতিবছর ম্যামেগ্রাম করা উচিত। ম্যামোগ্রাম কিন্তু সব স্তন ক্যান্সার নির্ণয় করতে পারেনা। তবুও স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ে ম্যামোগ্রাম খুব ভালো পরীক্ষা।

ওজন বাড়ার সঙ্গে যেহেতু স্তন ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক পাওয়া গেছে, তাই যেসব মহিলার ওজন বেশি তাদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে। তেল চর্বি বর্জন করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। ওজন কমলে শুধু যে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমবে তা নয়, হার্টের অসুখ বা স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে যাবে।

স্তন ক্যান্সার হলে যে পরিবারের ভোগান্তির শেষ থাকে না। সবারই কমবেশি কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়। তাই সাবধান হতেই হবে। স্থূলতার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। কোনোভাবেই ওজন বাড়তে দেয়া যাবে না। স্তন ক্যান্সারের সব কারণ দূর করা না গেলেও একটু সচেতন হলেই স্থূলতা প্রতিরোধ করে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়। তাই এদিকে সব মেয়েদের দৃষ্টি দেয়া দরকার ।

লেখক :ডা. মো. ফজলুল কবীর পাভেল, মেডিসিন ডিপার্টমেন্ট, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ

 




ওষুধ ছাড়াই প্রশান্তি মিলবে পিরিয়ডের ব্যথায়!

পিরিয়ড নারীদের কাছে একটি পরিচিত শব্দ।নারীর পিরিয়ড তাকে প্রতি মাসে গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত করে। পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগে ও চলাকালীন নারীদের বিভিন্ন ধরনের শারীরিকি পরিবর্তন দেখা দেয়। পিরিয়ড চলাকালিন সময়ে ও পিরিয়ডের আগে পেট ব্যথা, বমিবমি ভাব হতে পারে। এছাড়া শরীরের হাত-পা, কোমড়, বুক ব্যথা হয়ে থাকে। এই সময়টা অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি স্বাস্থ্য-সচেতন হতে হয়। কারণ আপনার সামান্য অসাবধানতার কারণে হতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।

পিরিয়ড কী

প্রতি চন্দ্রমাস পরপর হরমোনের প্রভাবে পরিণত মেয়েদের জরায়ু চক্রাকারে যে পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায় এবং রক্ত ও জরায়ু নিঃসৃত অংশ যোনিপথে বের হয়ে আসে তাকেই ঋতুচক্র বলে। মা‌সি‌ক চলাকালীন পেট ব্যথা, পিঠ ব্যথা, বমি বমি ভাব হতে পারে।পিরিয়ডে ভালো মানের ন্যাপকিন ব্যবহার করা জরুরি। এছাড়া কোনোভাবেই একই কাপড় পরিষ্কার করে একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না। পিরিয়ডের সময় শরীর থেকে যে রক্ত প্রবাহিত হয়, তার মধ্যে ব্যাকটেরিয়া থাকে।

পিরিয়ডের ব্যথা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। সব নারীদেরই কম বেশি পিরিয়ডের আগে ও পিরিয়ড চলাকালিন সময়ে পেট ব্যথা ও বমি বমি ভাব হয়ে থাকে। পেটের ব্যথার কারণে খুবই অস্বস্তিবোধ হয়। এছাড়া স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যঘাত ঘটে। অনেক ব্যথার সহ্য করতে না পেরে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খেয়ে থাকেন। তবে ওষুধ খাওয়া ছাড়া পিরিয়ডের এই ব্যথার যন্ত্রণা থেকে আপনি প্রশান্তি পেতে পারেন।

তালিকা থেকে কিছু খাবার বাদ দিন :

পিরিয়ড চলাকালীন খাদ্য তালিকা থেকে কিছু খাবার বাদ দিন। বাড়তি লবণ, চা-কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় যে কোনো পানীয়, চিনি ও দুগ্ধ জাতীয় খাবার। এতে পিরিয়ডের সময় স্তন ও তলপেট ব্যথা হতে মুক্তি পাবেন।

