বাড়তি ওজন কমানোর মন্ত্র

স্বাস্থ্য রক্ষায় আমরা এখন অনেক সচেতন ও বিজ্ঞানমনস্ক। মেদবহুল বা স্থূলতা এখন তাই সামাজিক সমস্যার চেয়ে স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

মেদবহুলতা : অতিরিক্ত ওজন ও স্নেহ পদার্থের আধিক্যকে সাধারণভাবে মেদবহুলতা মনে করা হয়। এর পরিমাপ হলো বডি-মাস-ইনডেক্স বা সংক্ষেপে বিএমআই। বিএমআই ১৮.৫ থেকে ২২.৯-এর ভিতর থাকাটা বাঞ্ছনীয় বা আদর্শ। যাদের বিএমআই ২৭.৫-এর ওপরে তারা স্থূল/মেদবহুল। পক্ষান্তরে যাদের বিএমআই ২৩-২৭.৪-এর মধ্যে তারা অতিরিক্ত ওজনদার বা ওভারওয়েট। অন্যভাবে বলা যায়, উচ্চতা অনুযায়ী আদর্শ ওজনকে ১০০ শতাংশ ধরা হলে, যাদের ওজন আদর্শ ওজনের ১০১ থেকে ১১৯ শতাংশের মধ্যে তাদের রয়েছে ‘অতিরিক্ত ওজন’ এবং যাদের ১২০ শতাংশের ওপরে তারা স্থূল। সাধারণত মানবদেহে দুই ধরনের চর্বিজাতীয় পদার্থ জমা হয়। প্রথমত, অতিরিক্ত চর্বি নিতম্ব ও ঊরুদেশে জমা হয়। একে ‘গাইনয়েড ডিস্ট্রিবিউশন’ বলে। এতে শরীরের আকৃতি অনেকটা নাশপাতির মতো হয়। এটা সাধারণত নারীদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত স্নেহ পদার্থ পেটে জমা হয়, যা দেহকে আপেলের মতো আকৃতি দান করে। অর্থাৎ উদরদেশ স্ফীত হয়। একে ‘অ্যান্ড্রয়েড ডিস্ট্রিবিউশন’ বলে। এটা নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই দেখা যায় এবং  দেহে স্নেহ পদার্থের সঞ্চয় রোগের ঝুঁকি থাকে।

রোগের কারণ : মেদবহুলতার নানা কারণের মধ্যে প্রথমেই আসে আচরণগত ব্যাপার। সমীক্ষায় দেখা গেছে, মেদবহুল লোকেরা চিরাচরিতভাবেই (ক্যালরি খরচের তুলনায়) কম খাদ্য গ্রহণের কথা বলে থাকেন। এটা হতে পারে ছোটখাটো দু-একটি খাবার, যা ঘন ঘন খাওয়া হয়, অথচ আমল দেওয়া হয় না। কিছু হরমোনসংক্রান্ত ব্যক্তি বা এন্ডোক্রাইন ডিজিজ। যেমন : Cushing’s Disease, Polycystic Ovary Syndrome ইত্যাদিও মেদবহুলতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিছু কিছু ওষুধও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ওজন বাড়ায়, যেমন— ক্লোরপ্রোমাজিন জাতীয় ওষুধ (মাথা ঘোরানো বা বমির জন্য), এমিট্রিপটিলিন (দুশ্চিন্তা দূরকারক), ভ্যালপ্রোয়েট, কার্বামাজেপিন ইত্যাদি। গবেষণায় দেখা গেছে, তিনটি বিষয় ভবিষ্যতে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কাকে বাড়িয়ে তোলে। প্রথমত, বিপাকক্রিয়া কম হওয়া। দ্বিতীয়ত, উচ্চ শ্বাসনিক অনুপাত, অর্থাৎ অধিক শর্করাজাতীয় খাদ্যের বিপাক। তৃতীয়ত, ইনসুলিন হরমোন, যা ডায়াবেটিস হতে বাধা দেয়, তার কার্যক্ষমতা হ্রাস। মেদবহুলতার সঙ্গে যেসব রোগের ঝুঁকি রয়েছে তা হলো ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার, স্ট্রোক, পিত্তথলির রোগ, বাত ও চর্মরোগ, হারনিয়া, স্ট্রেস ইনকন্টিন্যান্স, বন্ধ্যত্ব, শ্বাসতন্ত্রের রোগ। চিকিৎসকের পরামর্শে ওজন কমানোর ওষুধ খেলে ফল পাওয়া যায়। বর্তমানে অরলিস্টেট উপাদানে তৈরি এক ধরনের ওষুধ চর্বি পরিপাক ও শোষণে বাধার সৃষ্টি করে চর্বিকে রক্তে শোষিত হতে দেয় না। এর পাশাপাশি এ ওষুধ কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। এ ছাড়াও লাইপোসাকশন ও লাইপোলাইসিস নামক সার্জারিও করা যায়।

ডা. দিদারুল হাসান, চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ, আল-রাজি হাসপাতাল, ঢাকা।




সকালে নিয়মিত লেবু পানি পানের উপকারিতা

আমরা সাধারণত খাবারের স্বাদ বাড়াতে এবং গরমের দিনে শরবত তৈরি করতে লেবু ব্যবহার করি। কিন্তু এর উপকারিতা এখানেই শেষ না।

লেবুতে আছে ভিটামিন সি এবং খনিজ উপাদান যা আমাদের হৃদযন্ত্রের ধড়ফড়ানি কমানো থেকে ফুসফুসকে ঠিকভাবে কাজ করতে পর্যন্ত সাহায্য করে লেবু। আর সকাল সকাল লেবু পানি পান করা আরও ভালো। নিয়মিত সকালে এক কাপ লেবু পানি পান করলে আপনাদের দেহ পাবে জাদুকরী উপকারিতা।

১. পাকা লেবুতে থাকে ইলেকট্রোলাইটস (যেমন পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি)। সকাল সকাল লেবু পানি আপনাকে হাইড্রেট করে, শরীরে যোগান দেয় এইসব প্রয়োজনীয় উপাদানের যা দেহের পানিশূন্যতা দূর করে।

২. লেবুপানি দেহের ত্বকের জন্য খুবই ভাল। লেবুর ভিটামিন সি উপাদান দেহের ত্বক ও টিস্যুর জন্য খুব জরুরি। তাই ত্বকের যে কোন সমস্যা রোধ করতে প্রতিদিন লেবুপানি পান করুন। আপনার ত্বককে করে তোলে সুন্দর ও পরিষ্কার।

৩. বুক জ্বলা পড়া দূর করে। যাদের এই সমস্যা আছে রোজ আধা কাপ পানির মাঝে ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন।

৪. অন্য যে কোন খাবারের চেয়ে লেবু পানির ব্যবহারে লিভার অনেক বেশি দেহের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরি করতে পারে।

৫. আপনার নার্ভাস সিস্টেমে দারুণ কাজ করে। সকাল সকাল লেবুর পটাশিয়াম আপনার বিষণ্ণতা ও উৎকণ্ঠা দূর করতে সহায়ক।

৬. উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।

৭. লেবু পানি শরীরের রক্তবাহী ধমনী ও শিরাগুলোকে পরিষ্কার রাখে।

৮. হাড় জয়েন্ট ও মাসল পেইন কমায় দ্রুত।

৯. সকাল সকাল চা বা কফি পান করে দিন শুরু না করে লেবু পানি পান করে দেখুন। নিজের এনার্জিতে নিজেই বিস্মিত হবেন! আপনার নার্ভাস সিস্টেমে দারুণ কাজ করে। সকাল সকাল লেবুর পটাশিয়াম আপনার বিষণ্ণতা ও উৎকণ্ঠা দূর করতে সহায়ক।

১০. গর্ভবতী নারীদের জন্য খুবই ভালো লেবু পানি। এটা শুধু নারীর শরীরই ভালো রাখে না। বরং গর্ভের শিশুর অনেক বেশি উপকার করে। লেবুর ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম শিশুর হাড়, মস্তিষ্ক ও দেহের কোষ গঠনে সহায়তা করে। মাকেও গর্ভকালে রোগ বালাই থেকে দূরে থাকে।

যেভাবে পান করবেন

সামান্য উষ্ণ পানি বা এই গরমের দিনে কক্ষ তাপমাত্রার পানিতেই মিশিয়ে নিন লেবুর রস। লাইম নয়, লেমনের রস। পাকা, অর্থাৎ পেকে হলুদ হয়ে যাওয়া লেবুর রস। নাহলে খালি পেটে অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে! আপনার ওজন যদি ১৫০ পাউন্ডের কম হয়, তাহলে অর্ধেক লেবুর রস এক গ্লাস পানিতে মেশাবেন। আর যদি ১৫০ পাউনডের বেশি হয়, তাহলে মেশাবেন পুরো একটা লেবুর রস।