ব্যায়াম :

অনেক মেয়েরই পিরিয়ডের আগে ও পরে স্তনে ব্যথা হয়। তাই সাবধানে ব্যায়াম করতে করতে হবে। এমন কোনো ব্যায়াম করবেন না যাতে বুকে চাপ পড়ে। এমন ব্যায়াম করুন, যেগুলো শরীরের নিচের অংশে কার্যকর। এক্ষেত্রে সাইকেল চালানো, হাঁটা, ভুল ব্যায়াম পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দেবে।

স্তনে ব্যথা কমাবে :

কিছু বিশেষ ধরনের ব্যায়াম আছে, যেগুলো এই স্তনে ব্যথা কমায়।ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে সেই ব্যায়ামগুলো করতে পারেন। স্তনকে সাপোর্ট দেয়, এমন ব্রা পরিধান করুন। সঠিক মাপের আরামদায়ক ব্রা ব্যথা কমাতে সহায়তা করবে।

ঠাণ্ডা লাগানো যাবে না :

পিরিয়ড চলাকালীন শরীরে ঠাণ্ডা লাগানো যাবে না। এ সময় ঠাণ্ডা লাগলে স্তন, হাত-পা ও কোমরের ব্যথা বেড়ে যাবে। এছাড়া পিরিয়ড চলাকালীন স্তনে কোনো প্রকার চাপ দেবেন না, এতে ব্যথা আরও বাড়বে।

গরম পানির সেক :

পিরিয়ড চলাকালীন তলপেট, স্তন, কোমর, হাত ও পায়ের ব্যথা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে গরম পানির সেঁকা দিতে পারেন। তবে হালকা গরম তেল দিয়ে ব্যথায় অংশে ম্যাসেজ পারেন। যদি ব্যথা খুব বাড়ে তবে প্যারাসিটামল বা ব্যথা জাতীয় ওষুধ খেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়া যাবে না।

ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার

পিরিয়ডের ব্যথায় কমাতে ভিটামিন ই এবং বি বেশ উপকারী। পিরিয়ডের সময় যাদের তীব্র ব্যথা হয় তারা ভিটামিন ই, বি১, বি৬, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার খেলে উপকার পাবেন। যেমন -চিনা বাদাম, পেস্তা বাদাম, বাঁধাকপি, আম, মাছ, ওটমিল, কলা, ডিম, সবুজ শাকসবজি, গম, ডাল ইত্যাদি খাবারগুলো কেতে পারেন। এই খাবারগুলো পেশির সংকোচনজনিত পিরিয়ডের ব্যথা থেকে স্বস্তি পেতে সহায়তা করবে।

ব্যথা সারাতে মেথি

পিরিয়ডের ব্যথাসহ যে কোনো ব্যথা সারাতে ব্যথা মেথির জুড়ি নেই। মেথি একটি ভেষজ ওষুধ। এক চা চামচ পরিমাণ মেথি ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার মেথিটুকু চিবিয়ে খেয়ে ফেলুন। দেখবেন ব্যথা থেকে মুক্তি মিলবে।

ডাক্তারের পরামর্শ:

শরীরে যে কোনো জায়গায় অতিরিক্ত ব্যথা অনুভব করলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

গাইনি কনসালটেন্ট, বেদৌরা শারমিন।, সেন্ট্রাল হাসপাতাল লিমিটেড।




বুকে ব্যথা মানেই হার্ট অ্যাটাক নয়

অনেসময়ই আমাদের বুকে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। অনেকেই হয়তো ভাবেন এটা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষ্ণন। তবে সব ধরনের বুকে ব্যথা মানেই কিন্তু হার্ট অ্যাটাক নয়। অনেক কারণেই বুকে ব্যথা হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দু-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা হলো হার্ট অ্যাটাকের প্রধান ও প্রথম লক্ষণ,কিন্তু এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে অন্য কিছুও হতে পারে। তবে কোনটাই কিন্তু অবহেলার নয়।