মালয়েশিয়ায় স্বল্পব্যয়ে স্বাস্থ্য সেবার সুুযোগ

স্বল্প ব্যয়ে স্বাস্থ্যসেবার সুুযোগ পাওয়া যাবে মালয়েশিয়ায়। মাত্র ৩৭ হাজার ৩৯৫ টাকায় দুই রাত ও তিন দিন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে সেখানকার তিন হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষাসহ স্বাস্থ্যসেবায় সুযোগ মিলছে।

রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘মালয়েশিয়া  হেলথ কেয়ার এক্সপো-২০১৭’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে শনিবার আয়োজকরা এ কথা জানান। বেসরকারি বীমা কোম্পানি গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জিডি অ্যাসিস্ট এর আয়োজন করে। তিন দিনব্যাপী মেলা গত বৃহস্পতিবার শুরু হয়।

শনিবার ‘মালয়েশিয়া আগামীর স্বাস্থ্যসেবার গন্তব্য’ শীর্ষক সেমিনারে  বক্তারা সেখানকার স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। জিডি অ্যাসিস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মইনউদ্দিন আহমেদের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ইধাম জহুরি মোহাম্মদ ইউনুস, পার্কওয়ে হাসপাতালের হেড অব ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং অ্যান্থনি লিম, ম্যালয়েশিয়ার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন আইজেনের হেড অব হেলথ কেয়ার ট্যুরিজম আকিম আকান্দি প্রমুখ।

আয়োজকরা জানান, মালয়েশিয়ার কেপিজে হাসপাতাল,পান্তাই হাসপাতাল এবং প্রিন্সকোর্ট মেডিকেল সেন্টারে বাংলাদেশ থেকে কোনো রোগী চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে গেলে স্বল্পমূল্যের প্যাকেজ পাবেন। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই প্যাকেজ চালু থাকবে।




ডায়েট না করেই ওজন কমান

ডায়েট করুন, ওজন ঝরান। এমন কথা প্রায়শই শোনা যায়।

আর সেই কথা শুনে ফল খাওয়া শুরু করে দিয়েছেন আপনিও। ফল ছেড়ে অন্য কিছু খাওয়ার জন্য মনটা চাইলেও কিন্তু ওজন কমানোর চক্করে খাবারের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়েই থাকছেন। কিন্তু ডায়েট না করেও যে ওজন কমানো যায়। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনেই সেই সম্পর্কেই জানাবো বিস্তারিত।

বেশি বেশি করে সবুজ শাক সবজি আর ফল খান। যে সমস্ত ফল এবং সবজিতে ক্যালোরি কম থাকে, সেই সব ফল, সবজিই খান বেশি করে। সেই সঙ্গে লাঞ্চ আর ডিনারে রাখুন হালকা সুপ, স্যালাড। সুপ, স্যালাড আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবে। তাই এবার থেকে খিদে পেলেই ফল, সবজি মুখে পুরে নিন টপাটপ।

ভাল করে চিবিয়ে খান। যে কোনও খাবার না চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাসটা বাতিল করুন। খাবার ভাল করে চিবিয়ে খেলে, তা হজম হয়ে যায় জলদি। তবে আস্তে আস্তে চিবিয়ে খান। বেশি তাড়াহুড়ো করবেন না। মনে রাখবেন, খাবার যত বেশি চিবিয়ে খাবেন, তত তাড়াতাড়ি হজম হবে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা আস্তে আস্তে চিবিয়ে খান, তাদের ওজন বেশ খানিকটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাড়াহুড়োর চোটে খাবার চটপট গিলে ফেললে, তাঁদের ওজন বাড়তে শুরু করে।

লাঞ্চ এবং ডিনারের মাঝে খিদে পেলে বেশি ভারি কিছু না খেয়ে, প্রোটিন জাতীয় কিছু খান। খিদে পেলে স্ন্যাক্সে ডিম, আমন্ড কিংবা বিন্স রাখুন সঙ্গে।

সম্প্রতি এক গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যদি কোনও অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতেই হয়, তাহলে লাল প্লেটে ঢেলে তা খান। সাদা এবং নীল প্লেটের তুলনায় লাল রঙের প্লেটে কোনও খাবার ঢেলে খেলে তা ওজন না কমাক, কিন্তু সেখান থেকে ফ্যাটের পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়।




আপনার যে ৬ টি অনিয়মের ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কিডনি

আমাদের দেহের বিপাকক্রিয়ায় তৈরি সব বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে কিডনির মাধ্যমেই বের হয়ে যায়। কিডনি অকার্যকর হয়ে গেলে শরীরের ক্ষতিকর বর্জ্য রক্তে জমা হয়।

তখন বেঁচে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে কিডনি অকার্যকারিতার হার ক্রমাগত বাড়ছে। আর কিডনি রোগ চিকিৎসার জনবল ও অবকাঠামো প্রয়োজনের তুলনায় খুবই দুর্বল। তাই কিডনি সুস্থ রাখার দিকে নজর দিতে হবে এখনই। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন থেকে জেনে নিন যে ৬ টি অনিয়মের ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কিডনি-

১। মদ্যপান কিডনির জন্য সব চাইতে বেশি ক্ষতিকর। অ্যালকোহল কিডনি আমাদের দেহ থেকে সঠিক নিয়মে নিস্কাশন করতে পারে না। ফলে এটি কিডনির মধ্যে থেকেই কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে কিডনি নষ্ট করে দেয়। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক রোগে আক্তান্ত হন অনেকেই। এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। তাই মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন।

২। কিডনির সুরক্ষার জন্য সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পানি। আমরা অনেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করি না। এতে ক্ষতি হয় কিডনির। বাড়ি থেকে বাইরে বের হলেই অনেকের পানি পানের কথা মনে থাকে না। কিন্তু এতে কিডনির ওপর অনেক বেশি পরিমাণে চাপ পড়ে এবং কিডনি তার সাধারণ কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দিনে ৬-৮ গ্লাস পানি পান করা অত্যন্ত জরুরী। তাই সাথে সব সময় পানির বোতল রাখুন।

৩। অনেকের বাড়তি লবণ খাওয়ার বাজে অভ্যাস রয়েছে। খেতে বসে প্লেটে আলাদা করে লবণ নিয়ে খান অনেকেই। কিন্তু এই অনিয়মটির কারণে অনেক বেশি ক্ষতি হচ্ছে কিডনির। কিডনি অতিরিক্ত সোডিয়াম আমাদের দেহ থেকে নিষ্কাশন করতে পারে না। ফলে বাড়তি লবনের সোডিয়ামটুকু রয়ে যায় কিডনিতেই। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কিডনি। এমনকী কিডনি ড্যামেজ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

৪। অনেকেই সামান্য ব্যথা পেলেই ব্যথানাশক ঔষধ খেয়ে থাকেন। বিশেষ করে মাথাব্যথার কারণে অনেকেই এই কাজটি করে থাকেন। কিন্তু এটি কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর একটি কাজ। অতিরিক্ত মাত্রায় এই ধরণের ব্যথানাশক ঔষধ কিডনির কোষগুলোর মারাত্মক ক্ষতি করে। এতে পুরোপুরি ড্যামেজ হয়ে যায় কিডনি। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ভুলেও কোনো ব্যথানাশক ঔষধ খাবেন না।

৫। অনেকের একটি বড় বাজে অভ্যাস রয়েছে যা হলো মাংসের প্রতি আসক্ততা। অনেকেই শাকসবজি ও মাছ বাদ দিয়ে শুধু মাংসের উপর নির্ভরশীল থাকেন। এই অনিয়মটিও কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিডনির সুরক্ষার জন্য মাছ ও শাকসবজি অনেক বেশি জরুরী। অতিরিক্ত মাংস খাওয়া কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই খাদ্যাভ্যাসটা ঠিক করুন।

৬। ঘরের বাইরে বেরুলে অনেকেই এই কাজটি করে থাকেন। মনে করেন কিছুটা সময় প্রস্রাব আটকে রাখলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না। আপাত দৃষ্টিতে এর ক্ষতির মাত্রা ধরা না পরলেও এটি কিডনিকে নষ্ট করে দেয় খুব দ্রুত।