ফ্রোজেন শোল্ডার অ্যাটাক হলে অনেকসময় বুকে ব্যথা হয়। এক্ষেত্রে কাঁধে প্রচন্ড ব্যথা হয় এবং বুক চেপে আসে। লিগামেন্ট নষ্ট হলে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।

গ্যাসের সমস্যা হলেও অনেকসময় বুকে ব্যথা হয়, চাপ ধরে আসে। এটা খুবই পরিচিত একটা সমস্যা। এটা নিয়ে খুব বেশি দুঃশ্চিন্তার কিছু নেই। তবে এ ধরনের সমস্যা যদি খুব ঘন ঘন হয় তাহলে বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডায়বেটিস হলে রক্তে চিনির মাত্রা হঠাৎ করে কমে যেতে পারে , তখন প্রচণ্ড ঘাম হয়। এর সঙ্গে যদি বদহজম থাকে এবং ঘাম হয়, তখন অনেকেই হার্ট অ্যাটাক বলে ভুল করেন।

যারা ভারি ওজন নিয়ে ব্যায়াম করেন তারা পেশীর ব্যথার সঙ্গে পরিচিত। তবে শুধু ব্যায়াম নয় যে কোনো ভারি জিনিস ওঠানো থেকেই এই ব্যথা হতে পারে। হুট করে ভারি ওজন তোলার কারণে পেশিতে অতিরিক্ত টান পড়ায় পেশির কিছু অংশ ছিঁড়ে যায়,যা এই ব্যথার কারণ।তখন বুকেও ব্যথা হতে পারে।

ঠিক হার্ট অ্যাটাক নয়,তবে হৃদযন্ত্রে অন্য কোন সমস্যা থাকলেও বুকে ব্যথা হতে পারে। এটাকে করোনারি আর্টারি ডিজিজ বলা হয়। এ ধরনের সমস্যা থাকলে হৃৎপিণ্ডের পেশিতে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়,বুকেও ব্যথা হয়।

তবে একটা কথা মনে রাখা উচিত, বুকে ব্যথা হলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আবার বুকে ব্যথা না হলেও বুকে ধড়ফড় করলে,দম বন্ধ ভাব হলে, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে ঘাম হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়া জরুরি।  সূত্র : হেলথ




পানি পান করবেন কিভাবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পরিমানে পানি পান করা উচিত। পানি শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে হজমেও সহায়তা করে। তবে যেনতেন ভাবে পানি করা ঠিক ঠিক নয়।আয়ুর্বেদে পানি খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম আছে যা আপনার শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে।

এক ঢোঁকে অনেক পরিমানে পানি পান করা ঠিক নয়। ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পানি পান করাটাই সঠিক পদ্ধতি।ঢক ঢক করে পানি খেলে অ্যাসিডিটি বেড়ে যেতে পারে।একারণে একটু একটু করে খাবার খাওয়ার মতো পানি পান করুন।

পানি পিপাসা পেলে শরীর নানাভাবে সংকেত দেয়। ঠোঁট, জিহ্বা শুকিয়ে যায়।এরকম হলে অবশ্যই পানি পান করতে হবে।

ওজন কমাতে পানি পান দারুনভাবে সাহায্য করে। পানি পান করার সময় একটা জায়গায় বসে পড়ুন। তারপর মুখের ভেতরে একটু একটু পানি দিয়ে পান করুন।মনে রাখবেন, এক ঢোঁকে নয়,বরং চুমুক দিয়ে একটু একটু করে পানি পান করলেই আপনার হজমশক্তি বাড়বে।

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করা ঠিক নয়।কারণ তা শরীরের জলীয় ভারসাম্যকে নষ্ট করে। এতে আর্থারাইটিসের সমস্যাও হতে পারে।

হালকা গরম পানি পানি করা শরীরের জন্য বেশ উপকারী।এটি শরীরের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।অন্যদিকে বরফ মেশানো ঠাণ্ডা পানি শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

সকালে ওঠে খালি পেটে পানি খেলে শরীরের টক্সিন বাইরে চলে যাবে।সেই সঙ্গে পরিস্কার থাকবে কিডনিও। একবারে বেশি পানি না খেয়ে প্রথমে এক গ্লাস পানি পানি করুন। কিছুক্ষন পর আবার এক গ্লাস পানি পান করুন।এটি আপনার শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে । সূত্র : জি নিউজ




অতিস্থূলতা থেকে মুক্ত থাকবেন যেভাবে

‘ওবেসিটি’ এমন একটি সমস্যা, বর্তমানে যার দাপট বেড়ে চলেছে। ওবেসিটির জন্যই ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, হরমোনাল ডিসঅর্ডারসহ বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধতে পারে শরীরে। কিন্তু প্রতিদিনের জীবন যাপনে কিছু ভালো অভ্যাস রপ্ত করতে পারলেই ওবেসিটির হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন আপনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগব্যায়ামের অভ্যাস, ধূমপান বর্জন, সঠিক খাবারদাবার, সময়মত ঘুম- নিয়মিত এসব করলে ওবেসিটি থেকে রক্ষা পাবেন।

১. স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন- ফল, সবজি, কম ফ্যাটযুক্ত দুধ জাতীয় খাবার, বাদাম এগুলো আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন।

২. ঘুম থেকে ওঠার পর কখনই সকালের খাবার খেতে ভুলবেন না। রাতের খাবার খাওয়ার পর প্রায় ১০ ঘণ্টা খালি পেটে থাকলে ওবেসিটি হানা দিতে পারে। তাই, সকালে ব্রেকফার্স্ট করতে ভুলবেন না। আর সকালের খাবারে রাখুন দুধ, মধু, বাদাম ও দানাশস্য জাতীয় খাবার।

৩. দুপুরের খাবারে সব সময়ন এক টুকরো ফল রাখুন। সেই সঙ্গে সয়া ও ওটমিল জাতীয় খাবার খেতে পারেন।

৪. শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত কসরত করে থাকলে ওয়ার্কআউটের আগে বাদাম, ডিম ও ফল খাবেন। ওয়ার্ক আউটের আধ ঘণ্টা পর ফল বা প্রোটিন শেক খান।

৫. বিভিন্ন কাজের চাপের জন্য অনেকেই দুপুরের খাবার খেতে ভুলে যান বা সময়মত খান না। ফলে রাতের খাবারে থাকে বিরাট আয়োজন, যা আপনার মুটিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। রাতে সব সময় স্যুপ, স্যালাড, লিন মিট ও দইজাতীয় খাবার খাওয়া উচিত বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

৬. পার্টিতে গেলে যে কোনো ধরনের ভাজাভুজি ও ক্রিমি খাবারের চেয়ে গ্রিল্ড ও স্মোকড খাবার খেতে পারেন। এতে শরীরের কম ক্ষতি হয়।

৭. বেশি করে পানি পান করুন। পানি কম পান করা  শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই শীতের সময়ও বেশি করে পানি পানের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

৮. স্ট্রেসের কারণে আপনার শরীর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সব সময় স্ট্রেসমুক্ত থাকতে চেষ্টা করুন।

৯. শরীর সুস্থ রাখতে ঘুম অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম  না হলে ওবেসিটির মতো সমস্যা ক্রমশ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

১০. ধূমপান থেকে দূরে থাকুন। অ্যালকোহলের হাতছানিতেও সাড়া দেবেন না। এগুলি ওবেসিটির আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সূত্র: জিনিউজ।