যেসব খাবারে ক্যানসার থাকবে দূরে

চাকরি, ঘর আবার চাকরি৷আর এরই ফাঁদে বন্দি হয়ে অনেক সময়ই আমরা নিজেদের শরীরের দিকে নজর দিতে পারি না৷ দিন দিন এই অবহেলাই শেষমেশ বিপদের দিকে টেনে নিয়ে যায় আমাদের৷ এরকমই এক বিপদের নাম ক্যানসার! তবে খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন যদি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন সবজি রাখা যায়, তাহলে খুব সহজেই এই মরণ রোগ থেকে দূরে রাখা যায় নিজেকে ৷

গাজর:
গাজর অনেক পুষ্টিগুণ ও ভিটামিনে ভরপুর খাদ্য। আর এই গাজরে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারটিন আছে যা বিভিন্ন ক্যান্সার যেমন ফুসফুস ক্যান্সার, শ্বাসনালী ক্যান্সার, পাকস্থলী ক্যান্সার, অন্ত্র ক্যান্সার এমনকী, স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে।

প্রতিদিন একটি গাজর বা এক গ্লাস গাজরের রস পান করলে এই সকল ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

রসুন:
অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যারা রসুন খান তাদের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে। এটি ক্যান্সারের জীবাণু প্রতিরোধ করে। এমনকি কিছু ক্যান্সারের জীবাণু ভেঙে ফেলে। তাই প্রতিদিন একটি খোয়া রসুন খান, এটি আপনার ভেতরের ক্যান্সারকে প্রতিরোধ করবে।

টমেটো:
টমেটো হচ্ছে “নিউট্রিশনাল পাওয়ারহাউজ” যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে। টমেটোতে লাইকোপেন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা হৃদরোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে থাকে। টমেটোতে ভিটামিন এ, সি, এবং ই থাকে যা কিনা ক্যান্সার বান্ধব মৌলের শত্রু। টমেটোর রস ক্ষতিকর ডিএনএ এর কোষ নষ্ট করে ফেলে। তাই সপ্তাহে ২ থেকে ৩ টি টমেটো খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত।

বাদাম:
বাদামে প্রচুর পুষ্টিগুণ থাকে। আর হৃদপিণ্ডের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ফ্যাট থাকে বাদামের মধ্যে। যদি আপনি ক্যান্সারের সাথে সম্পর্কযুক্ত ক্ষুধাহীনতায় ভুগে থাকেন অথবা ওজন কমাতে চান তাহলে বাদাম সবচেয়ে ভাল, কারণ অল্প পরিমাণ বাদাম আপনাকে অনেক পরিমাণ পুষ্টি প্রদানে সক্ষম। বাদামে সেলেনিয়াম নামক অ্যান্টি ক্যান্সার উপাদান বিদ্যমানের কারনে কোলন, ফুসফুস, যকৃত, এবং অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। তাই সকালে কিংবা বিকালের নাস্তায় চিনাবাদাম রাখতে পারেন। এ ছাড়াও বাদামের মাখনও আপনার শরীরকে ক্যান্সার থেকে দূরে রাখতে পারবে।

হলুদ:
আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি এক গবেষণায় বলা হয়েছে হলুদে ‘কারকিউমিন’ নামক উপাদান আছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে। এছাড়া এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দেহের টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দেহকে ক্যান্সার প্রতিরোধী করে তোলে। প্রতিদিন কাঁচা হলুদের দুধ, বা মাছ ও মাংসের মত তরকারিতে প্রয়োজন মত হলুদ ব্যবহার করতে পারেন। হলুদ ক্যান্সার কোষকে শরীরের ভাল কোষকে নষ্ট করতে বাধা দেয় এবং ক্যান্সার কোষকে নিস্তেজ করতে সাহায্য করে। সুতরাং নিয়মিত খাদ্যের মধ্যে হলুদ খেতে চেষ্টা করবেন।

গ্রিন টি:
গ্রিন টি বা সবুজ চা ক্যান্সার প্রতিরোধে অনেক উপকারি। এই সবুজ চায়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যাটচীন নামক উপাদান থাকে, যা বিভিন্ন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সক্ষম। গবেষণায় আরো দেখা গেছে গ্রিন টি টিউমার হওয়া প্রতিরোধ করে থাকে। সাধারণ চায়ের চেয়ে গ্রিন টি বেশি উপকারি। তাই চা না খেয়ে গ্রিন টি বা সবুজ চা খেতে পারেন।

তরমুজ:
ফলের মধ্যে তরমুজ অনেক উপকারি। এই তরমুজের এক টুকরাতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রতিদিনের চাহিদার ৮০% ভিটামিন সি, ৩০% ভিটামিন এ ও বিটা ক্যারোটিন বিদ্যমান থাকে। তাছাড়া তরমুজেও লাইকোপেন থাকে যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে। বর্তমান এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ফল ও শাকসবজিতে ফুসফুস, মুখের, খাদ্যনালীর এবং কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকির মুক্তি পাওয়া যাবে।

পেঁয়াজ:
নিয়মিত রসুন খেলে পাকস্থলীর ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। পুষ্টিবিদদের মতে পেঁয়াজেরও রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধক উপাদান যা টিউমারের বেড়ে ওঠাকে বিলম্বিত করে। সুতরাং রান্নার ক্ষেত্রে পিঁয়াজ অনেক উপকারি।




ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি!

এতকাল ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ বলা হতো না। চিকিত্সা গবেষকরা বর্তমানে বলছেন ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস কঠোরভাবে মেনে চললে, সঙ্গে যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন করলে ৭২ ঘণ্টায় ডায়াবেটিস কিওর বা ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি সম্ভব।

সম্প্রতি ঢাকায় ৭২ ঘণ্টার এক কর্মশালায় ৩৪ জন ডায়াবেটিক রোগী হলিস্টিক এ পদ্ধতি অনুসরণে সাফল্য পেয়েছেন। এদের মধ্যে ৬০ ভাগের বেশি রোগী ইনসুলিন ও ওষুধ ছাড়া বর্তমানে ভালো আছেন। বাকি ৪০ শতাংশ রোগী ওষুধের পরিমাণ ও ডোজ কমাতে পেরেছেন।

ডায়াবেটিস টাইপ ওয়ান অ্যান্ড টু কিওর ইন সেভেন্টি টু আওয়ার্স’ বইয়ের আলোকে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। হলিস্টিক হল আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রাচীন প্রাকৃতিক পদ্ধতির সমন্বয়।

মানসিক চাপ বা স্ট্রেস, সঠিক খাদ্য গ্রহণ না করা, ব্যায়ামের অভাব ও বংশগত কারণ ডায়াবেটিস হওয়ার প্রধান কারণ। কর্মশালায় ব্যক্তিবিশেষে সঠিক ক্যালরি বজায় রেখে খাদ্যাভ্যাস কেমন হবে এবং যোগব্যায়াম ও মেডিটেশনের মাধ্যমে কীভাবে বডি ও মাইন্ডকে নিজের কন্ট্রোলে রাখা যায় সেই টেকনিক শেখানো হয়েছে। সর্বোপরি ডায়াবেটিস পরাস্ত করা ডায়াবেটিক রোগীর সদিচ্ছা ও দৃঢ়তার ওপরও নির্ভর হবে।

অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস, হলিস্টিক হেলথ কেয়ার সেন্টার
পান্থপথ, ঢাকা। মোবাইল : ০১৯২১৮৪৯৬৯৯




প্রতিদিন পান খেলে কী হয় জানুন

অনেকেই খেয়ে উঠে পান মুখে পুরে ফেলেন। এতে নাকি তৃপ্তি মেলে ১০০ শতাংশ।

কিন্তু জানেন কী? এই পান শুধু তৃপ্তিই দেয় না, বরং স্বাস্থ্যের পক্ষেও বেশ উপকারি এই পান।

১) পান পাচন শক্তি বাড়ায়।

২) গলার সমস্যায় পান খুব উপকারী। আওয়াজ পরিস্কার করতে পান সাহায্য করে।

৩) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পান সাহায্য করে।

৪) পান খেলে মুখের স্বাদ ফিরে আসে।

৫) হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে পান।

৬) পান খেলে পেট পরিষ্কার হয়।

৭) সর্দি কাশি হলে পানের রসের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৮) পানের সাথে গোলমরিচ, লবঙ্গ মিশিয়ে খেলে কাশি কমে যায়।

৯) মুখে ঘা হলে পানের মধ্যে কর্পুর দিয়ে চিবিয়ে খেয়ে বার বার পিক ফেললে লাভ পাওয়া যায়।

১০) পান খাওয়ার ফলে মুখে যে লালার সৃষ্টি হয় তা পাচন শক্তি বৃদ্ধি করে।

তবে পান খাওয়ার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন-
১) পানের সঙ্গে জর্দা মিশিয়ে খেলে পানের সব গুণ নষ্ট হয়ে যায়।

২) সব সময় খাওয়ার পরে পান খাওয়া উচিত। খালি পেটে পান খাওয়া উচিত নয়।

৩) তবে বেশি পান খেলে মুখ ও চোখের রোগ হতে পারে। পানের সঙ্গে বেশি সুপারি খাবেন না।

৪) পানের সঙ্গে বেশি খয়ের খেলে ফুসফুসে ইনফেকশান হয়।

৫) পানে বেশিমাত্রায় চুন খেলে দাঁতের ক্ষতি হয়।

৬) যাদের জ্বর এবং দাঁতের সমস্যায় ভোগেন তাদের পান খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

৭) পান উষ্ণ এবং পিত্তকারক। শিশুরা এবং অন্তঃস্বত্ত্বা মহিলাদের পান খাওয়া উচিত নয়।




পাকস্থলীর ক্যান্সার রোধে মহৌষধ টমেটো

সম্প্রতি সেলুলার ফিজিওলজি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে , পাকস্থলীর ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে টমেটো। টমেটো হার্টের সমস্যা, রক্ত পরিষ্কার রাখা, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা, দৃষ্টিশক্তি উন্নত করার মতো গুণের কথা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন গবেষকরা। কিন্তু সরাসরি ক্যান্সার উপশমে টমেটোর গুণের কথা কখনই বলেননি তারা। এখন টমেটোর রস পাকস্থলীতে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ও ছড়িয়ে পড়া রুখে দিতে পারে বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা।

ইতালির অঙ্কোলজি রিসার্চ সেন্টার অব মার্কোগিলানোর গবেষক ড্যানিয়েলা ব্যারন বলেন, টমেটোতে থাকা লাইকোপেনের অ্যান্টিটিউমরাল গুণ রয়েছে। তবে সেটাই একমাত্র নয়। টমেটোকে ক্যান্সার রোধের সম্পূর্ণ ওষুধ হিসেবে দেখা উচিত। সান মারজানো ও করবারিনো টমেটোর এই গুণ সবচেয়ে বেশি বলে দাবি গবেষকদের।

ইতালির সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যান্তনিও জিওরদানোর মতে, টমেটো এতটাই উপকারী যে, ক্যান্সারের ডাক্তারি চিকিত্সার পাশাপাশি টমেটরে রস চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। এই মুহূর্তে বিশ্বে যেসব ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে তার মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে পাকস্থলীর ক্যান্সার। জেনেটিক ফ্যাক্টর, হেলিকোব্যাকটর পাইলোরি ইনফেকশন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত নুন ও স্মোকড খাবার খাওয়ার অভ্যাসের কারণে পাকস্থলীর ক্যান্সার হতে পারে। ভূমধ্যসাগরীয় ডায়েটের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে টমেটো। তাই টমেটো সম্পর্কে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ক্যান্সারের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।




প্লাস্টিকের পণ্য যেসব ভয়াবহ রোগের কারণ

অনলাইন ডেস্ক : প্লাস্টিকের পণ্য তৈরি করতে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, নিকেল, ইথাইল বেনজিন, ইথিলিন অক্সাইড ইত্যাদি রাসায়নিক দ্রব্য দ্বারাই প্রস্তুত এই প্লাস্টিকের পণ্য। তাই নিত্যদিনের কাজে প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহার করলে আপনি যেসব রোগের কবলে পরতে পারেন, তা হলো-

১. স্তন ক্যান্সার, প্রোস্ট্রেট ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সারের মতো মরণ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন আপনি এর ব্যবহারের ফলে।
২. হরমোনজনিত নানা অস্বাভাবিকতা।
৩. সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা কমে যায়।
৪. হাইপার অ্যাকটিভ থেকে শুরু করে অটিজমের মতো রোগের কারণ হতে পারে প্লাস্টিকের পণ্য।
৫. হৃদরোগের মতো সংক্রামণের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করেত প্লাস্টিকের ব্যবহার বর্জন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।




চুল পড়া ঠেকাবে পেয়ারা পাতা

স্বাস্থ্য ডেস্ক : চুল পড়া সমস্যায় ভুগছেন না এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। অনেকের আবার চুল পড়া যেন নিত্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারো কারো তো চুল পড়তে পড়তে একপ্রকার টাকই হয়ে গেছে। এ থেকে উত্তরণে আমরা কত কিছুই না ব্যবহার করে থাকি।

অনেকেই ঝরে পড়া চুল নতুন করে গজানোর আশায় বিভিন্ন কোম্পানির উর্ভরজাত পণ্য বা ওষুধ ব্যবহার করেন। চুল না থাকা সত্ত্বেও মাথার পরিপূর্ণ সৌন্দর্য ধরে রাখতে কেউ কেউ নকল চুলও ব্যবহার করেন। যাহোক, চুল পড়া ঠেকাতে পেয়ারা পাতা বেশ কার্যকরী বলে একদল বিজ্ঞানীর মত। চুল ধরা রোধে পেয়ারা পাতার ব্যবহার সবচেয়ে কার্যকরী এবং প্রাকৃতিক উপায় বলে বর্ণনা করেছেন তারা।

গবেষকদের দাবি, পেয়ারা পাতা নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মাথার চুলের ঝরে পড়া রোধ হয় এবং চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পেয়ারা পাতায় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন বি যা স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য খুবই উপকারী।

তাদের আরো দাবি, পেয়ারা পাতা অবশ্যই মাথার চুল ঝরে পড়া রোধ করবে। সেইসঙ্গে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে। এটি চুলের সংযুক্তিস্থল অর্থাৎ গ্রন্থিকোষ ও শিখড়কে অনেক শক্ত করে।

ব্যবহারের বিধিমালা :

কয়েকটি পেয়ারা পাতা পরিষ্কার পানিতে ২০ মিনিট সিদ্ধ করার পর এর সঙ্গে ঠাণ্ডা পানির মিশ্রণ দিতে হবে। এরপর তা মাথার খুলিতে দিয়ে এক ঘণ্টা পর মাথা পরিষ্কার করতে হবে। এই পদ্ধতিতে ভালো ফল পাওয়ার জন্য রাতে ঘুমানোর আগে করাই শ্রেয়।




সুন্দর ঝকঝকে ও সুস্থ দাঁত রাখতে করণীয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক : সুন্দর হাসি দিয়ে বিশ্ব জয় করা যায়-এমন একটি কথা প্রচলিত আছে। আসলেই তাই। হাসি দিয়ে মন ও বিশ্ব জয় সম্ভব। তবে সুন্দর হাসির জন্য চাই সুস্থ ও উজ্জ্বল চকচকে দাঁত। তা না হলে হাসি দেয়াই যে কষ্টকর হয়ে উঠে।  তাই সুন্দর ও সুস্থ দাঁতের জন্য করণীয় নিয়ে অালোচনা করা হলো :

পুষ্টিকর খাবার : দাঁতের যত্নে খুবই কার্যকর স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার। এক্ষেত্রে সবুজ শাকসবজি বেশি খেতে হবে। উদ্ভিজ্জ খাবারের ওপর বেশি জোর দিতে হবে। মাছ-মাংস পরিমিত হারে খেতে হবে।

নিয়ম মতো খান: ঘনঘন খাবার খাওয়া দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। ঘনঘন খেলে দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে যায়। এসব দাঁতের জন্য খুবই ক্ষতিকর। খাওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন খাদ্যে শর্করার উপাদান কম থাকে। কারণ শর্করা মাড়ি ও দাঁতের কূপের  ক্ষতি করে।

শর্করা জাতীয় খাদ্য পরিহার করুন: দাঁতের যত্নে সবসময় সীমিত হারে শর্করা ও সোডা জাতীয় খাবার খাওয়া উচিৎ। আর একেবারে যদি লোভ সামলাতে না পারেন তাহলে তা খাওয়ার পরই ব্রাশ করুন। তবে এ সুযোগটা সব জায়গায় হয় না। তাই পারতপক্ষে একে এড়িয়ে চলাই উত্তম।

শক্ত ও আঠালো খাবার পরিহার করুন:  সবসময় শক্ত ও আঠালো খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে ক্যান্ডি, গাম, বরফ, পপকর্ন, পিজ্জা ক্রস্টস ও চিনাবাদাম না খাওয়ায় ভালো। কারণ এগুলো দাঁত কূপের সঙ্গে মাড়িরও ক্ষতি করে।